১৯/৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৮২ - ই’তিকাফের নিয়ত, কাযা ও শাওয়ালের ই’তিকাফ
ই‘তিকাফ কাযা করা
ই’তিকাফের নিয়ত, শাওয়ালে কাযা ও নারী ই’তিকাফকারীর করণীয়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৬৮২
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৬৮২
حَدَّثَنِي زِيَاد عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلَمَّا انْصَرَفَ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهِ وَجَدَ أَخْبِيَةً خِبَاءَ عَائِشَةَ وَخِبَاءَ حَفْصَةَ وَخِبَاءَ زَيْنَبَ فَلَمَّا رَآهَا سَأَلَ عَنْهَا فَقِيلَ لَهُ هَذَا خِبَاءُ عَائِشَةَ وَحَفْصَةَوَزَيْنَبَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آلْبِرَّ تَقُولُونَ بِهِنَّ ثُمَّ انْصَرَفَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ حَتَّى اعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ১১২৯و سُئِلَ مَالِك عَنْ رَجُلٍ دَخَلَ الْمَسْجِدَ لِعُكُوفٍ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَأَقَامَ يَوْمًا أَوْ يَوْمَيْنِ ثُمَّ مَرِضَ فَخَرَجَ مِنْ الْمَسْجِدِ أَيَجِبُ عَلَيْهِ أَنْ يَعْتَكِفَ مَا بَقِيَ مِنْ الْعَشْرِ إِذَا صَحَّ أَمْ لَا يَجِبُ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَفِي أَيِّ شَهْرٍ يَعْتَكِفُ إِنْ وَجَبَ عَلَيْهِ ذَلِكَ فَقَالَ مَالِك يَقْضِي مَا وَجَبَ عَلَيْهِ مِنْ عُكُوفٍ إِذَا صَحَّ فِي رَمَضَانَ أَوْ غَيْرِهِ وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ الْعُكُوفَ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ رَجَعَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ حَتَّى إِذَا ذَهَبَ رَمَضَانُ اعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ ১১৩وَالْمُتَطَوِّعُ فِي الْاعْتِكَافِ فِي رَمَضَانَ وَالَّذِي عَلَيْهِ الْاعْتِكَافُ أَمْرُهُمَا وَاحِدٌ فِيمَا يَحِلُّ لَهُمَا وَيَحْرُمُ عَلَيْهِمَا وَلَمْ يَبْلُغْنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ اعْتِكَافُهُ إِلَّا تَطَوُّعًا.১১৩১قَالَ مَالِك فِي الْمَرْأَةِ إِنَّهَا إِذَا اعْتَكَفَتْ ثُمَّ حَاضَتْ فِي اعْتِكَافِهَا إِنَّهَا تَرْجِعُ إِلَى بَيْتِهَا فَإِذَا طَهُرَتْ رَجَعَتْ إِلَى الْمَسْجِدِ أَيَّةَ سَاعَةٍ طَهُرَتْ ثُمَّ تَبْنِي عَلَى مَا مَضَى مِنَ اعْتِكَافِهَا وَمِثْلُ ذَلِكَ الْمَرْأَةُ يَجِبُ عَلَيْهَا صِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ فَتَحِيضُ ثُمَّ تَطْهُرُ فَتَبْنِي عَلَى مَا مَضَى مِنْ صِيَامِهَا وَلَا تُؤَخِّرُ ذَلِكَ.
আমরাহ্ বিন্ত আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতিকাফ করতে মনস্থ করলেন। অতঃপর যে স্থানে তিনি ইতিকাফ করবার মনস্থ করেছিলেন সে স্থানে গমন করলে (সেখানে) কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন। (এটা) আয়েশা (রাঃ)-এর তাঁবু, এটা হাফসা (রাঃ)-এর তাঁবু এবং এটা যায়নব (রাঃ)-এর তাঁবু। তিনি তাঁবু সম্পর্কে জেনে তাঁদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁকে বলা হল, এটা আয়েশা (রাঃ), এটা হাফসা (রাঃ) এবং যায়নব (রাঃ)-এর তাঁবু। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এই সকলের দ্বারা তাঁরা কি পুণ্যের নিয়ত করিয়াছেন? অতঃপর তিনি ফিরে গেলেন এবং ইতিকাফ করলেন না। পরে তিনি শাওয়াল মাসের দশ দিন ইতিকাফ করলেন। (বুখারী ২০৩৪, মুসলিম ১১৭৩)যিয়াদ (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ)-কে প্রশ্ন করা হল সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে রমজানের শেষের দশদিনে ইতিকাফের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করেছে, অতঃপর একদিন অথবা দুইদিন অবস্থান করার পর পীড়িত হয়ে পড়ে এবং মসজিদ হতে বের হয়, সে সুস্থ হলে অবশিষ্ট দিনের ইতিকাফ করা তার উপর ওয়াজিব হবে কি? কিংবা উহার কাযা তার উপর আদৌ ওয়াজিব হবে না? ইহা তার উপর ওয়াজিব হলে কোন মাসে সে ইতিকাফ করবে?উত্তরে মালিক (রহঃ) বলেন, সুস্থ হয়ে গেলে রমজান বা পর-রমজানে তার উপর যে ইতিকাফ ওয়াজিব হয়েছে তা কাযা করবে। আমার নিকট খবর পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার রমজানে ইতিকাফ করার মনস্থ করলেন। পরে তিনি মত পাল্টালেন এবং ইতিকাফ করলেন না। অতঃপর রমজান অতিবাহিত হলে শাওয়াল মাসে দশ দিন ইতিকাফ করলেন। নফল ইতিকাফকারী ও যার উপর ইতিকাফ ওয়াজিব হালাল ও হারামের বিষয়ে দু’জনের হুকুম এক অর্থাৎ যা হালাল দু’জনের জন্য হালাল এবং যা হারাম দু’জনের জন্য হারাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইতিকাফ ছিল নফল ইতিকাফ এইরূপই আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে।মালিক (রহঃ) বলেন, যে স্ত্রীলোক ইতিকাফ করে এবং ইতিকাফ থাকতে তার হায়েয (ঋতুস্রাব) হয়, সে স্ত্রীলোক নিজ ঘরে ফিরে যাবে। তারপর যখন পাক হবে সে মুহূর্তে মসজিদে উপস্থিত হবে। এতে বিলম্ব করবে না। অতঃপর তার ইতিকাফের যে কয়দিন পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে উহা বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলো ইতিকাফ করবে। মালিক (রহঃ) বলেন, অনুরূপ যে স্ত্রীলোকের উপর একাধারে দুই মাসের রোযা ওয়াজিব তার যদি ঋতুস্রাব হয়, তৎপর পাক হয়, তবে সে যে রোযা পূর্বে রেখেছিল তার উপর ভিত্তি করে বাকি রোযা রাখবে। উহাতে বিলম্ব করবে না।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৬৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ই’তিকাফ সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ই’তিকাফ করতে চাইলে নির্ধারিত স্থানে কয়েকটি তাঁবু দেখেন। তাঁকে বলা হয়, এগুলো আয়েশা, হাফসা ও যায়নব (রা)-এর তাঁবু। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, এর দ্বারা তারা কি নেকির নিয়ত করেছে? এরপর তিনি সেই সময় ই’তিকাফ করেননি; পরে শাওয়াল মাসে দশ দিন ই’তিকাফ করেন। বর্ণনার পরের অংশে ইমাম মালিক (র) অসুস্থ হয়ে ই’তিকাফ ভেঙে গেলে সুস্থ হওয়ার পর বাকি ই’তিকাফ কাযা করার কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নফল ই’তিকাফকারী ও যার উপর ই’তিকাফ ওয়াজিব—হালাল-হারামের দিক থেকে তাদের বিষয় একই। নারীর ই’তিকাফে হায়েয হলে সে ঘরে যাবে, পাক হলে দেরি না করে মসজিদে ফিরে বাকি অংশ পূর্ণ করবে। তাই এই হাদিসে ই’তিকাফের নিয়ত, শৃঙ্খলা, কাযা এবং ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ই’তিকাফে নিয়ত ও উদ্দেশ্যকে পরিষ্কার রাখা দরকার।
- ই’তিকাফ অসম্পূর্ণ হলে সুস্থতার পর তা পূরণ করার বিষয়টি বর্ণনায় এসেছে।
- নারী ই’তিকাফকারী হায়েয হলে ঘরে ফিরবে, পাক হলে বিলম্ব না করে বাকি ই’তিকাফ করবে।
- নফল ও ওয়াজিব ই’তিকাফে হালাল-হারামের সীমা একই হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
