২০/১০. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭২৮ - তালবিয়ার আওয়াজের আদব
উচ্চস্বরে লাব্বায়কা বলা
তালবিয়া পাঠের আদব: কোথায় কেমন আওয়াজে পড়বেন
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৭২৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৭২৮
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ أَهْلَ الْعِلْمِ يَقُولُونَ لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ رَفْعُ الصَّوْتِ بِالتَّلْبِيَةِ لِتُسْمِعْ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا قَالَ مَالِك لَا يَرْفَعُ الْمُحْرِمُ صَوْتَهُ بِالْإِهْلَالِ فِي مَسَاجِدِ الْجَمَاعَاتِ لِيُسْمِعْ نَفْسَهُ وَمَنْ يَلِيهِ إِلَّا فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ مِنًى فَإِنَّهُ يَرْفَعُ صَوْتَهُ فِيهِمَا ১২০২-قَالَ مَالِك سَمِعْتُ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّ التَّلْبِيَةَ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ وَعَلَى كُلِّ شَرَفٍ مِنْ الْأَرْضِ.
মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিজ্ঞ আলিমগণের নিকট শুনেছি, তাঁরা বলতেন, উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করা মহিলাদের বেলায় প্রযোজ্য নয়। মহিলাগণ আস্তে পড়িবেন যেন কেবল নিজেরাই আওয়াজ শুনতে পান। মালিক (রহঃ) বলেন, মসজিদের ভিতরে তালবিয়ার আওয়াজ খুব বেশি উঁচু করবে না। বরং এতটুকু শব্দে পড়িবে যেন নিজে এবং পাশের লোকটি কেবল শুনতে পায়। তবে মিনা মসজিদ এবং মসজিদুল হারামে উচ্চৈঃস্বরে ‘লাব্বায়কা’ পাঠ করবে। মালিক (রহঃ) বলেন, কতিপয় আলিমের নিকট শুনেছি, প্রত্যেক নামাজের পর এবং চড়াই উতরাই-এর সময় লাব্বায়কা পাঠ করা মুস্তাহাব।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় তালবিয়া পাঠের আওয়াজ ও সময় নিয়ে আলিমদের মত তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, নারীদের জন্য উচ্চস্বরে তালবিয়া প্রযোজ্য নয়; তারা এমনভাবে পড়বেন যাতে নিজেরা শুনতে পান। ইমাম মালিক (র) বলেন, সাধারণ জামাআতের মসজিদে তালবিয়ার আওয়াজ খুব বেশি উঁচু করা হবে না; এমনভাবে পড়া হবে, যেন নিজে ও পাশের লোক শুনতে পারে। তবে মসজিদুল হারাম ও মিনা মসজিদে উচ্চস্বরে লাব্বায়কা পাঠের কথা এসেছে। তিনি আরও বলেন, কিছু আলিম প্রত্যেক নামাযের পর এবং চড়াই-উতরাইয়ের সময় তালবিয়া পাঠকে মুস্তাহাব মনে করতেন। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, ইবাদতের যিকরেও জায়গা, অবস্থা ও আদব মানা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীরা তালবিয়া এমনভাবে পড়বেন, যাতে নিজেরা শুনতে পান।
- সাধারণ মসজিদে তালবিয়ার আওয়াজ সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
- মসজিদুল হারাম ও মিনা মসজিদে উচ্চস্বরে লাব্বায়কা পাঠের কথা এসেছে।
- নামাযের পর ও পথের উঁচু-নিচু জায়গায় তালবিয়া পাঠ মুস্তাহাব বলা হয়েছে।
