২০/১৫. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭৪৭ - হাদয়ী, ইহরাম ও বিদআত থেকে সতর্কতা
হাদ্য়ী-র গলায় কিছু লটকালেই কেউ মুহরিম হয়ে যায় না
হাদয়ীর কিলাদা ও ইহরাম: ভুল ধারণা থেকে সতর্কতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৭৪৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৭৪৭
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْهُدَيْرِ أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا مُتَجَرِّدًا بِالْعِرَاقِ فَسَأَلَ النَّاسَ عَنْهُ فَقَالُوا إِنَّهُ أَمَرَ بِهَدْيِهِ أَنْ يُقَلَّدَ فَلِذَلِكَ تَجَرَّدَ قَالَ رَبِيعَةُ فَلَقِيتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ الزُّبَيْرِ فَذَكَرْتُ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ بِدْعَةٌ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ১২৩২-و سُئِلَ مَالِك عَمَّنْ خَرَجَ بِهَدْيٍ لِنَفْسِهِ فَأَشْعَرَهُ وَقَلَّدَهُ بِذِي الْحُلَيْفَةِ وَلَمْ يُحْرِمْ هُوَ حَتَّى جَاءَ الْجُحْفَةَ قَالَ لَا أُحِبُّ ذَلِكَ وَلَمْ يُصِبْ مَنْ فَعَلَهُ وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُقَلِّدَ الْهَدْيَ وَلَا يُشْعِرَهُ إِلَّا عِنْدَ الْإِهْلَالِ إِلَّا رَجُلٌ لَا يُرِيدُ الْحَجَّ فَيَبْعَثُ بِهِ وَيُقِيمُ فِي أَهْلِهِ ১২৩৩-و سُئِلَ مَالِك هَلْ يَخْرُجُ بِالْهَدْيِ غَيْرُ مُحْرِمٍ فَقَالَ نَعَمْ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ১২৩৪-و سُئِلَ أَيْضًا عَمَّا اخْتَلَفَ فِيهِ النَّاسُ مِنْ الْإِحْرَامِ لِتَقْلِيدِ الْهَدْيِ مِمَّنْ لَا يُرِيدُ الْحَجَّ وَلَا الْعُمْرَةَ فَقَالَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا الَّذِي نَأْخُذُ بِهِ فِي ذَلِكَ قَوْلُ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ بِهَدْيِهِ ثُمَّ أَقَامَ فَلَمْ يَحْرُمْ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِمَّا أَحَلَّهُ اللهُ لَهُ حَتَّى نُحِرَ هَدْيُهُ.
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
রবী’আ ইবনু আবদুল্লাহ্ ইব্নু হুদায়র (রহঃ) একবার ইরাকে এক ব্যক্তিকে সেলাইবিহীন কাপড় পরিহিত দেখে জানতে পারলেন যে, এই ব্যক্তি কুরবানীর উদ্দেশ্যে মক্কায় প্রেরিত পশুর গলায় হাড় লটকিয়ে দিয়েছে। তাই সে সেলাইযুক্ত কাপড় খুলে ফেলেছে। রবী’আ বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে এই ঘটনা তাঁকে জানালে তিনি বললেন, কা’বার মালিকের কসম, উহা বিদআত (উহা ঠিক নয়)।ইয়হইয়া (রহঃ) বলেন, মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল এক ব্যক্তি নিজে কুরবানীর পশু নিয়ে ঘর হতে বের হল, নিজে তা ইশ্’আর [১] করে যুল-হুলায়ফায় উহার গলায় হাড় লটকাল; কিন্তু জুহফায় গিয়ে সে ইহরাম বাঁধল। ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কি বলেন, তিনি বললেন, তার জন্য এটা ঠিক হয়নি। নিজে ইহরাম বেঁধে ইশ্’আর ও তাকলীদ করা তার উচিত ছিল। যে ব্যক্তি পশুর সাথে নিজে যেতে না চায় বরং বাড়িতে থাকতে চায়, সে ইহরাম না বেঁধেই তা পাঠিয়ে দেবে।মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল ইহরাম না বেঁধে কেউ হাদয়ী বা মক্কায় প্রেরিতব্য কুরবানী পশু নিয়ে বের হতে পারবে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এতে দোষের কিছু নেই। মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল কুরবানীর পশুর গলায় কিলাদা বা হাড় পরিয়ে মক্কায় পাঠিয়ে দিলে ঐ পশুর মালিক কি মুহরিম গণ্য হবে এই বিষয়ে আলিমগণের মতপার্থক্য রয়েছে। আপনার কি মত? তিনি বললেন, এই বিষয়ে আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি গ্রহণ করে থাকি। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কায় কুরবানীর পশু প্রেরণ করেছিলেন, কিন্তু নিজে যাননি অথচ কোন জিনিস তাঁর জন্য হারাম হয়নি। আল্লাহ তায়ালা তাঁর জন্য হালাল করেছেন।
[১] উটের কোহানের চামড়া কেটে উহা রক্তাক্ত করার নাম ইশ্’আর। ইহা নিদর্শন হিসেবে করা হত। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দেখা যায়, এক ব্যক্তি কুরবানীর পশুর গলায় হাড় বা কিলাদা পরানোর কারণে সেলাইযুক্ত কাপড় খুলে ফেলেছিল। রবীআ (র) বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা)-কে জানালে তিনি একে বিদআত বলেন। এরপর ইমাম মালিক (র)-এর বক্তব্যে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। কেউ যদি নিজে পশু নিয়ে হজ্জে যায়, তাহলে ইহরামের সময় হাদয়ীকে চিহ্নিত করা ও কিলাদা পরানো উচিত। কিন্তু যে ব্যক্তি নিজে হজ্জ বা উমরায় যেতে চায় না, সে ইহরাম না বেঁধেই হাদয়ী পাঠাতে পারে। ইমাম মালিক (র) এ বিষয়ে আয়েশা (রা)-এর হাদিস গ্রহণ করেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা) হাদয়ী পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর জন্য হালাল জিনিস হারাম হয়নি। তাই হাদয়ী, ইহরাম ও বিদআত সম্পর্কে এই বর্ণনা ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদয়ীর গলায় কিলাদা পরানো মাত্র মালিক মুহরিম হয়ে যায় না।
- নিজে হজ্জে গেলে ইহরামের সঙ্গে হাদয়ী চিহ্নিত করার কথা এসেছে।
- ভুল ধারণা থেকে নতুন আমল বানানো থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
