২০/২৭. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭৮১ - ইহরামে শিকার ও কাফফারার বিধান

শিকার করার প্রতিফল

ইহরামে শিকার নিষেধ ও কাফফারার সঠিক শিক্ষা

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৭৮১

قَالَ مَالِك قَالَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءُ مِثْلِ مَا قَتَلَ مِنْ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَامًا لِيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ ﴿ قَالَ مَالِك فَالَّذِي يَصِيدُ الصَّيْدَ وَهُوَ حَلَالٌ ثُمَّ يَقْتُلُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ بِمَنْزِلَةِ الَّذِي يَبْتَاعُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ ثُمَّ يَقْتُلُهُ وَقَدْ نَهَى اللهُ عَنْ قَتْلِهِ فَعَلَيْهِ جَزَاؤُهُ - ১২৯৯-وَالْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ مَنْ أَصَابَ الصَّيْدَ وَهُوَ مُحْرِمٌ حُكِمَ عَلَيْهِ بِالْجَزَاء.قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الَّذِي يَقْتُلُ الصَّيْدَ فَيُحْكَمُ عَلَيْهِ فِيهِ أَنْ يُقَوَّمَ الصَّيْدُ الَّذِي أَصَابَ فَيُنْظَرَ كَمْ ثَمَنُهُ مِنْ الطَّعَامِ فَيُطْعِمَ كُلَّ مِسْكِينٍ مُدًّا أَوْ يَصُومَ مَكَانَ كُلِّ مُدٍّ يَوْمًا وَيُنْظَرَ كَمْ عِدَّةُ الْمَسَاكِينِ فَإِنْ كَانُوا عَشَرَةً صَامَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ وَإِنْ كَانُوا عِشْرِينَ مِسْكِينًا صَامَ عِشْرِينَ يَوْمًا عَدَدَهُمْ مَا كَانُوا وَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ مَالِك سَمِعْتُ أَنَّهُ يُحْكَمُ عَلَى مَنْ قَتَلَ الصَّيْدَ فِي الْحَرَمِ وَهُوَ حَلَالٌ بِمِثْلِ مَا يُحْكَمُ بِهِ عَلَى الْمُحْرِمِ الَّذِي يَقْتُلُ الصَّيْدَ فِي الْحَرَمِ وَهُوَ مُحْرِمٌ.

মালিক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেন হে মু’মিনগণ, ইহরাম অবস্থায় তোমরা কোন প্রাণী শিকার করো না। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে শিকার করে তবে যা শিকার করল তদ্রূপ একটি গৃহপালিত পশু তাকে বদলা দিতে হবে। এর ফয়সালা তোমাদের মধ্যে দুজন তাকওয়ার অধিকারী লোক করে দেবে। এইরূপ ধার্যকৃত পশু কুরবানী হিসেবে মক্কায় প্রেরিত হবে অথবা উহার কাফফারা হবে মিসকীনকে আহার্য দান করা বা সমপরিমাণ রোজা রাখা যাতে সে স্বীয় কৃতকর্মের ফল ভোগ করতে পারে।মালিক (রহঃ) বলেন, কোন ইহরামবিহীন ব্যক্তি যদি কোন প্রাণী শিকার করে পরে ইহরাম বেঁধে উক্ত শিকার বধ করে তবে সে ঐ মুহরিম ব্যক্তির মত, যে ব্যক্তি শিকারকৃত প্রাণী খরিদ করে বধ করে। আল্লাহ্ উহা হতে নিষেধ করেছেন, সুতরাং উক্ত ব্যক্তির উপরও উহার বিনিময় প্রদান ওয়াজিব হবে। মালিক (রহঃ) বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত হল, মুহরিম একা বা দলবদ্ধভাবে যেভাবেই শিকার করুন না কেন তার উপর বদলা দেওয়ার হুকুম প্রযোজ্য হবে।মালিক (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে সর্বোত্তম যে কথা আমি শুনেছি তা হল শিকারকৃত প্রাণীটির মূল্য হিসেব করে দেখা হবে যে, ঐ মূল্যের বিনিময়ে কত পরিমাণ শস্য বাজারে পাওয়া যায়। পরে এক এক ‘মুদ’ পরিমাণ শস্য এক একজন মিসকীনদের দিয়ে দেওয়া হবে বা এক এক মুদ হিসেবে যত পরিমাণ মুদ হবে তত সংখ্যক রোজা রাখবে। মিসকীনদের সংখ্যা হিসেবে তা হবে। দশজন মিসকীন হলে দশ রোজা, বিশজন হলে বিশ রোজা, এইভাবে সংখ্যা ষাটের অধিকও যদি হয়ে যায় তবে তত পরিমাণ রোজা তাকে রাখতে হবে। মালিক (রহঃ) বলেন, আমি শুনেছি যে, ইহরামবিহীন ব্যক্তি হারাম শরীফের অভ্যন্তরে কোন প্রাণী শিকার করলে তার উপর ইহরাম বেঁধে হারমের ভিতর বধ করার মত হুকুম হবে।

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৭৮১-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় ইহরাম অবস্থায় শিকার করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। আল্লাহ্ তা’আলা মু’মিনদের বলেছেন, ইহরাম অবস্থায় প্রাণী শিকার করা যাবে না। কেউ ইচ্ছা করে শিকার করলে তার জন্য বদলা আছে। সেই বদলা হতে পারে শিকারকৃত প্রাণীর সমমানের গৃহপালিত পশু, অথবা মিসকীনকে খাবার দেওয়া, অথবা সেই পরিমাণ রোযা রাখা। এখানে মূল কথা হলো, মুহরিম ব্যক্তি যেন ইহরামের সম্মান রক্ষা করে। ইমাম মালিক (র) আরও বুঝিয়েছেন, শিকার নিজে করুক বা কিনে এনে বধ করুক, বিষয়টি নিষেধের আওতায় আসে। তাই ইহরামে শিকার, শিকার কাফফারা, মিসকীনকে খাদ্যদান এবং রোযার বিধান—সবই এই হাদিসে পরিষ্কারভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইহরাম অবস্থায় শিকার থেকে বিরত থাকা ইহরামের সম্মান রক্ষার অংশ।
  • ইচ্ছাকৃত শিকার করলে বদলা বা কাফফারার দায় আসে।
  • কাফফারার হিসাব ন্যায়বান লোকদের ফয়সালার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।
  • খাদ্যদান বা রোযা—দুই পথই দায় পূরণের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন