২০/৩৭. অধ্যায়ঃ

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮১০ - প্রতি সাত তাওয়াফের পর দুই রাকআত

তাওয়াফের দুই রাক‘আত নামায

তাওয়াফের দুই রাকআত নামায: সাত চক্কর পূর্ণ করার পরই আদায়

মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৮১০

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ كَانَ لَا يَجْمَعُ بَيْنَ السُّبْعَيْنِ لَا يُصَلِّي بَيْنَهُمَا وَلَكِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ كُلِّ سُبْعٍ رَكْعَتَيْنِ فَرُبَّمَا صَلَّى عِنْدَ الْمَقَامِ أَوْ عِنْدَ غَيْرِهِ১৩৫৪-و سُئِلَ مَالِك عَنْ الطَّوَافِ إِنْ كَانَ أَخَفَّ عَلَى الرَّجُلِ أَنْ يَتَطَوَّعَ بِهِ فَيَقْرُنَ بَيْنَ الْأُسْبُوعَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ ثُمَّ يَرْكَعُ مَا عَلَيْهِ مِنْ رُكُوعِ تِلْكَ السُّبُوعِ -قَالَ لَا يَنْبَغِي ذَلِكَ وَإِنَّمَا السُّنَّةُ أَنْ يُتْبِعَ كُلَّ سُبْعٍ رَكْعَتَيْنِ১৩৫৫-قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَدْخُلُ فِي الطَّوَافِ فَيَسْهُو حَتَّى يَطُوفَ ثَمَانِيَةَ أَوْ تِسْعَةَ أَطْوَافٍ قَالَ يَقْطَعُ إِذَا عَلِمَ أَنَّهُ قَدْ زَادَ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَلَا يَعْتَدُّ بِالَّذِي كَانَ زَادَ وَلَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَبْنِيَ عَلَى التِّسْعَةِ حَتَّى يُصَلِّيَ سُبْعَيْنِ جَمِيعًا لِأَنَّ السُّنَّةَ فِي الطَّوَافِ أَنْ يُتْبِعَ كُلَّ سُبْعٍ رَكْعَتَيْنِ১৩৫৬-قَالَ مَالِك وَمَنْ شَكَّ فِي طَوَافِهِ بَعْدَمَا يَرْكَعُ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ فَلْيَعُدْ فَلْيُتَمِّمْ طَوَافَهُ عَلَى الْيَقِينِ ثُمَّ لِيُعِدْ الرَّكْعَتَيْنِ لِأَنَّهُ لَا صَلَاةَ لِطَوَافٍ إِلَّا بَعْدَ إِكْمَالِ السُّبْعِ وَمَنْ أَصَابَهُ شَيْءٌ يَنْقُضُ وُضُوءَهُ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ أَوْ يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ أَوْ بَيْنَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ مَنْ أَصَابَهُ ذَلِكَ وَقَدْ طَافَ بَعْضَ الطَّوَافِ أَوْ كُلَّهُ وَلَمْ يَرْكَعْ رَكْعَتَيْ الطَّوَافِ فَإِنَّهُ يَتَوَضَّأُ وَيَسْتَأْنِفُ الطَّوَافَ وَالرَّكْعَتَيْنِ وَأَمَّا السَّعْيُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَإِنَّهُ لَا يَقْطَعُ ذَلِكَ عَلَيْهِ مَا أَصَابَهُ مِنْ انْتِقَاضِ وُضُوئِهِ وَلَا يَدْخُلُ السَّعْيَ إِلَّا وَهُوَ طَاهِرٌ بِوُضُوءٍ.

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

হিশাম ইবনু উরওয়াহ্ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন তিনি দুই সাব্আর মাঝখানে নামাজ না পড়ে উভয়কে একত্র করতেন না, বরং তিনি প্রত্যেক সাব্আর পর দুই রাক’আত নামাজ আদায় করতেন মাকামে ইবরাহীমের নিকট, আর কখনও পড়তেন অন্যত্র। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন) মালিক (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল কেউ যদি কয়েক সাবআর পর একত্রে সবগুলোর নামাজ আদায় করে তবে তা জায়েয হবে কি? তিনি বললেন, জায়েয হবে না। প্রতি সাবআর (সাত তাওয়াফ) সঙ্গে সঙ্গেই দুই রাক’আত নামাজ পড়া সুন্নত।মালিক (রহঃ) বলেন, ভুল করে যদি কেউ আট বা নয় চক্কর (তাওয়াফ) দিয়ে ফেলে তবে যখনই মনে পড়বে তাওয়াফ ছেড়ে দিবে এবং দুই রাক’আত নামাজ আদায় করে নিবে। অতিরিক্ত তাওয়াফগুলো ধর্তব্যের বলে মনে করবে না এবং দুই সাবআ সমাধা করে পরে একত্রে নামাজ আদায় করা সঙ্গত নয়। প্রতি সাব্আর (সাত তাওয়াফ) সঙ্গে সঙ্গেই দুই রাক’আত নামাজ পড়া সুন্নত।মালিক (রহঃ) বলেন, তাওয়াফ করে দুই রাক’আত নামাজ আদায় করার পর সাত তাওয়াফ (চক্কর) পুরা হয়নি বলে যদি কারো মনে সন্দেহ হয় তবে তাকে য়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস)-এর উপর ভিত্তি করে তাওয়াফ পুরো করে আবার দুই রাক’আত নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ সাত চক্কর পূর্ণ করার পরই তাওয়াফের নামাজ পড়তে হয়। মালিক (রহঃ) বলেন, তাওয়াফ বা সায়ী করার সময় যদি কারো ওজু নষ্ট হয়ে যায়, তবে ওজু করে পুনরায় নতুন করে তাওয়াফ করবে এবং সায়ীর যে কয় চক্কর অবশিষ্ট ছিল তা পুরা করবে।

[১] তাওয়াফের সাত চক্করকে এ ‘সাবআ’ বলা হয়।

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৮১০-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ বর্ণনায় তাওয়াফের কয়েকটি দরকারি বিষয় এসেছে। উরওয়া (র) দুই সাবআ বা দুই সেট সাত তাওয়াফ একত্র করতেন না; বরং প্রত্যেক সাত চক্করের পর দুই রাকআত নামায পড়তেন। কখনও মাকামে ইবরাহীমের কাছে, কখনও অন্যত্র পড়তেন। ইমাম মালিক (র)-এর বক্তব্যেও একই শিক্ষা এসেছে: প্রতি সাত তাওয়াফের পর সঙ্গে সঙ্গে দুই রাকআত পড়া সুন্নত। কেউ ভুলে আট বা নয় চক্কর দিলে অতিরিক্ত অংশ ধরা হবে না; মনে পড়লে থেমে দুই রাকআত পড়বে। সাত চক্কর পূর্ণ হয়েছে কি না সন্দেহ হলে নিশ্চিত অংশ ধরে তাওয়াফ পূর্ণ করে আবার দুই রাকআত পড়বে। তাওয়াফ বা সায়ীর সময় ওযু নষ্ট হলে পবিত্রতা সম্পর্কেও নির্দেশনা এসেছে। তাই এই হাদিস তাওয়াফের নিয়ম, তাওয়াফের নামায এবং সতর্কতার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • প্রতি সাত তাওয়াফের পর দুই রাকআত নামায আদায়ের কথা এসেছে।
  • সন্দেহ হলে নিশ্চিত অংশের ভিত্তিতে তাওয়াফ পূর্ণ করতে বলা হয়েছে।
  • অতিরিক্ত চক্কর ভুলে হয়ে গেলে সেটিকে আলাদা সাবআ হিসেবে ধরা হবে না।
  • তাওয়াফ ও সায়ীতে পবিত্রতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন