২০/৭৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯১৭ - আয়েশা (রা)-এর হজ্জ ও উমরা
ঋতুমতী স্ত্রীলোকের মক্কায় প্রবেশ করা
আয়েশা (রা)-এর হজ্জ, উমরা ও ঋতুস্রাবের সময় করণীয়
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯১৭
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯১৭
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّهَا قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَأَهْلَلْنَا بِعُمْرَةٍ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيُهْلِلْ بِالْحَجِّ مَعَ الْعُمْرَةِ ثُمَّ لَا يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا قَالَتْ فَقَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ فَلَمْ أَطُفْ بِالْبَيْتِ وَلَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ انْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ وَدَعِي الْعُمْرَةَ قَالَتْ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا قَضَيْنَا الْحَجَّ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرْتُ فَقَالَ هَذَا مَكَانُ عُمْرَتِكِ فَطَافَ الَّذِينَ أَهَلُّوا بِالْعُمْرَةِ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حَلُّوا مِنْهَا ثُمَّ طَافُوا طَوَافًا آخَرَ بَعْدَ أَنْ رَجَعُوا مِنْ مِنًى لِحَجِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَانُوا أَهَلُّوا بِالْحَجِّ أَوْ جَمَعُوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَإِنَّمَا طَافُوا طَوَافًا وَاحِدًا.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে যাত্রা করি আমরা উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, কুরবানীর পশু যার আছে সে যেন হজ্জ ও উমরা উভয়টিরই ইহরাম বেঁধে নেয় এবং কাজ সমাধা না করা পর্যন্ত যেন ইহরাম না খোলে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, মক্কায় যখন প্রবেশ করি তখন আমি ঋতুমতী হয়ে পড়ি। ফলে আমি তাওয়াফ এবং সা’য়ী করতে পারলাম না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট আরয করলে তিনি বললেন, বিনুনি খুলে আঁচড়িয়ে নাও আর উমরা পরিত্যাগ করে হজ্জে ইহরাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম।আমার হজ্জ আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবদুর রহমান ইবনু আবূ বক্র (রাঃ)-এর সাথে আমাকে তান’য়ীম প্রেরণ করেন। তখন সেই স্থান হতে আমি উমরা আদায় করি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, পূর্বে পরিত্যক্ত উমরার বদল হল তোমার এই উমরা। যারা কেবল উমরার ইহরাম বেঁধেছিল তারা তাওয়াফ ও সা’য়ী করার পর হালাল হয়ে যায় এবং মিনা হতে ফিরে এসে তারা হজ্জের জন্য দ্বিতীয় তাওয়াফ আদায় করবে। আর যারা কেবল হজ্জের বা হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম বেঁধেছিল তারা শুধু একবারই তাওয়াফ আদায় করবে। (বুখারী ২৯৪, মুসলিম ১২১১)২২৪و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ بِمِثْلِ ذَلِكَ. উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) আয়েশা (রাঃ) হতে অনুরূপ রেওয়ায়ত করেছেন।
(হাদীসটি ইমাম মালিক (রহঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে বিদায় হজ্জের সময় আয়েশা (রা)-এর ঘটনা এসেছে। তাঁরা রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে বের হন এবং উমরার ইহরাম বাঁধেন। নবীজি বলেন, যার কুরবানীর পশু আছে, সে যেন হজ্জ ও উমরা উভয়ের ইহরাম নেয় এবং কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম না খোলে। আয়েশা (রা) মক্কায় এসে ঋতুমতী হয়ে পড়েন, তাই তাওয়াফ ও সা’য়ী করতে পারেননি। তিনি বিষয়টি জানালে নবীজি তাঁকে মাথার বিনুনি খুলে আঁচড়াতে, উমরা ছেড়ে হজ্জের ইহরাম নিতে বলেন। হজ্জের পর তাঁকে তানঈমে পাঠানো হয় এবং তিনি সেখান থেকে উমরা করেন। হাদিসে আরও এসেছে, যারা শুধু উমরার ইহরাম নিয়েছিল তারা তাওয়াফ ও সা’য়ী করে হালাল হয়, আর যারা হজ্জ বা হজ্জ-উমরা মিলিয়ে নিয়েছিল তারা একবার তাওয়াফ করে। মূল বিষয় হলো হজ্জ, উমরা ও ঋতুমতী নারীর করণীয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুস্রাব হলে তাওয়াফ ও সা’য়ী করা থেকে বিরত থাকার ঘটনা এসেছে।
- নবীজি আয়েশা (রা)-কে অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে হজ্জের ইহরাম নিতে বলেন।
- হজ্জ শেষে তানঈম থেকে উমরা করার বর্ণনা এসেছে।
- হজ্জ ও উমরার ইহরামের ধরন অনুযায়ী আমলে পার্থক্য হতে পারে।
