৬/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৯৪ - হায়েজ অবস্থায় হজ্জের আমল
ঋতুকালীন ঋতুবতী মহিলাদের প্রতি নির্দেশ।
হায়েজ অবস্থায় হজ্জ: তওয়াফ ছাড়া বাকি আমলের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৯৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৯৪
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ خَرَجْنَا لاَ نَرَى إِلاَّ الْحَجَّ، فَلَمَّا كُنَّا بِسَرِفَ حِضْتُ، فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَنَا أَبْكِي قَالَ «مَا لَكِ أَنُفِسْتِ». قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ «إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَاقْضِي مَا يَقْضِي الْحَاجُّ، غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ». قَالَتْ وَضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমরা হজ্জের উদ্দেশেই (মদীনা হতে) বের হলাম। ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছার পর আমার হায়েয আসলো। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং বললেনঃ তোমার কী হয়েছে? তোমার কি হায়েয এসেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ তো আল্লাহ্ তা’আলাই আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তুমি বাইতুল্লাহ্র ত্বওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকী সব কাজ করে নাও। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে গাভী কুরবানী করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো হায়েজ অবস্থায় হজ্জের করণীয়। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তাঁরা হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হন। সরিফ নামক স্থানে তাঁর হায়েজ আসে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে কাঁদতে দেখে বলেন, এটি আল্লাহ আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এরপর তিনি নির্দেশ দেন, বাইতুল্লাহর তওয়াফ ছাড়া হাজীরা যা করে, তিনিও তা করবেন। এই হাদিস নারীদের জন্য খুব সান্ত্বনাদায়ক। হায়েজ কোনো অস্বাভাবিক লজ্জার বিষয় নয়; এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিষয়। তবে হজ্জের আমলের ক্ষেত্রে তওয়াফের আলাদা বিধান আছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, হায়েজ অবস্থায় নারী হজ্জের অনেক কাজ করতে পারে, কিন্তু তওয়াফ করবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ নারীদের জন্য আল্লাহর নির্ধারিত স্বাভাবিক বিষয়।
- হায়েজ অবস্থায় তওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকি কাজ করার নির্দেশ এসেছে।
- কষ্টের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم) সান্ত্বনা ও সহজ নির্দেশ দিতেন।
- ইবাদতের বিধান জানতে হলে হাদিসের নির্দিষ্ট ভাষা অনুসরণ করতে হয়।
