৬/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৩০৫ - হায়েজ অবস্থায় হজ্জের আমল
ঋতুবতী নারী হজ্জের যাবতীয় বিধান পালন করবে তবে কাবা গৃহের তাওয়াফ ব্যতীত।
وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ لَا بَأْسَ أَنْ تَقْرَأَ الْآيَةَ وَلَمْ يَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِالْقِرَاءَةِ لِلْجُنُبِ بَأْسًا وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ وَقَالَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ يَخْرُجَ الْحُيَّضُ فَيُكَبِّرْنَ بِتَكْبِيرِهِمْ وَيَدْعُونَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سُفْيَانَ أَنَّ هِرَقْلَ دَعَا بِكِتَابِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَرَأَ فَإِذَا فِيهِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ {وَ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ} الْآيَةَ وَقَالَ عَطَاءٌ عَنْ جَابِرٍ حَاضَتْ عَائِشَةُ فَنَسَكَتِ الْمَنَاسِكَ غَيْرَ الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ وَلَا تُصَلِّي وَقَالَ الْحَكَمُ إِنِّي لَأَذْبَحُ وَأَنَا جُنُبٌ وَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ {وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ}.ইবরাহীম (রহঃ) বলেছেন: (হায়েয অবস্থায়) আয়াত পাঠে কোনো দোষ নেই। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) জুনুবীর জন্য কুরআন পাঠে কোনো দোষ মনে করতেন না। নবী (ﷺ) সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন। উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাঃ) বলেন: (ঈদের দিন) হায়েয অবস্থায় মহিলাদের বাইরে নিয়ে আসার জন্য আমাদের বলা হতো, যাতে তারা পুরুষদের সাথে তাকবীর বলে ও দু‘আ করে। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) আবূ সুফিয়ান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, হিরাকল (রোম সম্রাট) নবী (ﷺ)-এর পত্র চেয়ে নিলেন এবং তা পাঠ করলেন।তাতে লেখা ছিল: “দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। (আপনি বলুন!) হে কিতাবীগণ! এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই-যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত না করি। কোনো কিছুকেই তাঁর শরীক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ব্যতীত রবরূপে গ্রহণ না করি। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলুন, তোমরা সাক্ষী থাক আমরা মুসলিম।” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/৬৪)।‘আত্বা (রহঃ) জাবির (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, ‘আয়িশা (রাঃ) হায়েয অবস্থায় কা‘বা ত্বওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্যান্য আহকাম পালন করেছেন কিন্তু সালাত আদায় করেননি। হাকাম (রহঃ) বলেছেন: আমি জুনুবী অবস্থায়ও যবহ করে থাকি। অথচ আল্লাহর বাণী হলো: “তোমরা আহার করো না সে সব প্রাণী, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি।” (সূরা আন‘আম ৬/১১)"
হায়েজ অবস্থায় হজ্জ: তাওয়াফ ছাড়া অন্যান্য আমল
সহীহ বুখারী : ৩০৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩০৫
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ لاَ نَذْكُرُ إِلاَّ الْحَجَّ، فَلَمَّا جِئْنَا سَرِفَ طَمِثْتُ، فَدَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ ﷺ وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ {مَا يُبْكِيكِ}. قُلْتُ لَوَدِدْتُ وَاللَّهِ أَنِّي لَمْ أَحُجَّ الْعَامَ. قَالَ {لَعَلَّكِ نُفِسْتِ}. قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ «فَإِنَّ ذَلِكَ شَىْءٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَافْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ، غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي».
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। আমরা ‘সারিফ’ নামক স্থানে পৌঁছেলে আমি ঋতুবতী হই। এ সময় নবী (ﷺ) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললামঃ আল্লাহ্র শপথ! এ বছর হজ্জ না করাই আমার জন্য পছন্দনীয়। তিনি বললেনঃ সম্ভবত তুমি ঋতুবতী হয়েছ। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এটাতো আদম-কন্যাদের জন্যে আল্লাহ্ নির্ধারিত করেছেন। তুমি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মত সমস্ত কাজ করে যাও, কেবল কা’বার তাওয়াফ করবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ৩০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর হজ্জের সফরের একটি ঘটনা এসেছে। তিনি সারীফ নামক স্থানে ঋতুবতী হয়ে কাঁদছিলেন। আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, এটি আদম-কন্যাদের জন্য আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। এরপর নির্দেশ দেন, হাজীরা যা করে তা করতে থাকবে, কিন্তু পবিত্র হওয়া পর্যন্ত কা‘বার তাওয়াফ করবে না। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো হায়েজ অবস্থায় হজ্জের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না; তবে তাওয়াফের ক্ষেত্রে পবিত্রতার অপেক্ষা করতে হয়। এখানে খুব সুন্দর সান্ত্বনাও আছে—হায়েজ কোনো অস্বাভাবিক লজ্জার বিষয় নয়। যারা “হায়েজ অবস্থায় হজ্জ” বা “তাওয়াফের বিধান” খোঁজেন, তাদের জন্য হাদিসটি সরাসরি দিকনির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ নারীর জন্য আল্লাহ নির্ধারিত একটি স্বাভাবিক বিষয়—নবী (صلى الله عليه وسلم) এভাবে সান্ত্বনা দিয়েছেন।
- হজ্জের সব কাজ বন্ধ নয়; তাওয়াফের আগে পবিত্র হওয়ার কথা এসেছে।
- সমস্যার সময় জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করা উচিত।
- ধর্মীয় কাজে অসুবিধা এলে হতাশ না হয়ে নির্দেশনা মেনে চলা দরকার।
