৬/৮. অধ্যায়ঃ
ঋতুবতী নারী হজ্জের যাবতীয় বিধান পালন করবে তবে কাবা গৃহের তাওয়াফ ব্যতীত।
وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ لَا بَأْسَ أَنْ تَقْرَأَ الْآيَةَ وَلَمْ يَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِالْقِرَاءَةِ لِلْجُنُبِ بَأْسًا وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ وَقَالَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ يَخْرُجَ الْحُيَّضُ فَيُكَبِّرْنَ بِتَكْبِيرِهِمْ وَيَدْعُونَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سُفْيَانَ أَنَّ هِرَقْلَ دَعَا بِكِتَابِ النَّبِيِّ ﷺ فَقَرَأَ فَإِذَا فِيهِ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ {وَ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ} الْآيَةَ وَقَالَ عَطَاءٌ عَنْ جَابِرٍ حَاضَتْ عَائِشَةُ فَنَسَكَتِ الْمَنَاسِكَ غَيْرَ الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ وَلَا تُصَلِّي وَقَالَ الْحَكَمُ إِنِّي لَأَذْبَحُ وَأَنَا جُنُبٌ وَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ {وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ}.ইবরাহীম (রহ.) বলেছেন: (হায়েয অবস্থায়) আয়াত পাঠে কোনো দোষ নেই। ইবন ‘আব্বাস (রা.) জুনুবীর জন্য কুরআন পাঠে কোনো দোষ মনে করতেন না। নবী (ﷺ) সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকির করতেন। উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রা.) বলেন: (ঈদের দিন) হায়েয অবস্থায় মহিলাদের বাইরে নিয়ে আসার জন্য আমাদের বলা হতো, যাতে তারা পুরুষদের সাথে তাকবীর বলে ও দু‘আ করে। ইবন ‘আব্বাস (রা.) আবূ সুফিয়ান (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, হিরাকল (রোম সম্রাট) নবী (ﷺ)-এর পত্র চেয়ে নিলেন এবং তা পাঠ করলেন। তাতে লেখা ছিল: “দয়াময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে। (আপনি বলুন!) হে কিতাবীগণ! এসো সে কথায় যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই-যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো ইবাদত না করি। কোনো কিছুকেই তাঁর শরীক না করি এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ব্যতীত রবরূপে গ্রহণ না করি। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলুন, তোমরা সাক্ষী থাক আমরা মুসলিম।” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/৬৪)। ‘আত্বা (রহ.) জাবির (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, ‘আয়িশা (রা.) হায়েয অবস্থায় কা‘বা ত্বওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্যান্য আহকাম পালন করেছেন কিন্তু সালাত আদায় করেননি। হাকাম (রহ.) বলেছেন: আমি জুনুবী অবস্থায়ও যবহ করে থাকি। অথচ আল্লাহর বাণী হলো: “তোমরা আহার করো না সে সব প্রাণী, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি।” (সূরা আন‘আম ৬/১১)"
সহিহ বুখারী : ৩০৫
সহিহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩০৫
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ نَذْكُرُ إِلاَّ الْحَجَّ، فَلَمَّا جِئْنَا سَرِفَ طَمِثْتُ، فَدَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ {مَا يُبْكِيكِ}. قُلْتُ لَوَدِدْتُ وَاللَّهِ أَنِّي لَمْ أَحُجَّ الْعَامَ. قَالَ {لَعَلَّكِ نُفِسْتِ}. قُلْتُ نَعَمْ. قَالَ " فَإِنَّ ذَلِكَ شَىْءٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ، فَافْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ، غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرِي ".
‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। আমরা যখন ‘সারীফ’ নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমি ঋতুবতী হই। এ সময় নবী (ﷺ) এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললামঃ আল্লাহর কসম! এ বছর হজ্জ না করাই আমার জন্য পছন্দনীয়।তিনি বললেনঃ সম্ভবত তুমি "নুফিস্ত" (ঋতুবতী) হয়েছ। আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এটাতো আদম-কন্যাদের জন্য আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন। তুমি পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মত সমস্ত কাজ করে যাও, কেবল কা’বার তাওয়াফ করবে না।
(২৯৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৯৪,ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৯৯)
