৬/৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৩০৪ - নারীদের সদাকা ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা

হায়েয অবস্থায় সওম ছেড়ে দেয়া।

নারীদের সদাকা, কৃতজ্ঞতা ও হায়েজের বিধান

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩০৪

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي زَيْدٌ ـ هُوَ ابْنُ أَسْلَمَ ـ عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي أَضْحًى ـ أَوْ فِطْرٍ ـ إِلَى الْمُصَلَّى، فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ، فَإِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ ".فَقُلْنَ وَبِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ، مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَذْهَبَ لِلُبِّ الرَّجُلِ الْحَازِمِ مِنْ إِحْدَاكُنَّ ". قُلْنَ وَمَا نُقْصَانُ دِينِنَا وَعَقْلِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " أَلَيْسَ شَهَادَةُ الْمَرْأَةِ مِثْلَ نِصْفِ شَهَادَةِ الرَّجُلِ ". قُلْنَ بَلَى. قَالَ " فَذَلِكَ مِنْ نُقْصَانِ عَقْلِهَا، أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ ". قُلْنَ بَلَى. قَالَ " فَذَلِكَ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের জন্য আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমার সদাক্বাহ করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তারা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি।তারা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তারা উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ’। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়েয অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম হতে বিরত থাকে না? তারা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।

সহীহ বুখারী হাদিস ৩০৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ঈদের দিন আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) নারীদের উদ্দেশে সদাকা করতে বলেন। তিনি তাঁদের কিছু আচরণ থেকে সতর্ক করেন—অধিক অভিশাপ দেয়া এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞ হওয়া। এরপর নারীরা দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি সাক্ষ্যের প্রসঙ্গ এবং হায়েজ অবস্থায় সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। এই হাদিস বোঝার সময় ভাষার সীমা মানা জরুরি। এখানে মূল শিক্ষা হলো সদাকা, জিহ্বার ব্যবহার, কৃতজ্ঞতা এবং হায়েজের সময় সালাত-সিয়াম না করার বিধান। হাদিসটি নারীদের অপমানের জন্য নয়; বরং বর্ণিত কথার ভিত্তিতে সতর্কতা ও সংশোধনের আহ্বান হিসেবে পড়া উচিত। তাই “নারীদের সদাকা হাদিস”, “স্বামীর অকৃতজ্ঞতা” এবং “হায়েজে সালাত সিয়াম” বিষয়গুলো এখানে একসঙ্গে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সদাকা মানুষকে ভালো কাজে এগিয়ে দেয়—এই হাদিসে নারীদের সদাকার প্রতি উৎসাহ আছে।
  • অভিশাপ বা খারাপ ভাষা থেকে বাঁচার শিক্ষা পাওয়া যায়।
  • দাম্পত্য জীবনে কৃতজ্ঞতা রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
  • হায়েজ অবস্থায় সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকার কথা হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন