২১/৬. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৬৪ - নজদের সেনাদল ও গনীমতের নফল
যুদ্ধে প্রাপ্ত নফল
গনীমত বণ্টন ও নফল: নজদের সেনাদলের হাদিস
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯৬৪
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯৬৪
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ سَرِيَّةً فِيهَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ قِبَلَ نَجْدٍ فَغَنِمُوا إِبِلًا كَثِيرَةً فَكَانَ سُهْمَانُهُمْ اثْنَيْ عَشَرَ بَعِيرًا أَوْ أَحَدَ عَشَرَ بَعِيرًا وَنُفِّلُوا بَعِيرًا بَعِيْرًا.
নাফি’ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, নজদ এলাকার দিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি সেনাদল প্রেরণ করেছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-ও এতে শরীক ছিলেন। গনীমত হিসেবে অনেক উট ধরা পড়ে। প্রত্যেকেই বারটি বা এগারটি করে উট প্রাপ্ত হন এবং প্রত্যেককেই আরো একটি করে নফল (হিস্যাতিরিক্ত) দেয়া হয়। [১]
[১] গনীমতের সাকুল্য সম্পদ পাঁচ ভাগে বণ্টন করা হয়। এক ভাগ সরকারী তহবিলে সংরক্ষিত হয়। আর চার ভাগ মুজাহিদগণের মধ্যে বণ্টন করা হয়। (বুখারী ৩১৩৪, মুসলিম ১৭৪৯)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রেরিত একটি সেনাদলের কথা এসেছে, যারা নজদ এলাকার দিকে গিয়েছিল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রা) সেই দলে ছিলেন। তারা অনেক উট গনীমত হিসেবে পায়। এরপর প্রত্যেকের ভাগে বারটি বা এগারটি করে উট আসে এবং আরও একটি করে নফল বা হিস্যাতিরিক্ত উট দেওয়া হয়। এখানে মূল বিষয় হলো গনীমত বণ্টন ও নফল। হাদিসটি যুদ্ধলব্ধ সম্পদে নিয়ম, হিস্যা এবং অতিরিক্ত পুরস্কারের একটি উদাহরণ দেখায়। এতে বোঝা যায়, গনীমত ব্যক্তিগতভাবে ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং বণ্টনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অংশ দেওয়া হয়। নফলও এলোমেলো নয়, বরং নেতৃত্বের ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গনীমত বণ্টনে নির্দিষ্ট হিস্যার ধারণা আছে।
- নফল মূল হিস্যার অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া হতে পারে।
- যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার বিষয় নয়।
- নেতৃত্বের অধীনে সম্পদ বণ্টনের শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
