২১/১০. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৬৮ - আনফাল, সলব ও ইমামের অনুমতির শিক্ষা
নফল হিসেবে কোন সৈনিককে অস্ত্রশস্ত্র প্রদান করা
আনফাল কী: ঘোড়া, অস্ত্র ও ইমামের অনুমতির হাদিস
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯৬৮
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯৬৮
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَجُلًا يَسْأَلُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ عَنْ الْأَنْفَالِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الْفَرَسُ مِنْ النَّفَلِ وَالسَّلَبُ مِنْ النَّفَلِ قَالَ ثُمَّ عَادَ الرَّجُلُ لِمَسْأَلَتِهِ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ذَلِكَ أَيْضًا ثُمَّ قَالَ الرَّجُلُ الْأَنْفَالُ الَّتِي قَالَ اللهُ فِي كِتَابِهِ مَا هِيَ قَالَ الْقَاسِمُ فَلَمْ يَزَلْ يَسْأَلُهُ حَتَّى كَادَ أَنْ يُحْرِجَهُ ثُمَّ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَتَدْرُونَ مَا مَثَلُ هَذَا مَثَلُ صَبِيغٍ الَّذِي ضَرَبَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ১৬৫৬-قَالَ و سُئِلَ مَالِك عَمَّنْ قَتَلَ قَتِيلًا مِنْ الْعَدُوِّ أَيَكُونُ لَهُ سَلَبُهُ بِغَيْرِ إِذْنِ الْإِمَامِ قَالَ لَا يَكُونُ ذَلِكَ لِأَحَدٍ بِغَيْرِ إِذْنِ الْإِمَامِ وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ مِنْ الْإِمَامِ إِلَّا عَلَى وَجْهِ الْاجْتِهَادِ وَلَمْ يَبْلُغْنِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَتَلَ قَتِيلًا فَلَهُ سَلَبُهُ إِلَّا يَوْمَ حُنَيْنٍ.
কাশিম ইবনু মুহাম্মদ (র) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রা)-এর কাছে আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এক ব্যক্তিকে শুনেছিলাম। ইবনু আব্বাস (রা) তখন উত্তরে বলেছিলেন : ঘোড়া এবং অস্ত্রশস্ত্র আনফালের মধ্যে শামিল। ঐ ব্যক্তি ঐ প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলে ইবনু আব্বাস (রা) পুনরায় ঐ উত্তর প্রদান করেন। তখন ঐ ব্যক্তি বলল : কুরআনুল কারীমে যে আনফালের আলোচনা করা হয়েছে, সে আনফাল সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি। কাশিম (র) বলেন : ঐ ব্যক্তি বার বার একই কথা বলতে লাগল। শেষে ইবনু আব্বাস (রা) বিরক্ত হয়ে বললেন; এই ব্যক্তি সবীগের মতো যাকে উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বেত্রদণ্ড দিয়েছিলেন। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল মুসলিমদের কোন শত্রুকে হত্যা করতে পারলে মুসলিম রাষ্ট্রনায়কের অনুমতি ব্যতিরেকে তার আসবাবপত্র নিহতকারী পেতে পারে কি? তিনি বললেন : না। ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান মুনাসিব মনে করলে এ ধরনের হুকুম জারি করতে পারেন।হুনায়ন যুদ্ধ ব্যতীত অন্য কোন যুদ্ধে রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে আমরা জ্ঞাত হইনি।
[১] ইরাকের বাসিন্দা এক ব্যক্তি উমার (রা)-এর আমলে মদীনায় এসে আল-কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে নানা ধরনের উদ্ভট আলোচনার অবতারণা করে দেয়। উমার (রা) তখন তাকে বেত্রদণ্ড দেন এবং তার কাছে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আনফাল সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর এসেছে। এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা)-কে আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ঘোড়া এবং অস্ত্রশস্ত্র আনফালের মধ্যে পড়ে। প্রশ্নকারী বারবার কুরআনে উল্লেখিত আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে থাকলে ইবনু আব্বাস (রা) বিরক্ত হন এবং সবীগের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। এরপর ইমাম মালিক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, কেউ শত্রুকে হত্যা করলে রাষ্ট্রনায়কের অনুমতি ছাড়া তার আসবাব পাবে কি না। তিনি বলেন, না; ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধান বিবেচনা করে এমন নির্দেশ দিতে পারেন। তাঁর কাছে হুনায়ন ছাড়া অন্য যুদ্ধে এমন সাধারণ ঘোষণা পৌঁছেনি। তাই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, আনফাল ও সলব ব্যক্তিগত দাবি নয়; নেতৃত্বের অনুমতি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আনফালের মধ্যে ঘোড়া ও অস্ত্রশস্ত্রের কথা এসেছে।
- একই প্রশ্নে সীমা রাখা জ্ঞান অর্জনের আদবের অংশ।
- শত্রুর আসবাব পাওয়ার জন্য ইমামের অনুমতির কথা এসেছে।
- হুনায়নের ঘটনাকে সাধারণ নিয়ম বানানোর আগে সতর্কতা দরকার।
