২১/১৪. অধ্যায়ঃ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৭৯ - মুসলিমের হাতে নিহত না হওয়ার উমার (রা)-এর দোয়া
আল্লাহর পথের শহীদগণ
উমার (রা)-এর দোয়া: মুসলিমের হাতে নিহত না হওয়ার শিক্ষা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ৯৭৯
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ৯৭৯
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يَقُولُ اللهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَتْلِي بِيَدِ رَجُلٍ صَلَّى لَكَ سَجْدَةً وَاحِدَةً يُحَاجُّنِي بِهَا عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
যাইদ ইবনু আসলাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বলতেন, হে আল্লাহ! এমন ব্যক্তির হাতে আমাকে হত্যা করায়ো না যে ব্যক্তি তোমাকে একটি সিজদাও করেছে। [১]
[১] কাফেরের হাতে যেন শাহাদত হয়। আল্লাহ তাআলা উমার (রাঃ)-এর এই দুআ কবুল করেছিলেন। শেষে আবূ লুলু নামক এক অগ্নি উপাসকের হাতে তাঁর শাহাদত হয়েছিল। (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুয়াত্তা ইমাম মালিক হল মালিক ইবনে আনাস (রহঃ) কর্তৃক সংকলিত হাদীসের একটি সংগ্রহ
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ৯৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমার ইবনু খাত্তাব (রা)-এর একটি গভীর দোয়া এসেছে। তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! এমন ব্যক্তির হাতে আমাকে হত্যা করো না, যে তোমার জন্য একটি সিজদাও করেছে; কারণ সে কিয়ামতের দিন সেই সিজদা দিয়ে আমার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে। হাদিসটির মূল বার্তা হলো মুসলিমের রক্ত, সিজদার মর্যাদা এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহির ভয়। উমার (রা)-এর দোয়ায় বোঝা যায়, তিনি শুধু নিজের মৃত্যু নিয়ে ভাবেননি; বরং তিনি চাননি কোনো সিজদাকারী মানুষের হাতে তাঁর হত্যা ঘটুক। এখানে কোনো অতিরিক্ত ঘটনা যোগ করার দরকার নেই। বর্ণনাটিই আমাদের শেখায়, ঈমানের চিহ্নকে হালকা করে দেখা যায় না এবং কিয়ামতের জবাবদিহি বাস্তব মনে রাখতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সিজদাকারী মানুষের মর্যাদাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- উমার (রা) কিয়ামতের জবাবদিহি নিয়ে ভীত ছিলেন।
- মুসলিমের রক্তের বিষয়ে সতর্কতা বোঝা যায়।
- দোয়ার ভাষায় বিনয় ও আল্লাহভীতি প্রকাশ পেয়েছে।
