২/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮ - মুসলিমের অধিকার
অজান্তে মু‘মিনের আমল বিনষ্ট হবার ভয়।
وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ مَا عَرَضْتُ قَوْلِي عَلَى عَمَلِي إِلَّا خَشِيتُ أَنْ أَكُونَ مُكَذِّبًا وَقَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَدْرَكْتُ ثَلَاثِينَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ كُلُّهُمْ يَخَافُ النِّفَاقَ عَلَى نَفْسِهِ مَا مِنْهُمْ أَحَدٌ يَقُولُ إِنَّهُ عَلَى إِيمَانِ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَيُذْكَرُ عَنِ الْحَسَنِ مَا خَافَهُ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَلَا أَمِنَهُ إِلَّا مُنَافِقٌ وَمَا يُحْذَرُ مِنَ الْإِصْرَارِ عَلَى النِّفَاقِ وَالْعِصْيَانِ مِنْ غَيْرِ تَوْبَةٍ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ﴿ইবরাহীম তাইমী (রহঃ) বলেন: আমার ‘আমলের সাথে যখন আমার কথা তুলনা করি, তখন আশঙ্কা হয়, আমি না মিথ্যাবাদী হই। ইবন আবূ মুলাইকা (রহঃ) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর এমন ত্রিশজন সাহাবীকে পেয়েছি, যাঁরা সকলেই নিজেদের সম্পর্কে নিফাকের ভয় করতেন। তাঁরা কেউ এ কথা বলতেন না যে, তিনি জিবরীল (আঃ) ও মিকাঈল (আঃ)-এর তুল্য ঈমানের অধিকারী। হাসান বাসরী (রহঃ) হতে বর্ণিত: নিফাকের ভয় মুমিনই করে থাকে। আর কেবল মুনাফিকই তা থেকে নিশ্চিত থাকে। তওবা না করে পরস্পর লড়াই করা ও পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক থাকা। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “এবং তারা (মুত্তাকীরা) যা করে ফেলে, জেনে শুনে তার পুনরাবৃত্তি করে না।” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/১৩৫)
মুসলিমকে গালি ও লড়াই থেকে বাঁচার হাদিস
সহীহ বুখারী : ৪৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زُبَيْدٍ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا وَائِلٍ عَنِ الْمُرْجِئَةِ،، فَقَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " سِ باب الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ
আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি আবূ ওয়াইল (রহঃ)-কে মুরজিআ’ [১] সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহ (ইব্ন মাস‘ঊদ) আমার নিকট বলেছেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।
[১] একটি বাতিল ফিরকা, যাদের মত হল, ভাল হোক বা মন্দ কোন আমলের মূল্য নেই এবং ঈমান আনার পর কোন গুনাহ ক্ষতিকর নয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কোর টপিক হলো মুসলিমের অধিকার ও আচরণ। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকী এবং তার সঙ্গে লড়াই করা কুফরী। কথাটি ছোট, কিন্তু শিক্ষা গভীর। একজন মুসলিমের জিহ্বা ও হাত অন্য মুসলিমের জন্য নিরাপদ হওয়া উচিত। গালি শুধু খারাপ ভাষা নয়; এটি দ্বীনের দৃষ্টিতে গুরুতর অন্যায়। আর মুসলিমের সঙ্গে লড়াই বা রক্তপাত আরও ভয়ংকর ব্যাপার। এই হাদিস আমাদের দৈনন্দিন ঝগড়া, রাগ, অপমানজনক কথা এবং বিবাদে থামতে শেখায়। ঈমানের দাবি হলো, মুসলিম ভাইয়ের সম্মান রাখা, কষ্ট না দেওয়া এবং বিরোধ হলে সীমা না ছাড়ানো। তাই সামাজিক সম্পর্ক, পরিবার এবং সমাজের সব স্তরে ভাষা ও আচরণে সংযম রাখা জরুরি। এতে ভ্রাতৃত্ব রক্ষা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমকে গালি দেওয়া গুরুতর অন্যায়।
- মুসলিমের সঙ্গে লড়াই করা খুব ভয়ংকর কাজ।
- রাগের সময় জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
- মুসলিমের সম্মান রক্ষা করা দ্বীনের শিক্ষা।
