১১/৭৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০০৬ - মুফাস্সাল সূরা ধীরে ও মিলিয়ে পাঠ
এক রাক‘আতে দু’ সূরাহ্ পাঠ করা
মুফাস্সাল সূরা তাড়াহুড়া ছাড়া পড়ার হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ১০০৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০০৬
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ يَحْيَى بْنُ وَثَّابٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدُ اللَّهِ وَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ: إِنِّي قَرَأْتُ اللَّيْلَةَ الْمُفَصَّلَ فِي رَكْعَةٍ. فَقَالَ: «هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ، لَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْرَأُ النَّظَائِرَ عِشْرِينَ سُورَةً مِنَ الْمُفَصَّلَ مِنْ آلِ حم»
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি এ রাতে এক রাকাতে মুফাস্সাল (সূরাসমূহ) পাঠ করেছি। তিনি বলেন, তাড়াতাড়ি কবিতা আবৃত্তির মতো? কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ মুফাস্সালের বিশটি সূরা তিলাওয়াত করতেন, যেগুলো আরম্ভ হয়েছে- آلِ حم (হা-মীম্) দ্বারা।
মুফাস্সাল সূরা নিরূপণে মতভেদ রয়েছে। প্রসিদ্ধ মতটি এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি জানান, তিনি রাতে এক রাকাতে মুফাস্সাল সূরাগুলো পাঠ করেছেন। তাঁর কথার জবাবে আবদুল্লাহ (রাঃ) প্রশ্ন করেন, তা কি কবিতা দ্রুত আবৃত্তির মতো পড়া হয়েছে? এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কিরাআতের ধরন বলেন। নবীজি পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ মুফাস্সালের বিশটি সূরা পাঠ করতেন। বর্ণনায় হা-মীম দিয়ে শুরু হওয়া সূরাগুলোর কথাও এসেছে। মূল কথা হলো, এক রাকাতে অনেক সূরা শেষ করার দাবি নয়; বরং পাঠের গতি ও নবীজির অনুসৃত সূরা বিন্যাসের দিকে নজর দেওয়া। হাদিসটি কুরআন তিলাওয়াতে তাড়াহুড়ার সমালোচনা করে এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ সূরা পাঠের একটি উদাহরণ দেয়। এখানে কোন কোন সূরা ছিল, তার পূর্ণ তালিকা নেই; তাই দেওয়া তথ্যের মধ্যেই ব্যাখ্যা সীমিত রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এক রাকাতে অনেক সূরা দ্রুত শেষ করাকে প্রশংসা করা হয়নি।
- নবীজি সামঞ্জস্যপূর্ণ মুফাস্সাল সূরা মিলিয়ে পাঠ করতেন।
- বর্ণনায় বিশটি সূরা ও হা-মীম দিয়ে শুরু সূরার উল্লেখ আছে।
