১১/৮০. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০১১ - সালাতে কিরাআতের আওয়াজে মধ্যপন্থা

মহান আল্লাহর বাণী- “ওয়ালা- তাজহার বিসালা-তিকা ওয়ালা- তুখা-ফিত্ বিহা-”- (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭: ১১০)-এর ব্যাখ্যা

সালাতে কুরআন পাঠের আওয়াজে মধ্যপন্থার হাদিস

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০১১

أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ قَالَا: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي وَحْشِيَّةَ وَهُوَ ابْنُ إِيَاسٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنُ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: " ﴾وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا﴿ [الإسراء: 110] قَالَ: نَزَلَتْ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُخْتَفٍ بِمَكَّةَ، فَكَانَ إِذَا صَلَّى بِأَصْحَابِهِ رَفَعَ صَوْتَهُ»وَقَالَ ابْنُ مَنِيعٍ: يَجْهَرُ بِالْقُرْآنِ، وَكَانَ الْمُشْرِكُونَ إِذَا سَمِعُوا صَوْتَهُ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ أَنْزَلَهُ وَمَنْ جَاءَ بِهِ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِنَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ﴾وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ﴿ [الإسراء: 110]: أَيْ بِقِرَاءَتِكَ فَيَسْمَعَ الْمُشْرِكُونَ فَيَسُبُّوا الْقُرْآنَ ﴾وَلَا تُخَافِتْ بِهَا﴿ [الإسراء: 110]: عَنْ أَصْحَابِكَ فَلَا يَسْمَعُوا ﴾وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا﴿ [الإسراء: 110]

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا “আপনি আপনার সালাত উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন না, আবার একেবারে নীরবেও পড়বেন না”- (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭: ১১০)আয়াত সম্বন্ধে তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয় তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কায় চুপে চুপে কোরআন পড়তেন। কিন্তু যখন তাঁর সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন, তখন তাঁর আওয়াজ উঁচু করে উচ্চৈঃস্বরে কোরআন পড়তেন। আর মুশরিকরা যখন তাঁর শব্দ শুনত তাঁরা কোরআনকে, কোরআন অবতরণকারীকে এবং যিনি এ কোরআন নিয়ে এসেছেন তাঁকে গালি দিত।তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবী (ﷺ)-কে বললেন, সালাতে আপনি উচ্চৈঃস্বরে কোরআন পাঠ করবেন না। মুশরিকরা কোরআন শুনতে পেলে তাঁরা কোরআনকে গালি দিবে। আর আপনার সাথীদের হতে তা চুপেও পড়বেন না। তা হলে তাঁরা শুনতে পাবে না। এতদুভয়ের মধ্যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০১১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় সালাতে কুরআন পাঠের আওয়াজে ভারসাম্য রাখা। ইবন আব্বাস (রাঃ) সূরা বনী ইসরাইলের ১১০ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মক্কায় গোপন অবস্থায় ছিলেন। সাহাবিদের নিয়ে সালাত পড়ার সময় তিনি কুরআন উচ্চস্বরে পাঠ করতেন। মুশরিকরা সেই আওয়াজ শুনে কুরআন, কুরআন অবতরণকারী এবং যিনি কুরআন নিয়ে এসেছেন—তাঁদের গালি দিত। তখন নির্দেশ আসে, সালাতে কিরাআত এত জোরে না পড়তে যেন তারা শুনে গালি দেয়। আবার এত নিচু স্বরেও না পড়তে, যাতে সাথীরা শুনতে না পায়। বরং দুই অবস্থার মাঝামাঝি পথ নিতে বলা হয়। হাদিসটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিরাআতের আওয়াজ কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল, তা পরিষ্কারভাবে জানায়। ফলে সাথীরা শুনতে পারতেন এবং ক্ষতির কারণও কমত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিরাআত এত জোরে না পড়তে বলা হয়েছে যাতে শত্রুরা গালি দেওয়ার সুযোগ পায়।
  • আবার এত নিচু স্বরেও নয় যাতে সাথীরা শুনতে না পায়।
  • দুই অবস্থার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ আওয়াজ বেছে নিতে বলা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন