১১/৮০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০১২ - কুরআন পাঠে জোর ও নীরবতার মাঝামাঝি পথ
মহান আল্লাহর বাণী- “ওয়ালা- তাজহার বিসালা-তিকা ওয়ালা- তুখা-ফিত্ বিহা-”- (সূরাহ্ বানী ইসরাঈল ১৭: ১১০)-এর ব্যাখ্যা
কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজে মাঝামাঝি পথের হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ১০১২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১০১২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنُ إِيَاسٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ، وَكَانَ الْمُشْرِكُونَ إِذَا سَمِعُوا صَوْتَهُ سَبُّوا الْقُرْآنَ وَمَنْ جَاءَ بِهِ، فَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْفِضُ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ مَا كَانَ يَسْمَعُهُ أَصْحَابُهُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: ﴾وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ﴿ [الإسراء: 110] بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) উচ্চৈঃস্বরে কোরআন পাঠ করতেন। আর মুশরিকরা যখন তাঁর আওয়াজ শুনতে পেত তখন তারা কোরআনকে এবং যিনি তা এনেছেন তাঁকে গালি দিত। তখন নবী (ﷺ) নিম্নস্বরে কোরআন পড়তে শুরু করলেন যা সহাবায়ি কিরাম শুনতে পেতেন না।তখন আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন, (আরবি) 'আপনি আপনার সালাত উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন না, আবার একেবারে নীরবেও পড়বেন না, বরং এ দু'য়ের মধ্যপন্থা অবলম্বন করুন"- (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭: ১১০)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১০১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশ এসেছে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) উচ্চস্বরে কুরআন পড়লে মুশরিকরা তাঁর আওয়াজ শুনত এবং কুরআন ও কুরআন নিয়ে আসা ব্যক্তিকে গালি দিত। এরপর তিনি আওয়াজ এত নিচু করেন যে সাহাবিরা আর শুনতে পারতেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলা সূরা বনী ইসরাইলের ১১০ নম্বর আয়াত নাজিল করেন। আয়াতে বলা হয়, সালাতে খুব উচ্চস্বরে পড়বেন না, আবার একেবারে নীরবও হবেন না; বরং দুইয়ের মাঝামাঝি একটি পথ নিন। হাদিসটির মূল শিক্ষা কিরাআতের আওয়াজে ভারসাম্য। এখানে ভারসাম্যের কারণও বলা হয়েছে—একদিকে অপমানের সুযোগ বন্ধ করা, অন্যদিকে সাথীদের শোনার সুযোগ রাখা। তাই বর্ণনাটি পরিস্থিতি বুঝে আওয়াজ ঠিক করার সরাসরি উদাহরণ। এভাবেই দুই চরম অবস্থার বদলে মাঝামাঝি পদ্ধতি রাখা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অতিরিক্ত উচ্চস্বরে পাঠের কারণে মুশরিকরা গালি দিত।
- অতিরিক্ত নিচু স্বরে পড়লে সাহাবিরা শুনতে পেতেন না।
- কুরআন পাঠে দুই অবস্থার মাঝামাঝি আওয়াজ নিতে বলা হয়েছে।
