১২/৮১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৪০ - শাফাআত ও সিজদার চিহ্ন
সাজদার স্থান
কিয়ামতে সিজদার চিহ্ন, শাফাআত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি
সুনানে আন-নাসায়ী : ১১৪০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১১৪০
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ لُوَيْنٌ بِالْمَصِّيْصَةِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، وَالنُّعْمَانُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي سَعِيدٍ فَحَدَّثَ أَحَدُهُمَا حَدِيثَ الشَّفَاعَةِ وَالْآخَرُ مُنْصِتٌ، قَالَ: فَتَأْتِي الْمَلَائِكَةُ فَتَشْفَعُ وَتَشْفَعُ الرُّسُلُ وَذَكَرَ الصِّرَاطَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُجِيزُ، فَإِذَا فَرَغَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنَ الْقَضَاءِ بَيْنَ خَلْقِهِ وَأَخْرَجَ مِنَ النَّارِ مَنْ يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَ أَمَرَ اللَّهُ الْمَلَائِكَةَ وَالرُّسُلَ أَنْ تَشْفَعَ، فَيُعْرَفُونَ بِعَلَامَاتِهِمْ إِنَّ النَّارَ تَأْكُلُ كُلَّ شَيْءٍ مِنَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا مَوْضِعَ السُّجُودِ، فَيُصَبُّ عَلَيْهِمْ مِنْ مَاءِ الْجَنَّةِ فَيَنْبُتُونَ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ»
'আত্বা ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) এবং আবু সা'ঈদ (রাঃ)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তাঁদের একজন শাফা'আতের হাদীস বর্ণনা করলেন, আর অন্যজন ছিলেন নিশ্চুপ। তিনি বলেন, অতঃপর মালাক (ফেরেশতা) এসে সুপারিশ করবেন এবং রাসূলগণ সুপারিশ করবেন, অতঃপর তিনি পুলসিরাতের উল্লেখ করে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যাদেরকে সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে তাঁদের মাঝে আমিই হব প্রথম।এরপর যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টির বিচারকার্য হতে অবসর গ্রহণ করবেন এবং জাহান্নাম হতে যাকে বের করতে ইচ্ছা করবেন তাকে বের করবেন। আল্লাহ তা'আলা মালাক ও রাসূলগণকে আদেশ করবেন সুপারিশ করার জন্যে। তখন তাঁরা তাদের চিহ্ন দ্বারা চিনে নিবেন যে, আদম সন্তানের সিজদার স্থান ব্যতীত আর সব কিছুই আগুন জ্বালিয়ে ফেলেছে। অতঃপর তাদের ওপর জান্নাতের পানি ঢেলে দেয়া হবে। তখন তারা নবজীবন লাভ করবে যেরূপ নালার ধারে বীজ গজিয়ে উঠে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের শাফাআত, পুলসিরাত এবং জাহান্নাম থেকে কিছু মানুষকে বের করার বর্ণনা এসেছে। ফেরেশতা ও রাসূলগণ আল্লাহর অনুমতিতে সুপারিশ করবেন। যাদের বের করার নির্দেশ হবে, তাদের একটি বিশেষ চিহ্নে চেনা যাবে—আগুন আদম সন্তানের দেহের অন্য অংশ জ্বালিয়ে দিলেও সিজদার স্থান গ্রাস করবে না। এরপর তাদের ওপর জান্নাতের পানি ঢালা হবে এবং তারা নালার ধারে বীজ গজানোর মতো নবজীবন লাভ করবে। এই হাদিসের মূল বিষয় ‘সিজদার চিহ্ন’ ও আল্লাহর অনুমতিতে শাফাআত। এখানে নিজের ইচ্ছায় কেউ কাউকে মুক্ত করবে—এমন কথা নেই; সবকিছু আল্লাহর বিচার, ইচ্ছা ও অনুমতির অধীন। বর্ণনাটি সিজদার মর্যাদা, আখিরাতের বিচার এবং আল্লাহর রহমতের আশা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাফাআত আল্লাহর অনুমতি ও আদেশের অধীন হবে।
- জাহান্নাম থেকে বের করা মানুষদের সিজদার চিহ্নে চেনা হবে।
- আগুন সিজদার স্থান গ্রাস করবে না—হাদিসে এ বিশেষ মর্যাদা এসেছে।
- জান্নাতের পানি ঢালার পর তাদের নবজীবন লাভের উপমা দেওয়া হয়েছে।
