১২/১০১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৭২ - জামাতে ইমামের অনুসরণ ও তাশাহুদ

তাশাহ্হুদের অন্য প্রকার

জামাতে নামাজে ইমামের অনুসরণ ও বৈঠকের তাশাহুদ

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১১৭২

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ أَبُو قُدَامَةَ السَّرْخَسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي قَتَادَةُ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ الْأَشْعَرِيَّ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَنَا فَعَلَّمَنَا سُنَّتَنَا وَبَيَّنَ لَنَا صَلَاتَنَا فَقَالَ: «أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ، ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَالَ: {وَلَا الضَّالِّينَ} [الفاتحة: 7]، فَقُولُوا: آمِينَ، يُجِبْكُمُ اللَّهُ، وَإِذَا كَبَّرَ الْإِمَامُ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الْإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ»، قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَتِلْكَ بِتِلْكَ، وَإِذَا قَالَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، فَقُولُوا: رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ، يَسْمَعِ اللَّهُ لَكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، ثُمَّ إِذَا كَبَّرَ الْإِمَامُ وَسَجَدَ، فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا، فَإِنَّ الْإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ»، قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَتِلْكَ بِتِلْكَ، فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدِكُمْ أَنْ يَقُولَ: التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ»

হিত্ত্বান ইবনু 'আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ মূসা আল আশ্'আরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে লক্ষ্য করে ভাষণ দিলেন, আমাদের সুন্নাত শিখালেন। আমাদের সালাতের ব্যাপারে বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের কাতার ঠিক করবে। এরপর তোমাদের একজন ইমাম হবে। যখন সে তাকবির বলবে, তখন তোমরাও তাকবির বলবে। আর যখন সে وَلَا الضَّالِّينَ 'ওয়ালায যো-ল্লীন” বলবে, তখন তোমরা آمِينَ “আ-মীন” বলবে। তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের দোয়া কবুল করবেন। আর যখন ইমাম তাকবির বলবে এবং রুকূ' করবে তখন তোমরাও তাকবির বলে রুকূ' করবে। কারণ ইমাম তোমাদের পূর্বে রুকূ' করবে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবে। আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেছেন: এটা তার পরিবর্তে হয়ে যাবে। আর যখন ইমাম سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ “সামি' আল্ল-হু লিমান হামিদাহ” বলবে, তখন তোমরা বলবে- رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ "রব্বানা- লাকাল হাম্দ"। কেননা, আল্লাহ তাঁর নবী (ﷺ)-এর ভাষায় বলেছেন, আল্লাহ ঐ ব্যক্তির কথা শুনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।এরপর যখন ইমাম তাকবির বলে সাজদাহ্ করবে তখন তোমরাও তাকবির বলে সাজদাহ্ করবে। কারণ, ইমাম তোমাদের পূর্বে সাজদাহ্ করবে আর তোমাদের পূর্বে মাথা উঠাবে। আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেছেন: এটা তার পরিবর্তে। আর যখন বৈঠকে পৌঁছবে, তখন তোমরা সর্বপ্রথম বলবে- “আত্তাহিয়‍্যাতু আত্ব ত্বইয়িবা-তু আস্ সলাওয়া-তু লিল্লা-হি আস্সালা-মু 'আলায়কা আইয়্যুহান্ নাবিয়্যু, ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহ। আস্সালা-মু 'আলায়না- ওয়া 'আলা- 'ইবা-দিল্লা-হিস্ স-লিহীন, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান 'আবদুহু ওয়া রাসূলুহ” (সকল প্রকার মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার ওপর আল্লাহর সালাম, রহমাত ও বারাকাত বর্ষিত হোক। আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মা'বুদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল)।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১১৭২-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে জামাতে সালাতের ধারাবাহিক নিয়ম শেখানো হয়েছে। প্রথমে কাতার ঠিক করতে বলা হয়েছে এবং একজনকে ইমাম বানাতে বলা হয়েছে। ইমাম তাকবির বললে মুসল্লিরাও তাকবির বলবে। তিনি “ওয়ালাদ্দল্লীন” বললে আমীন বলতে হবে। ইমাম রুকু করলে তাঁর পরে রুকু করতে হবে; তিনি “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বললে মুসল্লিরা “রব্বানা লাকাল হামদ” বলবে। একইভাবে ইমামের পরে সিজদায় যেতে হবে। বৈঠকে পৌঁছলে প্রথম কথা হিসেবে তাশাহুদ পড়তে বলা হয়েছে। এতে আল্লাহর জন্য সম্মান ও ইবাদত, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ওপর সালাম, নেক বান্দাদের জন্য সালাম এবং তাওহীদ-রিসালাতের সাক্ষ্য রয়েছে। তাই এই হাদিসের মূল বিষয় জামাতে ইমামের অনুসরণ; পাশাপাশি কাতার, আমীন, রুকু-সিজদা ও বৈঠকের পাঠও স্পষ্ট করা হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জামাতের আগে কাতার ঠিক করার নির্দেশ রয়েছে।
  • ইমামের তাকবির, রুকু ও সিজদা তাঁর পরে অনুসরণ করতে হবে।
  • ইমাম “ওয়ালাদ্দল্লীন” বললে আমীন বলতে বলা হয়েছে।
  • বৈঠকের শুরুতে তাশাহুদ পড়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন