১৩/১০৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৩৬৪ - তারাবির নামাজের ফজিলত
ইমাম সলাত শেষ করা পর্যন্ত যে ব্যক্তি তাঁর সাথে সলাত আদায় করে তার সাওয়াব
তারাবির নামাজের ফজিলত: ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৩৬৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৩৬৪
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرٌ وَهُوَ ابْنُ الْمُفَضَّلِ قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ:صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ مِنَ الشَّهْرِ، فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ نَحْوٌ مِنْ ثُلُثِ اللَّيْلِ، ثُمَّ كَانَتْ سَادِسَةٌ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا، فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ نَحْوٌ مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوْ نَفَلْتَنَا قِيَامَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ، قَالَ: «إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ»، قَالَ: ثُمَّ كَانَتِ الرَّابِعَةُ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا، فَلَمَّا بَقِيَ ثُلُثٌ مِنَ الشَّهْرِ أَرْسَلَ إِلَى بَنَاتِهِ وَنِسَائِهِ، وَحَشَدَ النَّاسَ، فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ، ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ، قَالَ دَاوُدُ: قُلْتُ: مَا الْفَلَاحُ؟ قَالَ: السُّحُورُ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা এক রমাযানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সিয়াম পালন করলাম, সে রমাযানে নাবী (ﷺ) আমাদের সাথে তারাবীহের সালাত আদায় করলেন না, যতদিন পর্যন্ত না মাসের সাতদিন অবশিষ্ট রইল; তখন তিনি আমাদের নিয়ে তারাবীহের সালাত আদায় করলেন। তাতে রাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়ে গেল। তারপর যখন ছয়দিন বাকি রইল, তখন তিনি আমাদের নিয়ে তারাবীহের সালাত আদায় করলেন না। পরে যখন পাঁচ দিন বাকি রইল আবার তিনি আমাদের সাথে তারাবীহের সালাত আদায় করলেন এবং তাতে রাতের প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেল। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনি আমাদেরকে নিয়ে পুরো রাত তারাবীহের সালাত আদায় করতেন! তিনি বললেন, কোন ব্যক্তি যখন ইমাম সালাম ফিরায়ে সালাত হতে বের হওয়া পর্যন্ত তার সাথে সালাত আদায় করে তার জন্যে এক পূর্ণ রাত সালাত আদায় করার সাওয়াব লেখা হয়।অতঃপর যখন চারদিন বাকি রইল তিনি তখন আমাদেরকে নিয়ে তারাবীহের সালাত আদায় করলেন না। অতঃপর যখন মাসের তিনদিন বাকি রইল, তিনি তাঁর কন্যা এবং বিবিদের কাছে লোক পাঠালেন এবং সাহাবীগণকে একত্র করলেন এবং আমাদের নিয়ে তারাবীহের সালাত এমনিভাবে আদায় করলেন যে, আমরা ভয় পেয়ে গেলাম আমরা ফালাহ-এর সময় না হারিয়ে ফেলি। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে ঐ মাসের আর কোনদিন তারাবীহের সালাত আদায় করেননি। রাবী দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, ফালাহ-এর অর্থ কি? তিনি বললেন, সাহরী খাওয়া।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৩৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের তারাবির সালাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কয়েক রাত সাহাবীদের নিয়ে রাতের সালাত আদায় করেন। কখনো রাতের এক-তৃতীয়াংশ, কখনো অর্ধেক, আবার শেষের দিকে এত দীর্ঘ সালাত আদায় করান যে সাহাবীরা সাহরির সময় নিয়ে চিন্তিত হন। সাহাবীরা পুরো রাত সালাত আদায়ের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি বলেন, কেউ ইমামের সাথে সালাত আদায় করে ইমাম শেষ করা পর্যন্ত থাকলে তার জন্য এক পূর্ণ রাতের কিয়াম লেখা হয়। তাই মূল শিক্ষা হলো, তারাবির নামাজে ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকা বড় ফজিলতের কাজ। হাদিসে সাহরিকে ‘ফালাহ’ বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানে রাতের সালাত বা তারাবির বিশেষ গুরুত্ব আছে।
- ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত সালাত আদায় করলে পূর্ণ রাতের কিয়ামের সওয়াব লেখা হয়।
- সাহাবীরা তারাবিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়াতেন।
- সাহরির সময়ের প্রতি সাহাবীদের খেয়াল ছিল।
