১/১১২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫২ - মযী বের হলে ওজুর বিধান
মাযী কখন উযূ নষ্ট করে এবং কখন করে না
মযী বের হলে কী করতে হবে: ওজুর বিধান
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৫২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৫২
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ: كُنْتُ رَجُلًا مَذَّاءً، - وَكَانَتِ ابْنَةُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحْتِي - فَاسْتَحْيَيْتُ أَنْ أَسْأَلَهُ، فَقُلْتُ لِرَجُلٍ جَالِسٍ إِلَى جَنْبِي: سَلْهُ. فَسَأَلَهُ فَقَالَ: «فِيهِ الْوُضُوءُ»
আবূ ‘আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি এমন ছিলাম যে, প্রায় আমার মাযী নির্গত হতো। আর নাবী (ﷺ)-এর কন্যা আমার স্ত্রী হওয়ায় আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জাবোধ করতাম। অতএব আমি আমার পাশে বসা এক ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে তাঁকে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে) জিজ্ঞেস করতে বললাম। অতঃপর সে জিজ্ঞেস করলে তিনি (ﷺ) বললেন, এতে ওজু করতে হবে।
[১] পেশাবের আগে বা পরে এবং সামান্য কামোত্তেজনার ফলে যে পাতলা সামান্য আঠাল পানি পুরুষাঙ্গ থেকে বের হয়, তাকে মযী বা বীর্যরস বলে। তা বের হলে উযূ ভঙ্গ হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী রাঃ নিজের একটি ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলেন। তাঁর প্রায়ই মযী বের হতো। যেহেতু নবী صلى الله عليه وسلم-এর কন্যা তাঁর স্ত্রী ছিলেন, তাই তিনি সরাসরি প্রশ্ন করতে লজ্জাবোধ করেন। তিনি পাশে বসা একজনকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করতে বলেন। প্রশ্ন করা হলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এতে ওজু করতে হবে। এখানে মূল শিক্ষা খুব পরিষ্কার: মযী বের হলে ওজু করতে হয়। এই বর্ণনায় গোসলের কথা বলা হয়নি; শুধু ওজুর কথা এসেছে। তাই ‘মযী বের হলে ওজু নাকি গোসল’—এ ধরনের প্রশ্নের ক্ষেত্রে এই হাদিসটি সরাসরি প্রাসঙ্গিক। একই সঙ্গে হাদিসটি শেখায়, লজ্জাজনক মনে হলেও প্রয়োজনীয় দ্বীনি মাসআলা জেনে নিতে হয়, তবে শালীনতা বজায় রেখে করা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মযী বের হলে ওজু করতে হবে—এ কথা হাদিসে স্পষ্ট।
- দ্বীনি মাসআলা জানার জন্য প্রশ্ন করা প্রয়োজনীয়।
- লজ্জা থাকলে শালীনভাবে অন্যের মাধ্যমে প্রশ্ন করা যায়।
- এই বর্ণনায় মযীর জন্য গোসলের নির্দেশ আসেনি।
