১৮/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৪৪ - ঈমানদারদের প্রিয় সালাত
ঈমানদারদের প্রিয় সালাত: ভয়কালীন নামাজের নির্দেশ
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৫৪৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৫৪৪
أَخْبَرَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْهُنَائِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَقِيقٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَازِلًا بَيْنَ ضَجْنَانَ وَعُسْفَانَ مُحَاصِرَ الْمُشْرِكِينَ، فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ: إِنَّ لِهَؤُلَاءِ صَلَاةً هِيَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنْ أَبْنَائِهِمْ وَأَبْكَارِهِمْ، أَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ ثُمَّ مِيلُوا عَلَيْهِمْ مَيْلَةً وَاحِدَةً، فَجَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَمَرَهُ أَنْ يَقْسِمَ أَصْحَابَهُ نِصْفَيْنِ، فَيُصَلِّيَ بِطَائِفَةٍ مِنْهُمْ، وَطَائِفَةٌ مُقْبِلُونَ عَلَى عَدُوِّهِمْ قَدْ أَخَذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ، فَيُصَلِّيَ بِهِمْ رَكْعَةً، ثُمَّ يَتَأَخَّرَ هَؤُلَاءِ وَيَتَقَدَّمَ أُولَئِكَ فَيُصَلِّيَ بِهِمْ رَكْعَةً تَكُونُ لَهُمْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَةً رَكْعَةً وَلِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَانِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুশরিকদের অবরোধ করে যজনান পর্বত এবং 'উসফান নামক স্থানের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করেছিলেন। তখন মুশরিকরা বলল যে, তাঁদের জন্যে এমন একটি সালাত (আসর) রয়েছে, যা তাঁদের কাছে তাঁদের সন্তান-সন্ততি এবং কুমারী স্ত্রী হতেও বেশি প্রিয়। তোমরা দৃঢ় সিদ্ধান্ত নাও। অতঃপর তাঁদের ওপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়বে।তখন জিবরীল (আঃ) এসে তাঁকে বললেন তিনি যেন তাঁর সাহাবীদের দু’ দলে বিভক্ত করে দেন এবং তাঁদের একদলকে নিয়ে সালাত আদায় করেন ও আর একদল যে তাঁদের শত্রুর মুখোমুখি থাকে তাঁরা সতর্ক ও সশস্ত্র থাকবে। আর তিনি তাঁদের (একদল) নিয়ে এক রাক্’আত সালাত আদায় করবেন। অতঃপর তাঁরা পেছনে সরে যাবে এবং তাঁরা (অন্য দল) সামনে আসবে এবং তাঁদের নিয়ে তিনি এক রাক’আত সালাত আদায় করবেন। তাঁদের জন্যে হবে এক এক রাক্’আত করে আর নাবী (ﷺ)-এর হবে দু’ রাক্’আত।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মুশরিকদের অবরোধ করে যজনান ও উসফানের মাঝামাঝি ছিলেন। মুশরিকরা বুঝেছিল, মুসলিমদের কাছে সালাত খুব প্রিয়। তারা একযোগে আক্রমণের কথা ভাবছিল। তখন জিবরীল আঃ এসে রাসূল صلى الله عليه وسلم-কে নির্দেশ দিলেন, সাহাবীদের দুই ভাগ করতে। একদল তাঁর সাথে সালাত আদায় করবে, আর অন্যদল শত্রুর মুখোমুখি সতর্ক ও সশস্ত্র থাকবে। প্রথম দল এক রাকাত আদায়ের পর সরে যাবে, তারপর দ্বিতীয় দল এসে এক রাকাত আদায় করবে। নবী صلى الله عليه وسلم-এর হবে দুই রাকাত, আর প্রত্যেক দলের হবে এক রাকাত। হাদিসটি দেখায়, সালাত মুসলিম জীবনে কত গভীরভাবে জড়িত, এমনকি ভয়ের সময়ও।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শত্রুর আশঙ্কার মধ্যেও সালাতের গুরুত্ব কমে না।
- সতর্কতা ও ইবাদত একসাথে পালন করা হয়েছে।
- দল ভাগ করে জামাতের সালাত আদায়ের পদ্ধতি এসেছে।
- সালাত মুসলিমদের কাছে খুব প্রিয় ইবাদত হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
