২০/৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭০৪ - রাতের সালাত, মিসওয়াক ও তিন রাকাত বিতর
বিত্রের সলাতের ব্যাপারে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে হাবীব ইবনু সাবিত-এর ওপর মতানৈক্য
রাতের নামাজে মিসওয়াক, ছয় রাকাত ও তিন রাকাত বিতর
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭০৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৭০৪
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ «قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَاسْتَنَّ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ نَامَ، ثُمَّ قَامَ فَاسْتَنَّ، ثُمَّ تَوَضَّأَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى صَلَّى سِتًّا، ثُمَّ أَوْتَرَ بِثَلَاثٍ، وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ»
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ ইবনু 'আলী-এর দাদা 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে গেলেন, অতঃপর মিসওয়াক করে দু' রাক'আত সালাত আদায় করলেন। পরে শুয়ে গেলেন এরপর জেগে মিসওয়াক করলেন, অতঃপর ওজু করে দু' রাক'আত সালাত আদায় করলেন, এভাবে ছয় রাক'আত পর্যন্ত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিন রাক'আত বিত্রের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দু' রাক'আত সালাত আদায় করলেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় রাতের সালাত ও বিতর। নবী (صلى الله عليه وسلم) রাতে জেগে প্রথমে মিসওয়াক করে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। পরে শুয়ে আবার জেগে মিসওয়াক ও ওজু করে দুই রাকাত পড়েন। এভাবে মোট ছয় রাকাত পর্যন্ত আদায়ের কথা এসেছে। এরপর তিনি তিন রাকাত বিতর পড়েন এবং তার পর আরও দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। বর্ণনাটি রাতের ইবাদতের একটি পর্যায়ক্রমিক চিত্র দেয়—জাগা, পরিচ্ছন্ন হওয়া, দুই রাকাত করে সালাত, তারপর বিতর এবং শেষে দুই রাকাত। তবে এই হাদিসে প্রতিটি ঘুমের সময়, কিরাত বা সালাতের অন্য বিস্তারিত বলা হয়নি। তাই রাতের নামাজের নিয়ম ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেবল এখানে উল্লেখিত ধাপগুলোই বলা উচিত। প্রতিটি অংশ আলাদা করে বুঝলে বর্ণনাটি পরিষ্কার থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতে জাগার পর মিসওয়াক করার আমল বর্ণিত হয়েছে।
- দুই রাকাত করে মোট ছয় রাকাত পড়ার পর তিন রাকাত বিতর আদায় করা হয়েছে।
- বিতরের পর আরও দুই রাকাত সালাতের কথা এসেছে।
