২০/৫০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭৪৪ - ইমামের পেছনে উচ্চস্বরে কিরাআতের সতর্কতা
কৃতাদাহ্ সূত্রে বর্ণিত হাদীসে শু‘বাহ্ (রহঃ)-এর ওপর মতানৈক্য
জামাতে ইমামের পেছনে কিরাআত ও সালাতের শৃঙ্খলা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৪৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৭৪৪
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ، فَقَرَأَ رَجُلٌ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى، فَلَمَّا صَلَّى قَالَ: «مَنْ قَرَأَ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى؟» قَالَ رَجُلٌ: أَنَا، قَالَ: " قَدْ عَلِمْتُ أَنَّ بَعْضَهُمْ خَالَجَنِيهَا
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার যুহরের সালাত আদায় করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি "সাব্বিহিস্যা রব্বিকাল আ'লা-" পাঠ করল? তিনি (ﷺ) সালাত শেষে প্রশ্ন করলেন (এ সূরা) "সাব্বিহিস্যা রব্বিকাল আ'লা-" কে পাঠ করেছিল। এক ব্যক্তি বলল, আমি। তিনি বললেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, তোমাদের কেউ সালাতে আমাকে বিরক্ত করছে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যুহরের জামাতের একটি ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাত আদায় করাচ্ছিলেন, আর একজন মুসল্লি সূরা আল-আ'লা এমনভাবে পাঠ করেছিলেন যে নবী (صلى الله عليه وسلم) তা বুঝতে পারেন। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করেন, কে সূরাটি পাঠ করেছে। একজন নিজের কথা জানালে তিনি বলেন, তাঁর মনে হয়েছে কেউ কিরাআতে তাঁকে বিরক্ত করছে। হাদিসের মূল শিক্ষা জামাতের সালাতে শৃঙ্খলা ও ইমামের প্রতি মনোযোগ রাখা। বিশেষ করে নীরব কিরাআতের সালাতেও এমন শব্দে পড়া ঠিক নয়, যা ইমামের কিরাআতে ব্যাঘাত ঘটায়। এখানে কিরাআতের সব বিস্তারিত বিধান আলোচনা করা হয়নি; শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার মাধ্যমে বিরক্তি সৃষ্টি না করার দিকটি এসেছে। তাই “ইমামের পেছনে কিরাআত” বিষয়ে এই হাদিস ব্যবহার করলে মূল বক্তব্যকে সীমিত ও পরিষ্কারভাবে বলা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাতে এমনভাবে কিরাআত করা উচিত নয়, যাতে ইমাম বিরক্ত হন।
- সালাতের শৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসল্লির দায়িত্ব।
- ঘটনা জানার জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم) সালাত শেষে প্রশ্ন করেছিলেন।
- হাদিসটি সব ধরনের কিরাআতের পূর্ণ বিধান নয়; নির্দিষ্ট বিরক্তির ঘটনা বর্ণনা করে।
