২০/৫১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭৪৫ - বিতরের দোয়া কুনূত ও এর অর্থ
বিত্রের সলাতে দু‘আ পড়া
বিতরের দোয়া কুনূত: হিদায়াত, ক্ষমা ও বরকতের আবেদন
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৭৪৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৭৪৫
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَقَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ، قَالَ: قَالَ الْحَسَنُ: عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي الْوِتْرِ فِي الْقُنُوتِ: «اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ، إِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ»
হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবুল হাওরা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাসান (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কিছু বাক্য শিক্ষা দিয়েছিলেন যেগুলো আমি বিতরের কুনূতে পড়ে থাকি- "আল্ল-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদায়তা ওয়া 'আ-ফিনী ফীমান 'আ-ফায়তা ওয়াতা ওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লায়তা ওয়াবা-রিক লী ফীমা- আ'ত্বয়তা ওয়াক্বিনী শারা মা- কৃযয়তা ইন্নাকা তাক্বযী ওয়ালা- ইউকুযা- 'আলায়কা ওয়া ইন্নাহু লা- ইয়াযিল্লু মাও ওয়া-লায়তা তাবা-রকতা রব্বানা- ওয়া তা'আ-লায়তা” (হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে সুপথ দেখিয়েছো, আমাকেও তাদের মধ্যে গণ্য করে সুপথ দেখাও। যাদেরকে তুমি মাফ করেছো, আমাকেও তাদের মধ্যে গণ্য করে মাফ করে দাও, তুমি যাদের অভিভাবক হয়েছো, তাদের মধ্যে গণ্য করে আমারও অভিভাবক হয়ে যাও। তুমি আমাকে যা দান করেছো, তাতে বারাকাত দাও। তুমি যে ফায়সালা করে রেখেছো তার অনিষ্ট হতে আমাকে বাঁচাও। কেননা তুমি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকো, তোমার বিরুদ্ধে কেউ সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তুমি যার সাথে বন্ধুত্ব রাখো, সে কোনদিন অপমানিত হয় না। )।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৭৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাসান (রাঃ)-কে বিতরের কুনূতে পড়ার কয়েকটি বাক্য শিখিয়েছেন। দোয়াটিতে প্রথমে হিদায়াত চাওয়া হয়েছে—আল্লাহ যাদের সৎপথ দেখিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাদেরও সৎপথ দেখান। এরপর মাফ ও নিরাপত্তা, আল্লাহর অভিভাবকত্ব, দেওয়া নিয়ামতে বরকত এবং নির্ধারিত অনিষ্ট থেকে রক্ষা চাওয়া হয়েছে। দোয়ার শেষ অংশে স্বীকার করা হয়েছে যে সিদ্ধান্ত আল্লাহই দেন; তাঁর ওপর কারও সিদ্ধান্ত চলে না। তিনি যাকে বন্ধু ও অভিভাবক করেন, সে অপমানিত হয় না। তাই দোয়া কুনূতের বাংলা অর্থ বুঝে পড়লে আবেদনগুলো মনোযোগ দিয়ে বলা সহজ হয়। এই হাদিসে দোয়ার শব্দ ও অর্থই মূল বিষয়; কুনূতের অবস্থান বা হাত তোলার পদ্ধতির বিস্তারিত এখানে বলা হয়নি। দোয়ার প্রতিটি আবেদন আল্লাহর ওপর নির্ভরতার কথা মনে করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিতরের কুনূতে আল্লাহর কাছে হিদায়াত চাওয়া হয়।
- ক্ষমা, নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্বের আবেদন দোয়াটিতে আছে।
- প্রাপ্ত নিয়ামতে বরকত এবং অনিষ্ট থেকে রক্ষা চাওয়া হয়েছে।
- আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও কর্তৃত্বের প্রতি পূর্ণ স্বীকৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
