২১/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮২৫ - মুমূর্ষুর কাছে ভালো কথা ও ক্ষমার দোয়া
মৃত্যুকে অধিক হারে স্মরণ করা
মুমূর্ষুর কাছে ভালো কথা বলুন, ফেরেশতারা আমীন বলেন
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৮২৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৮২৫
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ يَحْيَى، عَنْ الْأَعْمَشِ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا حَضَرْتُمُ الْمَرِيضَ فَقُولُوا خَيْرًا، فَإِنَّ الْمَلَائِكَةَ يُؤَمِّنُونَ عَلَى مَا تَقُولُونَ»، فَلَمَّا مَاتَ أَبُو سَلَمَةَ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ أَقُولُ؟ قَالَ: «قُولِي اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَلَهُ، وَأَعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبَى حَسَنَةً»، فَأَعْقَبَنِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْهُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উম্মু সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- বলতে শুনেছি যে, তোমরা যখন মৃত্যুমুখী মানুষের কাছে যাও তখন তোমরা ভালো কথা বলবে। কেননা তোমরা যা বল সে কথার উপর মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) আ-মীন বলেন। অতঃপর যখন আবূ সালামাহ্ (রাঃ)-এর ইন্তিকাল হল; আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি তাঁর সম্পর্কে কি রকম বাক্য ব্যবহার করব। তিনি বললেন, তুমি বলবে: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَلَهُ، وَأَعْقِبْنِي مِنْهُ عُقْبَى حَسَنَةً [আল্ল-হুম্মাগফির লানা- ওয়ালাহু ওয়া আ'ক্বিবনী মিনহু 'উকুবা- হাসানাহ্। “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এবং তাঁকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাকে তাঁর স্থলে উত্তম প্রতিদান দিন।" তাই আল্লাহ তা'আলা আমাকে তাঁর পরিবর্তে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রতিদান স্বরূপ দিয়েছেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুমূর্ষু মানুষের কাছে উপস্থিত হলে ভালো কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ উপস্থিত লোকেরা যা বলে, ফেরেশতারা তার উপর আমীন বলেন। তাই শোক, ভয় বা অস্থিরতার মুহূর্তে খারাপ কথা, অভিযোগ বা হতাশার বাক্য না বলে কল্যাণের দোয়া বলা উচিত। আবু সালামা (রাঃ)-এর ইন্তিকালের পর উম্মু সালামা (রাঃ) কী বলবেন জানতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) ক্ষমা ও উত্তম প্রতিদানের দোয়া শিখিয়েছেন। বর্ণনায় আরও এসেছে, আল্লাহ তাঁকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে প্রতিদান হিসেবে দিয়েছেন। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, মৃত্যুর সময়ে মুখের কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কথা, ক্ষমার দোয়া এবং উত্তম বদলের আশা—এসবই শোকের সময় সঠিক ভাষা গড়ে দেয়। তাই মুমূর্ষুর ঘরে উপস্থিত প্রত্যেকের ভাষা হওয়া উচিত শান্ত, দোয়াময় এবং কল্যাণকামী।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমূর্ষু বা মৃতের কাছে ভালো কথা বলা উচিত।
- শোকের মুহূর্তে ক্ষমা ও কল্যাণের দোয়া করতে হবে।
- ফেরেশতারা উপস্থিত লোকদের ভালো কথায় আমীন বলেন।
- ক্ষতির পর আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদান চাওয়া যায়।
