২১/১১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৭২ - কেয়ামত পর্যন্ত মৃতের বাসস্থান প্রদর্শন
ক্বরের উপর খেজুরের ডাল রাখা
কেয়ামত পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির বাসস্থান দেখানোর বর্ণনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৭২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ وَاللَّفْظُ لَهُ، عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ عُرِضَ عَلَى مَقْعَدِهِ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَيُقَالُ: هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ মারা যায় তখন সকাল-সন্ধ্যা তার বাসস্থান তাকে দেখানো হয়। যদি সে জান্নাতী হয় তবে জান্নাতীদের স্থান। আর জাহান্নামী হলে জাহান্নামীদের স্থান দেখিয়ে বলা হয়, এটা তোমার স্থান। এ ধারা চলে কিয়ামতের দিন মহান ও মহীয়ান আল্লাহর উঠানো পর্যন্ত।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৭২-এর সারসংক্ষেপ
রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেউ মারা গেলে সকাল ও সন্ধ্যায় তার বাসস্থান তাকে দেখানো হয়। সে জান্নাতি হলে জান্নাতিদের স্থান, আর জাহান্নামি হলে জাহান্নামিদের স্থান দেখানো হয়। তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এটাই তার স্থান; কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে উঠানো পর্যন্ত এই ধারা চলবে। এই হাদিসে মৃত্যুর পরের জীবন, জান্নাত-জাহান্নামের পরিণতি এবং কেয়ামতের পুনরুত্থান—তিনটি বিষয় খুব সংক্ষেপে একসঙ্গে এসেছে। এতে স্পষ্ট হয়, মৃত্যু শেষ গন্তব্য নয়। তবে মৃত ব্যক্তি কীভাবে সেই স্থান দেখে কিংবা সকাল-সন্ধ্যার ধরন কেমন—এসব প্রশ্নের উত্তর এই বর্ণনায় নেই। তাই হাদিসের সরাসরি বক্তব্যের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। একজন পাঠকের জন্য বাস্তব শিক্ষা হলো, আখিরাতের পরিণতি মনে রেখে জীবন কাটানো। জান্নাতের উল্লেখ আশা দেয়, আর জাহান্নামের উল্লেখ গুনাহ ও অবহেলা থেকে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত ব্যক্তিকে তার চূড়ান্ত বাসস্থান দেখানো হয়।
- এই প্রদর্শন সকাল ও সন্ধ্যায় হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে।
- কেয়ামতের পুনরুত্থান পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে।
- জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের সতর্কতা মনে রেখে জীবন যাপন করা উচিত।
