২১/১১৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৭৮ - পুনরুত্থান ও আল্লাহর একত্ব
মু‘মিনদের রূহসমূহ
পুনরুত্থান অস্বীকার ও আল্লাহর একত্বের স্পষ্ট শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২০৭৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২০৭৮
أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ، وَلَمْ يَكُنْ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يُكَذِّبَنِي، وَشَتَمَنِي ابْنُ آدَمَ، وَلَمْ يَكُنْ يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْتُمَنِي، أَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّايَ، فَقَوْلُهُ: إِنِّي لَا أُعِيدُهُ كَمَا بَدَأْتُهُ، وَلَيْسَ آخِرُ الْخَلْقِ بِأَعَزَّ عَلَيَّ مِنْ أَوَّلِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّايَ، فَقَوْلُهُ: اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا وَأَنَا اللَّهُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ، لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفُوًا أَحَدٌ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা বলেন, আদাম সন্তান আমাকে অস্বীকার করে অথচ আমাকে অস্বীকার করা তার জন্য উচিত ছিল না। আদাম সন্তান আমাকে গালি দেয় অথচ তার জন্য উচিত ছিল না আমাকে গালি দেয়া।আমাকে তার অস্বীকার করার অর্থ হল তার এ কথা বলা যে, আমি তাকে পুনরায় সৃষ্টি করব না যেভাবে প্রথমে সৃষ্টি করেছিলাম। অথচ দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা আমার জন্য প্রথমবার সৃষ্টি করা অপেক্ষা কোনো কঠিন ব্যাপারই নয়। আর আমাকে তার গালি দেয়ার অর্থ হল: সে বলে যে, আল্লাহ তা'আলা সন্তান গ্রহণ করেছেন অথচ আমি আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়, কারো মুখাপেক্ষী নই, আমি কাউকে জন্মও দেইনি আর আমি কারো জাতও নই। আর আমার সমকক্ষও কেউ নেই।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২০৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহ জানান, আদম সন্তান তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে যখন বলে, প্রথমবার সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তাকে আবার সৃষ্টি করবেন না। অথচ পুনরায় সৃষ্টি করা আল্লাহর জন্য প্রথম সৃষ্টির চেয়ে কঠিন নয়। মানুষ আল্লাহকে গালি দেয় যখন তাঁর সন্তান আছে বলে দাবি করে। আল্লাহ নিজেই জানান, তিনি একক, অদ্বিতীয় ও কারও মুখাপেক্ষী নন; তিনি কাউকে জন্ম দেননি, তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। হাদিসটির দুটি মূল বিষয়: কেয়ামতের পুনরুত্থান এবং আল্লাহর একত্ব। এখানে পুনরায় সৃষ্টি অস্বীকারকে আল্লাহর বাণী অস্বীকার হিসেবে দেখানো হয়েছে। একইভাবে আল্লাহর জন্য সন্তান দাবি করাকে গুরুতর মিথ্যা আরোপ বলা হয়েছে। একজন মুসলিমের বিশ্বাসে তাই পুনরুত্থান এবং তাওহীদ—দুটিই স্পষ্ট ও অবিচ্ছেদ্য। ব্যাখ্যায় হাদিসের সরাসরি কথার বাইরে কোনো সম্প্রদায় বা ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বাড়তি মন্তব্য না করাই যথাযথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহ প্রথমবারের মতো আবারও মানুষকে সৃষ্টি করতে সক্ষম।
- পুনরুত্থান অস্বীকার করা আল্লাহর বাণী অস্বীকারের শামিল।
- আল্লাহ একক, অমুখাপেক্ষী এবং তাঁর কোনো সন্তান নেই।
- আল্লাহর কোনো সমকক্ষ নেই—এটাই হাদিসের স্পষ্ট তাওহীদের শিক্ষা।
