২২/৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১০০ - রমজানে রহমতের দরজা
যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য
রমজানে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়
সুনানে আন-নাসায়ী : ২১০০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২১০০
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي أَنَسٍ، مَوْلَى التَّيْمِيِّينَ، أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: রমজান মাসের আগমনে রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২১০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় রমজান মাসে আল্লাহর রহমতের বিশেষ সুযোগ। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন—রমজান এলে রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। আগের মিলযুক্ত বর্ণনায় জান্নাতের দরজা বলা হয়েছে, আর এখানে সরাসরি রহমতের দরজা শব্দটি এসেছে। তাই এই হাদিস রমজানকে আল্লাহর দয়া পাওয়ার আশাব্যঞ্জক সময় হিসেবে তুলে ধরে। তবে রহমতের দরজা খোলা মানে চেষ্টা ছাড়াই সব ফল নিশ্চিত—এমন কথা হাদিসে নেই। বরং মুমিনের কাজ হলো এই সময়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, ফরজ রোজা পালন করা, সালাত ও ভালো কাজে যত্নবান হওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা। হাদিসটির সংক্ষিপ্ত বার্তা হলো, রমজান রহমতের সুযোগ, জাহান্নাম থেকে বাঁচার আশা এবং শয়তানের প্রভাবের বিরুদ্ধে বিশেষ সহায়তার মাস।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজান এলে রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়।
- জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয়।
- শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।
- রহমতের সুযোগ পেতে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার চেষ্টা করা উচিত।
