সাওম [রোযা]
২২/১. অধ্যায়ঃ
সওম ফার্য হওয়া
সুনানে নাসাঈ : ২০৯০
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২০৯০
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَائِرَ الرَّأْسِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي مَاذَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ؟ قَالَ: «الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ شَيْئًا»، قَالَ: أَخْبِرْنِي بِمَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنَ الصِّيَامِ؟ قَالَ: «صِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ إِلَّا أَنْ تَطَوَّعَ شَيْئًا»، قَالَ: أَخْبِرْنِي بِمَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنَ الزَّكَاةِ؟ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَرَائِعِ الْإِسْلَامِ، فَقَالَ: وَالَّذِي أَكْرَمَكَ، لَا أَتَطَوَّعُ شَيْئًا لَا أَنْقُصُ مِمَّا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيَّ شَيْئًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ أَوْ دَخَلَ الْجَنَّةَ إِنْ صَدَقَ»
তালহা ইব্ন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এলোমেলো চুলবিশিষ্ট এক গ্রাম্যবক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহ আমার ওপর যে সালাত ফরজ করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিন। তিনি বললেন, আল্লাহ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তবে হ্যাঁ, তুমি চাইলে নফল আদায় করতে পার। তারপর সে বললো, আল্লাহ আমার ওপর যে সাওম ফরজ করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিন। তিনি (ﷺ) বললেন, রমজান মাসের সাওম। তবে হ্যাঁ, তুমি চাইলে নফল আদায় করতে পার।অতঃপর সে বললো, আল্লাহ আমার ওপর যে জাকাত ফরজ করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইসলামী শরীয়ার আহকাম সম্পর্কে জানালেন। অতঃপর সে বললো, সেই সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন আমি কোনো নফলও আদায় করব না এবং আল্লাহ আমার ওপর যা ফরজ করেছেন তাতে কিছু কমতিও করব না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি সে সত্যই বলে থাকে তবে সে সফলকাম। অথবা তিনি (ﷺ) বললেন, যদি সে সত্যই বলে থাকে তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
সুনানে নাসাঈ : ২০৯১
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২০৯১
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: نُهِينَا فِي الْقُرْآنِ أَنْ نَسْأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ شَيْءٍ، فَكَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ الْعَاقِلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَيَسْأَلَهُ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَتَانَا رَسُولُكَ فَأَخْبَرَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَرْسَلَكَ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ السَّمَاءَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ خَلَقَ الْأَرْضَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ نَصَبَ فِيهَا الْجِبَالَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَمَنْ جَعَلَ فِيهَا الْمَنَافِعَ؟ قَالَ: «اللَّهُ»، قَالَ: فَبِالَّذِي خَلَقَ السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ، وَنَصَبَ فِيهَا الْجِبَالَ، وَجَعَلَ فِيهَا الْمَنَافِعَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا زَكَاةَ أَمْوَالِنَا، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرِ رَمَضَانَ فِي كُلِّ سَنَةٍ، قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: وَزَعَمَ رَسُولُكَ أَنَّ عَلَيْنَا الْحَجَّ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا؟ قَالَ: «صَدَقَ»، قَالَ: فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»، قَالَ: فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَا أَزِيدَنَّ عَلَيْهِنَّ شَيْئًا وَلَا أَنْقُصُ، فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَئِنْ صَدَقَ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কুরআনে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে যেন নবী (ﷺ)-এর কাছে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন না করি। তাই আমরা মনে মনে আশা করতাম যেন গ্রাম থেকে কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি এসে তাঁকে (রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে) প্রশ্ন করে। ইতিমধ্যে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি এসে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমাদের কাছে আপনার দূত এসেছিলেন। তিনি আমাদের বললেন যে, আপনি নাকি দাবি করেন যে, মহান ও মহীয়ান আল্লাহ আপনাকে রসূল করে পাঠিয়েছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, সে সত্যই বলেছে।অতঃপর সে প্রশ্ন করল: তাহলে আসমান কে সৃষ্টি করেছে? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ। অতঃপর সে প্রশ্ন করল: জমিন কে সৃষ্টি করেছে? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ। তারপর সে প্রশ্ন করল: জমিনে পাহাড়সমূহ কে স্থাপন করেছে? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ। এরপর সে প্রশ্ন করল: এবং তাতে উপকারী গাছপালা কে সৃষ্টি করেছে? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ।অতঃপর সে বলল: ঐ সত্তার কসম যিনি আসমান এবং জমিন সৃষ্টি করেছেন আর তাতে পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন এবং তাতে উপকারী বৃক্ষসমূহ সৃষ্টি করেছেন—আল্লাহ কি আপনাকে রসূল করে পাঠিয়েছেন? তিনি (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর সে বলল: আপনার দূত বলেন যে, আমাদের ওপর প্রতি দিন রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ? তিনি (ﷺ) বললেন: সে সত্যই বলেছে। অতঃপর সে বলল: ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে রসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে এর আদেশ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর সে বলল: আপনার দূত বলেন যে, আমাদের ওপর ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করা ফরজ? তিনি (ﷺ) বললেন: সে তো সত্যই বলেছে। সে বলল: সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা কি আপনাকে এর আদেশ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর সে বলল: আপনার দূত বলেন যে, আমাদের ওপর প্রতি বছর রমজানের সাওম ফরজ? তিনি বললেন: সে তো সত্যই বলেছে। সে বলল, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর আদেশ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর সে বলল: আপনার দূত বলেন যে, আমাদের মধ্যে যারা খরচ বহনে সক্ষম তাদের ওপর হজ্জ ফরজ? তিনি (ﷺ) বললেন: সে তো সত্যই বলেছে। সে বললো, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আল্লাহ কি আপনাকে এর আদেশ করেছেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর সে বলল ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আমি এর থেকে কোনো কিছু কমও করবো না এবং বেশিও করবো না। যখন সে ফিরে গেলো, তখন নবী (ﷺ) বললেন, যদি সে তার কথায় সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।
