কাসামাহ

৪৬/১. অধ্যায়ঃ

জাহিলী যুগে প্রচলিত কুসামার বর্ণনা

সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৪৭০৬

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَطَنٌ أَبُو الْهَيْثَمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَزِيدَ الْمَدَنِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: " أَوَّلُ قَسَامَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، كَانَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ اسْتَأْجَرَ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ، مِنْ فَخِذِ أَحَدِهِمْ قَالَ: فَانْطَلَقَ مَعَهُ فِي إِبِلِهِ، فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدِ انْقَطَعَتْ عُرْوَةُ جُوَالِقِهِ، فَقَالَ: أَغِثْنِي بِعِقَالٍ أَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِي لَا تَنْفِرُ الْإِبِلُ، فَأَعْطَاهُ عِقَالًا يَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِهِ، فَلَمَّا نَزَلُوا، وَعُقِلَتْ الْإِبِلُ إِلَّا بَعِيرًا وَاحِدًا، فَقَالَ الَّذِي اسْتَأْجَرَهُ: مَا شَأْنُ هَذَا الْبَعِيرِ، لَمْ يُعْقَلْ مِنْ بَيْنِ الْإِبِلِ؟ قَالَ: لَيْسَ لَهُ عِقَالٌ قَالَ: فَأَيْنَ عِقَالُهُ؟ قَالَ: مَرَّ بِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ قَدِ انْقَطَعَتْ عُرْوَةُ جُوَالِقِهِ فَاسْتَغَاثَنِي، فَقَالَ: أَغِثْنِي بِعِقَالٍ أَشُدُّ بِهِ عُرْوَةَ جُوَالِقِي، لَا تَنْفِرُ الْإِبِلُ، فَأَعْطَيْتُهُ عِقَالًا فَحَذَفَهُ بِعَصًا كَانَ فِيهَا أَجَلُهُ، فَمَرَّ بِهِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ فَقَالَ: أَتَشْهَدُ الْمَوْسِمَ؟ قَالَ: مَا أَشْهَدُ، وَرُبَّمَا شَهِدْتُ، قَالَ: هَلْ أَنْتَ مُبَلِّغٌ عَنِّي رِسَالَةً مَرَّةً مِنَ الدَّهْرِ؟ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: إِذَا شَهِدْتَ الْمَوْسِمَ فَنَادِ: يَا آلَ قُرَيْشٍ، فَإِذَا أَجَابُوكَ، فَنَادِ: يَا آلَ هَاشِمٍ، فَإِذَا أَجَابُوكَ، فَسَلْ عَنْ أَبِي طَالِبٍ، فَأَخْبِرْهُ أَنَّ فُلَانًا قَتَلَنِي فِي عِقَالٍ، وَمَاتَ الْمُسْتَأْجَرُ، فَلَمَّا قَدِمَ الَّذِي اسْتَأْجَرَهُ، أَتَاهُ أَبُو طَالِبٍ فَقَالَ: مَا فَعَلَ صَاحِبُنَا؟ قَالَ: مَرِضَ، فَأَحْسَنْتُ الْقِيَامَ عَلَيْهِ، ثُمَّ مَاتَ، فَنَزَلْتُ، فَدَفَنْتُهُ، فَقَالَ كَانَ ذَا أَهْلَ ذَاكَ مِنْكَ، فَمَكُثَ حِينًا، ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَ الْيَمَانِيَّ الَّذِي كَانَ أَوْصَى إِلَيْهِ أَنْ يُبَلِّغَ عَنْهُ، وَافَى الْمَوْسِمَ، قَالَ: يَا آلَ قُرَيْشٍ، قَالُوا: هَذِهِ قُرَيْشٌ، قَالَ: يَا آلَ بَنِي هَاشِمٍ، قَالُوا: هَذِهِ بَنُو هَاشِمٍ، قَالَ: أَيْنَ أَبُو طَالِبٍ؟ قَالَ: هَذَا أَبُو طَالِبٍ، قَالَ: أَمَرَنِي فُلَانٌ أَنْ أُبَلِّغَكَ رِسَالَةً، أَنَّ فُلَانًا قَتَلَهُ فِي عِقَالٍ، فَأَتَاهُ أَبُو طَالِبٍ، فَقَالَ: اخْتَرْ مِنَّا إِحْدَى ثَلَاثٍ إِنْ شِئْتَ أَنْ تُؤَدِّيَ مِائَةً مِنَ الْإِبِلِ، فَإِنَّكَ قَتَلْتَ صَاحِبَنَا خَطَأً، وَإِنْ شِئْتَ يَحْلِفْ خَمْسُونَ مِنْ قَوْمِكَ أَنَّكَ لَمْ تَقْتُلْهُ، فَإِنْ أَبَيْتَ قَتَلْنَاكَ بِهِ. فَأَتَى قَوْمَهُ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُمْ، فَقَالُوا: نَحْلِفُ، فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ كَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْهُمْ قَدْ وَلَدَتْ لَهُ. فَقَالَتْ: يَا أَبَا طَالِبٍ، أُحِبُّ أَنْ تُجِيزَ ابْنِي هَذَا بِرَجُلٍ مِنَ الْخَمْسِينَ، وَلَا تُصْبِرْ يَمِينَهُ، فَفَعَلَ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَقَالَ: يَا أَبَا طَالِبٍ، أَرَدْتَ خَمْسِينَ رَجُلًا أَنْ يَحْلِفُوا مَكَانَ مِائَةٍ مِنَ الْإِبِلِ، يُصِيبُ كُلَّ رَجُلٍ بَعِيرَانِ فَهَذَانِ بَعِيرَانِ فَاقْبَلْهُمَا عَنِّي، وَلَا تُصْبِرْ يَمِينِي حَيْثُ تُصْبَرُ الْأَيْمَانُ، فَقَبِلَهُمَا، وَجَاءَ ثَمَانِيَةٌ وَأَرْبَعُونَ رَجُلًا حَلَفُوا، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا حَالَ الْحَوْلُ وَمِنَ الثَّمَانِيَةِ وَالْأَرْبَعِينَ عَيْنٌ تَطْرِفُ

ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

সর্বপ্রথম জাহিলী যুগে যে কসামাহ (শপথ গ্রহণ)-এর ঘটনা ঘটে, তা ছিল এমন যে, কুরাইশের উপগোত্রের এক ব্যক্তি হাশিম গোত্রের এক ব্যক্তিকে শ্রমিক হিসেবে রেখেছিল। সে তার সাথে তার উটের স্থানে গেল। সেখানে বানু হাশিম-এরই অন্য এক লোকের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। সেই লোকের থলির রশি ছিঁড়ে গিয়েছিল। সেই লোক বলল, একটি রশি দ্বারা আমার সহযোগিতা করুন, যেন আমি আমার থলিটি বাঁধতে পারি। এমন না হয় যে, থলির মালামাল পড়ে যায় আর সে কারণে উট ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। হাশিম গোত্রীয় শ্রমিক তাকে একটি রশি দিয়ে দিল যাতে তার থলি বাঁধতে পারে। যখন তারা এক জায়গায় নামল একটি উট ছাড়া সকল উট বাঁধা হলো। যে ব্যক্তি তাকে কাজে রেখেছিল, সে জিজ্ঞেস করল: এই উটের কী হলো? একে বাঁধলে না কেন? শ্রমিক বলল: এর বাঁধার রশি নেই। সে জিজ্ঞেস করল: রশি কোথায় গেল? শ্রমিক বলল: বানু হাশিম-এর এক ব্যক্তির সাথে আমার দেখা হলে তার থলি বাঁধার রশি ছিঁড়ে গিয়েছিল, সে আমাকে বলল: একটি রশি দিয়ে আমায় সহযোগিতা করুন, যা দ্বারা আমি আমার থলির মুখ বন্ধ করতে পারি যাতে আমার উট পালিয়ে না যায়। আমি তাকে বাঁধার জন্য রশি দিয়ে দেই। এ কথা শুনেই মালিক শ্রমিককে লাঠি দিয়ে প্রহার করে। ফলে শ্রমিকটি মারা যায়। সে যখন মুমূর্ষু, তখন ইয়ামানী এক ব্যক্তি তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। সে জিজ্ঞেস করল: আপনি হজ্জে যাবেন? সে বলল: পূর্বে গিয়েছিলাম, এবার যাব না। সে বলল: আপনি যখনই যাবেন, আমার একটি সংবাদ তখন পৌঁছাতে পারবেন কি? লোকটি বলল : হ্যাঁ। সে বলল: আপনি হজ্জ মৌসুমে গেলে সেখানে 'হে কুরাইশ গোত্রের লোক!' বলে আহ্বান করবেন। তারা জবাব দিলে আপনি আহলে হাশিম সম্পর্কে খোঁজ নেবেন এবং তাঁকে বলবেন : 'আমাকে অমুক ব্যক্তি একটি রশির কারণে হত্যা করেছে'। এই বলেই সে মৃত্যুবরণ করল।মালিক ব্যক্তি মক্কায় আসলে আবূ ত্বালিব তাকে জিজ্ঞেস করল: আমাদের লোকের সাথে তুমি কি করেছ? সে বলল: তার অসুখ হয়েছিল, আমি তার ভালোভাবে সেবা করি, কিন্তু সে মারা যায়। আমি নেমে তাকে দাফন করি। আবু ত্বালিব বললেন : তোমার কাছ থেকে সে, এমনই ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য ছিল।কিছু দিন পর ইয়ামান হতে ঐ লোক আসলো, যাকে ঐ শ্রমিক তার খবর দেয়ার ওয়াসিয়্যাত করেছিল। সে বলল: হে কুরাইশ গোত্র! তারা বলল: এই যে কুরাইশ গোত্র। সে বলল, হে বানু হাশিম! তারা বলল: এই যে বানু হাশিম-এর গোত্র। সে জিজ্ঞেস করল : আবু ত্বালিব কোথায়? তারা বলল: এই যে আবু ত্বালিব। সে বলল: আমাকে অমুক ব্যক্তি ওয়াসিয়্যাত করেছিল, আপনাকে এই খবর দেয়ার জন্য যে, অমুক ব্যক্তি একটির রশির কারণে তাকে লাঠির প্রহারে হত্যা করেছে। আবু ত্বালিব সে ব্যক্তির নিকট গিয়ে বললেন, তুমি আমার গোত্রের লোককে হত্যা করেছ। এখন তিনটি প্রস্তাবের একটা গ্রহণ কর।যদি তুমি ইচ্ছা কর, তবে দিয়াতের একশত উট দিয়ে দাও। কেননা তুমি আমাদের লোককে অনিচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছ। আর যদি তুমি ইচ্ছা কর, তা হলে তোমার গোত্রের পঞ্চাশজন লোক শপথ খেয়ে বলবে যে, তুমি তাকে হত্যা করনি। যদি তুমি এর কোন শর্ত গ্রহণ না কর, তবে আমরা তোমাকে ঐ ব্যক্তির পরিবর্তে হত্যা করব। সে ব্যক্তি তার গোত্রের নিকট গিয়ে এ কথা বলল। তখন তারা বলল: আমরা শপথ করব।এরপর বানু হাশিম গোত্রের এক নারী যার সেই গোত্রে বিয়ে হয়েছিল, পুত্র সন্তানও জন্ম দিয়েছিল, আবু ত্বালিব (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল: হে আবু ত্বালিব! আমার ইচ্ছা আপনি পঞ্চাশ জন লোকের একজন হিসেবে আমার এই ছেলেকে শপথ হতে অব্যাহতি দেবেন। আবু ত্বালিব তা করলেন। এরপর তাদের আর এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আবু ত্বালিব! আপনি একশত উটের পরিবর্তে পঞ্চাশ জন লোকের শপথ নিতে চান, তাতে একজনের জন্য দু'টি করে উট পড়ে। অতএব এই দুই উট গ্রহণ করে আমাকে শপথ হতে অব্যাহতি দিন। আবু ত্বালিব এটাও করলেন। পরে আটচল্লিশ জন লোক এসে শপথ করল। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! এক বছর শেষ না হতেই ঐ আটচল্লিশ জন লোকের সবাই মৃত্যুবরণ করে।

[১] কাউকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলে, তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যে কসম করা হয়, সেই কসমকে শরীয়তে ‘কাসামাহ’ বলা হয়।[২] কোন কোন বর্ণনায় এ রকমই আছে। কিন্তু এটা ভুল ; সঠিক হচ্ছে (আরবি) যেমন নাসাঈ শরীফের হিন্দুস্থানী মুদ্রণে আছে। তা ছাড়া বুখারী শরীফের প্রসিদ্ধ বর্ণনাও তাই এবং ইব্ন হাজার (রহঃ) সেটাকেই বিশুদ্ধ বলেছেনঃ।

৪৬/২. অধ্যায়ঃ

শপথ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন