হিবা
৩২/১. অধ্যায়ঃ
শারীকী বস্তু হিবাহ্ (দান) করা
সুনানে নাসাঈ : ৩৬৮৮
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩৬৮৮
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَتَتْهُ وَفْدُ هَوَازِنَ، فَقَالُوا: يَا مُحَمَّدُ، إِنَّا أَصْلٌ وَعَشِيرَةٌ، وَقَدْ نَزَلَ بِنَا مِنَ الْبَلَاءِ مَا لَا يَخْفَى عَلَيْكَ، فَامْنُنْ عَلَيْنَا مَنَّ اللَّهُ عَلَيْكَ، فَقَالَ: «اخْتَارُوا مِنْ أَمْوَالِكُمْ أَوْ مِنْ نِسَائِكُمْ وَأَبْنَائِكُمْ»، فَقَالُوا: قَدْ خَيَّرْتَنَا بَيْنَ أَحْسَابِنَا وَأَمْوَالِنَا بَلْ نَخْتَارُ نِسَاءَنَا وَأَبْنَاءَنَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَمَّا مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكُمْ، فَإِذَا صَلَّيْتُ الظُّهْرَ فَقُومُوا، فَقُولُوا: إِنَّا نَسْتَعِينُ بِرَسُولِ اللَّهِ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَوِ الْمُسْلِمِينَ فِي نِسَائِنَا وَأَبْنَائِنَا " فَلَمَّا صَلَّوْا الظُّهْرَ قَامُوا فَقَالُوا ذَلِكَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَمَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكُمْ»، فَقَالَ الْمُهَاجِرُونَ: وَمَا كَانَ لَنَا فَهُوَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَتِ الْأَنْصَارُ: مَا كَانَ لَنَا فَهُوَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ الْأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ: أَمَّا أَنَا وَبَنُو تَمِيمٍ فَلَا، وَقَالَ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ: أَمَّا أَنَا وَبَنُو فَزَارَةَ فَلَا، وَقَالَ الْعَبَّاسُ بْنُ مِرْدَاسٍ: أَمَّا أَنَا وَبَنُو سُلَيْمٍ فَلَا، فَقَامَتْ بَنُو سُلَيْمٍ فَقَالُوا: كَذَبْتَ، مَا كَانَ لَنَا فَهُوَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، رُدُّوا عَلَيْهِمْ نِسَاءَهُمْ وَأَبْنَاءَهُمْ، فَمَنْ تَمَسَّكَ مِنْ هَذَا الْفَيْءِ بِشَيْءٍ فَلَهُ سِتُّ فَرَائِضَ مِنْ أَوَّلِ شَيْءٍ يُفِيئُهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْنَا»، وَرَكِبَ رَاحِلَتَهُ وَرَكِبَ النَّاسُ اقْسِمْ عَلَيْنَا فَيْئَنَا، فَأَلْجَئُوهُ إِلَى شَجَرَةٍ فَخَطِفَتْ رِدَاءَهُ، فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، رُدُّوا عَلَيَّ رِدَائِي، فَوَاللَّهِ لَوْ أَنَّ لَكُمْ شَجَرَ تِهَامَةَ نَعَمًا قَسَمْتُهُ عَلَيْكُمْ ثُمَّ لَمْ تَلْقَوْنِي بَخِيلًا وَلَا جَبَانًا وَلَا كَذُوبًا»، ثُمَّ أَتَى بَعِيرًا فَأَخَذَ مِنْ سَنَامِهِ وَبَرَةً بَيْنَ أُصْبُعَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ: «هَا إِنَّهُ لَيْسَ لِي مِنَ الْفَيْءِ شَيْءٌ وَلَا هَذِهِ إِلَّا خُمُسٌ، وَالْخُمُسُ مَرْدُودٌ فِيكُمْ» فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ بِكُبَّةٍ مِنْ شَعْرٍ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخَذْتُ هَذِهِ لِأُصْلِحَ بِهَا بَرْدَعَةَ بَعِيرٍ لِي فَقَالَ: أَمَّا مَا كَانَ لِي وَلِبَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَهُوَ لَكَ، فَقَالَ: «أَوَبَلَغَتْ هَذِهِ؟ فَلَا أَرَبَ لِي فِيهَا»، فَنَبَذَهَا وَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَدُّوا الْخِيَاطَ وَالْمَخِيطَ، فَإِنَّ الْغُلُولَ يَكُونُ عَلَى أَهْلِهِ عَارًا وَشَنَارًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
আমর ইব্ন শুআয়ব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমর ইবন শু'আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। [একদিন] আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ছিলাম, এমন সময় হাওয়াযিন গোত্রের একটি দল তাঁর নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মাদ! আমরা আরবের একটি গোত্র। আমাদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়েছে, তা কি আপনি জানেন। অতএব আপনি আমাদের ওপর দয়া করুন। আল্লাহও আপনার প্রতি দয়া করুন। তিনি বললেন: তোমরা দুটোর যে কোন একটি বেছে নাও। হয়তো তোমাদের মাল অথবা তোমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যেতে পার। তারা বলল: আপনি আমাদেরকে আমাদের ইচ্ছানুযায়ী যে কোন একটা গ্রহণ করতে বলেছেন। অতএব আমরা আমাদের নারী ও সন্তানদের নিতে চাই।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: [গনীমাতের মালে] আমার এবং আবদুল মুত্তালিব-এর সন্তানদের যে অংশ রয়েছে তা তোমাদের, যদি তোমরা আমার জুহরের সালাত আদায়ের পর দাঁড়িয়ে বল যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওয়াসীলায় মুমিনদের অথবা মুসলিমদের নিকট আমাদের স্ত্রী-সন্তানের ব্যাপারে সাহায্য প্রার্থনা করছি। বর্ণনাকারী বলেন: জুহরের সালাত আদায়ের পর তারা দাঁড়িয়ে তাই বলল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: যা আমার এবং আবদুল মুত্তালিব-এর সন্তানদের অংশ রয়েছে, তা তোমাদের জন্য।এ কথা শুনে মুহাজিরগণ বললেন: আমাদের অংশ রয়েছে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য। আনসারগণ বললেন: আমাদের অংশও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য। আকরা ইবন হাবিস (রাঃ) বললেন: আমি এবং বানু তামিম এতে রাজী নই। উয়াইনাহ ইবন হিসন (রাঃ) বললেন: আমি এবং বানু ফাযারা এতে রাজী নই। আব্বাস ইবন মিরদাস (রাঃ) বললেন, আমি এবং বানু সুলায়ম এতে রাজী নই। বানু সুলায়ম-এর লোক দাঁড়িয়ে বলল, তুমি মিথ্যা বলছ, আমাদের যা কিছু রয়েছে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : হে লোক সকল! তাদের স্ত্রী এবং সন্তানদের ফেরত দিয়ে দাও। আর যে ব্যক্তি বিনিময় ছাড়া দিতে চায় না, মহান ও মহীয়ান আল্লাহ আমাদের সর্বপ্রথম যে গনীমাত দিবেন তা থেকে তাকে ছয়টি উট দেয়া হবে।এই বলে তিনি তাঁর বাহনে উঠলেন। কিন্তু লোকেরা তাঁর পিছে পিছে এবং তারা বলতে লাগল: আমাদের গনীমাতের মাল বণ্টন করে দিন। লোকেরা তাঁকে একটি গাছের নিকট নিয়ে গেল এবং গাছে তাঁর চাদর আটকে গেল। তিনি বললেন:হে লোকসকল! আমার চাদর আমাকে দাও। আল্লাহর শপথ! যদি তিহামার [মরু আরবের] গাছের সমসংখ্যক জন্তু আমার নিকট থাকে, তবে তা আমি তোমাদের মাঝে বণ্টন করে দেব। তোমরা আমাকে কৃপণ, ভীরু ও মিথ্যাবাদী পাবে না।পরে তিনি একটি উটের কাছে এসে তার কুজের শেষাংশের এক গুচ্ছ পশম তুলে নিয়ে বললেন: শোন, আমি তোমাদের এই গনীমাতের মালের কিছুই নেব না, এমনকি এই পরিমাণও পশম নেব না, শুধু [এক-পঞ্চমাংশ] নিব আর এই এক-পঞ্চমাংশও তোমাদের জন্যই ব্যয় হবে।এ কথা শুনে এক ব্যক্তি হাতে এক গুচ্ছ পশম নিয়ে তাঁর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটা এজন্য নিয়েছি, যেন এর দ্বারা আমি আমার উটের গদি ঠিক করতে পারি। তিনি বললেন: যা আমার এবং আবদুল মুত্তালিব-এর সন্তানদের, তা তোমার। সে বলল: যখন ব্যাপারটি এ পর্যন্ত পৌঁছেছে তখন আমার এর প্রয়োজন নেই। সে পশম গুচ্ছ ফেলে দিল।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হে লোক সকল! তোমাদের যার কাছে যা আছে, এমনকি সুই-সুতাও যদি হয় তবে তা ফেরত দাও। কেননা গনীমাতের মাল চুরি করা কেয়ামতের দিন খিয়ানাতকারীর জন্য লজ্জা ও অপমানের কারণ হবে।
৩২/২. অধ্যায়ঃ
