২৩/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৩৯ - জান্নাতের দরজা ও রাইয়্যানের মর্যাদা
যাকাত ফার্য হওয়া প্রসঙ্গ
জান্নাতের দরজা: রোজাদারের জন্য রাইয়্যান ও নেক আমলের আহ্বান
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৪৩৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৪৩৯
أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ «مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ مِنْ شَيْءٍ مِنَ الْأَشْيَاءِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، دُعِيَ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ لَكَ، وَلِلْجَنَّةِ أَبْوَابٌ، فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الْجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيَامِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ»، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: هَلْ عَلَى مَنْ يُدْعَى مِنْ تِلْكَ الْأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ، فَهَلْ يُدْعَى مِنْهَا كُلِّهَا أَحَدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَإِنِّي أَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ» يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যে কোনো জিনিসের এক জোড়াও দান করে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে ডাকা হবে : হে আল্লাহর বান্দা! এ [দরজা] তোমার জন্য উত্তম। [বস্তুত] জান্নাতের অনেক দরজা আছে। যে সালাত আদায়কারী তাকে সালাতের দরজা হতে ডাকা হবে, যে জিহাদকারী তাকে জিহাদের দরজা হতে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি যাকাত প্রদানকারী তাকে যাকাতের দরজা হতে ডাকা হবে। যে ব্যক্তি সাওম পালনকারী তাকে 'রাইয়্যান' নামক দরজা হতে ডাকা হবে।আবূ বাক্র (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যাকে ঐসব দরজা দিয়ে ডাকা হবে, তার তো কোনো সমস্যা নেই। তবে কাউকে কি প্রত্যেক দরজা দিয়েই ডাকা হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং আমি আশা করি যে, তুমি তাদের অন্তর্গত অর্থাৎ আবু বাক্স (রাঃ)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো জিনিসের এক জোড়া দান করে, তাকে জান্নাতের দরজাগুলো থেকে ডাকা হবে। জান্নাতের একাধিক দরজা আছে এবং মানুষের প্রধান নেক আমল অনুযায়ী আলাদা দরজা থেকে আহ্বান করা হবে। সালাত আদায়কারীদের সালাতের দরজা, জিহাদকারীদের জিহাদের দরজা, সদকাকারীদের সদকার দরজা এবং সাওম পালনকারীদের রাইয়্যান নামের দরজা থেকে ডাকা হবে। আবূ বকর (রাঃ) জানতে চান, কাউকে কি সব দরজা থেকেই ডাকা হবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) হ্যাঁ বলেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, আবূ বকর (রাঃ) তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাই হাদিসের মূল বিষয় জান্নাতের দরজা, রাইয়্যান এবং বিভিন্ন নেক আমলের মর্যাদা। এটি একদিকে নির্দিষ্ট আমলে ধারাবাহিকতার উৎসাহ দেয়, অন্যদিকে বহু ধরনের ভালো কাজে এগিয়ে থাকার দিকও দেখায়। তবে আবূ বকর (রাঃ)-এর বিষয়ে ভাষাটি ‘আশা করি’—ব্যাখ্যাতেও সেই ভারসাম্য রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাওম পালনকারীদের জন্য রাইয়্যান নামের দরজার কথা বলা হয়েছে।
- সালাত, জিহাদ ও সদকার জন্যও আলাদা দরজা থেকে আহ্বানের কথা এসেছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) আশা প্রকাশ করেছেন যে, আবূ বকর (রাঃ) সব দরজা থেকে ডাকা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
