২৩/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৪০ - যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি
যাকাত প্রদান না করার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী
যাকাত না দেওয়ার পরিণতি: সম্পদ, দান ও কেয়ামতের সতর্কতা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৪৪০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৪৪০
أَخْبَرَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، فِي حَدِيثِهِ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: جِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ، فَلَمَّا رَآنِي مُقْبِلًا، قَالَ: «هُمُ الْأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ»، فَقُلْتُ: مَا لِي لَعَلِّي أُنْزِلَ فِيَّ شَيْءٌ، قُلْتُ: مَنْ هُمْ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي، قَالَ: " الْأَكْثَرُونَ أَمْوَالًا، إِلَّا مَنْ قَالَ: هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " حَتَّى بَيْنَ يَدَيْهِ، وَعَنْ يَمِينِهِ، وَعَنْ شِمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَا يَمُوتُ رَجُلٌ فَيَدَعُ إِبِلًا أَوْ بَقَرًا لَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهَا، إِلَّا جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا، كُلَّمَا نَفِدَتْ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ أُولَاهَا حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ»
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে এলাম, তখন তিনি কা'বার ছায়ায় উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি আমাকে অগ্রসর হতে দেখে বললেন, কা'বার রবের কসম, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত। আমি [মনে মনে] বললাম, আমার সর্বনাশ! মনে হয় আমার সম্পর্কে কোনো বিষয় অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। তারা কারা? তিনি (ﷺ) বললেন, তারা হল অধিক সম্পদশালী ব্যক্তিরা। কিন্তু যারা এভাবে এভাবে দান-খয়রাত করে এমনকি তাদের সামনে, ডানে এবং বামে দান-খয়রাত করে।এরপর তিনি (ﷺ) বললেন, ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। যে ব্যক্তি উট কিংবা গরুর যাকাত প্রদান না করে মারা যাবে কিয়ামতের দিন সেগুলোকে পূর্বাপেক্ষা বিরাট এবং বলিষ্ঠাকারে তার সামনে আনা হবে। সেগুলো পালাক্রমে তাকে ক্ষুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে এবং শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। যখন একটি শেষ করবে তখন প্রথমটি আবার ফিরে আসবে। এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ লোকজনের মাঝে বিচারকার্য নিষ্পন্ন না হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) কা’বার ছায়ায় বসে অধিক সম্পদশালী মানুষের ক্ষতির কথা বলেন। তবে যারা সামনে, ডানে ও বামে—অর্থাৎ বিভিন্ন দিকে দান করে, তাদের ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর তিনি উট ও গরুর যাকাত না দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে কঠিন সতর্কতা দেন। যে ব্যক্তি এসব পশুর যাকাত আদায় না করে মারা যাবে, কেয়ামতের দিন পশুগুলো আরও বড় ও শক্তিশালী অবস্থায় তার সামনে আসবে। তারা তাকে ক্ষুর দিয়ে পদদলিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে। শেষ পশুটি চলে গেলে প্রথমটি আবার ফিরে আসবে, আর মানুষের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলবে। তাই হাদিসের মূল বিষয় যাকাত আদায়, সম্পদের হক এবং দানের দায়িত্ব। সম্পদ নিজে নিন্দিত বলা হয়নি; সমস্যা হলো হক না দেওয়া ও দান থেকে বিরত থাকা। হাদিসটি সম্পদশালী মানুষকে উদারতা, যাকাত ও আখিরাতের জবাবদিহি সম্পর্কে গভীরভাবে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অধিক সম্পদের সঙ্গে দান ও হক আদায়ের দায় যুক্ত।
- উট ও গরুর যাকাত না দেওয়ার জন্য কেয়ামতের কঠিন শাস্তির সতর্কতা এসেছে।
- সম্পদশালীদের মধ্যে যারা বিভিন্ন দিকে দান করে, তাদের ব্যতিক্রম হিসেবে বলা হয়েছে।
