২৪/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪০২ - পশুর হক আদায় না করার পরিণতি
যাকাত প্রদানে অস্বীকারকারীর গুনাহ।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى : وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَমহান আল্লাহর বাণী: “যারা সোনা-রূপা সঞ্চয় করে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় তা খরচ করে না; অতএব আপনি তাদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন, অতি যন্ত্রণাময় শাস্তির। যা সেদিন ঘটবে, যেদিন জাহান্নামের অগ্নিতে সেগুলোকে উত্তপ্ত করা হবে, অতঃপর সেগুলো দ্বারা তাদের ললাটসমূহে এবং তাদের পার্শ্বদেশসমূহে এবং তাদের পৃষ্ঠসমূহে দাগ দেয়া হবে, এটা তা-ই যা তোমরা নিজেদের জন্য সঞ্চয় করে রেখেছিলে, সুতরাং এখন স্বাদ গ্রহণ কর নিজেদের সঞ্চয়ের।” (আত-তাওবা: ৩৪-৩৫)"
উট ও বকরীর হক আদায়ের হাদিস
সহীহ বুখারী : ১৪০২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪০২
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ هُرْمُزَ الأَعْرَجَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «تَأْتِي الإِبِلُ عَلَى صَاحِبِهَا، عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ، إِذَا هُوَ لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا، تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، وَتَأْتِي الْغَنَمُ عَلَى صَاحِبِهَا عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ، إِذَا لَمْ يُعْطِ فِيهَا حَقَّهَا، تَطَؤُهُ بِأَظْلاَفِهَا، وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا».وَقَالَ «وَمِنْ حَقِّهَا أَنْ تُحْلَبَ عَلَى الْمَاءِ». قَالَ «وَلاَ يَأْتِي أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِشَاةٍ يَحْمِلُهَا عَلَى رَقَبَتِهِ لَهَا يُعَارٌ، فَيَقُولُ يَا مُحَمَّدُ. فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ بَلَّغْتُ. وَلاَ يَأْتِي بِبَعِيرٍ، يَحْمِلُهُ عَلَى رَقَبَتِهِ لَهُ رُغَاءٌ، فَيَقُولُ يَا مُحَمَّدُ. فَأَقُولُ لاَ أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ بَلَّغْتُ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের উটের (উপর দরিদ্র, বঞ্চিত, মুসাফিরের) হক আদায় না করবে, (কেয়ামত দিবসে) সেই উট দুনিয়া অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হয়ে এসে খুর দিয়ে আপন মালিককে পিষ্ট করবে এবং যে ব্যক্তি নিজের বকরীর হক আদায় না করবে, সে বকরী দুনিয়া অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হয়ে এসে মালিককে খুর দিয়ে পদদলিত করবে ও শিং দিয়ে আঘাত করবে। উট ও বকরীর হক হলো পানির নিকট অর্থাৎ (ঘাটে) জনসমাগম স্থলে-ওদের দোহন করা (ও দরিদ্র বঞ্চিতদের মধ্যে দুধ বণ্টন করা)।নবী (ﷺ) আরো বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন কেয়ামত দিবসে (হক অনাদায়জনিত কারণে শাস্তি স্বরূপ) কাঁধের উপর চিৎকাররত বকরী বহন করে (আমার নিকট) না আসে এবং বলে, হে মুহাম্মদ! (আমাকে রক্ষা করুন)। তখন আমি বলবঃ তোমাকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমার কোনো ক্ষমতা নেই। আমি তো (হক অনাদায়ের পরিণতির কথা) পৌঁছে দিয়েছি। আর কেউ যেন চিৎকাররত উট কাঁধের উপর বহন করে এসে না বলে, হে মুহাম্মদ! (আমাকে রক্ষা করুন)। তখন আমি বলবঃ তোমাকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমার কোন ক্ষমতা নেই। আমি তো (শেষ পরিণতির কথা) পৌঁছে দিয়েছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) পশুর মালিকদের জন্য বড় সতর্কতা দিয়েছেন। উট ও বকরীর হক আদায় না করলে কিয়ামতের দিনে সেই পশুগুলোই মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তির কারণ হবে। হাদিসে বলা হয়েছে, উট খুর দিয়ে পিষ্ট করবে এবং বকরী খুর ও শিং দিয়ে আঘাত করবে। এখানে সম্পদের হক, পশুর হক এবং দরিদ্র-বঞ্চিতদের অধিকার স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, পশুর একটি হক হলো পানির ঘাটে, মানুষের জমায়েতের স্থানে দোহন করা, যাতে দরিদ্র ও বঞ্চিতরা দুধ পেতে পারে। তাই যাকাত ও সম্পদের হক শুধু টাকা-পয়সায় সীমিত নয়; মালিকানাধীন পশুর ক্ষেত্রেও দায়িত্ব আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পশুর মালিক হলে তার নির্ধারিত হক আদায় করতে হবে।
- দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার অবহেলা করা উচিত নয়।
- কিয়ামতের জবাবদিহি থেকে বাঁচতে সম্পদের হক ঠিকভাবে দেওয়া দরকার।
- দান ও হক আদায়ে অবহেলা করলে কঠিন পরিণতির সতর্কতা আছে।
