২৩/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৪২ - উট গরু ছাগলের যাকাত না দেওয়ার শাস্তি
যাকাত প্রদান না করার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী
পশুর যাকাত না দিলে কেয়ামতের শাস্তি কেমন হবে
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৪৪২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৪৪২
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الْغُدَانِيِّ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «أَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ إِبِلٌ لَا يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا نَجْدَتُهَا وَرِسْلُهَا؟ قَالَ: «فِي عُسْرِهَا وَيُسْرِهَا، فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغَذِّ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنِهِ وَآشَرِهِ، يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا، إِذَا جَاءَتْ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ، وَأَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ بَقَرٌ لَا يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا، فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَغَذَّ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ وَآشَرَهُ، يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ، فَتَنْطَحُهُ كُلُّ ذَاتِ قَرْنٍ بِقَرْنِهَا، وَتَطَؤُهُ كُلُّ ذَاتِ ظِلْفٍ بِظِلْفِهَا، إِذَا جَاوَزَتْهُ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ، وَأَيُّمَا رَجُلٍ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ لَا يُعْطِي حَقَّهَا فِي نَجْدَتِهَا وَرِسْلِهَا، فَإِنَّهَا تَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَغَذِّ مَا كَانَتْ وَأَكْثَرِهِ وَأَسْمَنِهِ وَآشَرِهِ، ثُمَّ يُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَطَؤُهُ كُلُّ ذَاتِ ظِلْفٍ بِظِلْفِهَا، وَتَنْطَحُهُ كُلُّ ذَاتِ قَرْنٍ بِقَرْنِهَا، لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلَا عَضْبَاءُ، إِذَا جَاوَزَتْهُ أُخْرَاهَا أُعِيدَتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ، حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ فَيَرَى سَبِيلَهُ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তির উট রয়েছে কিন্তু সে সবল ও দুর্বল অবস্থায় সেগুলোর যাকাত প্রদান করে না। সাহাবীগণ বলল, সেগুলোর সবল ও দুর্বলের অর্থ কি? তিনি (ﷺ) বললেন: সেগুলোর [মালিকের] অভাব কিংবা সচ্ছলতা থাকা। কেননা সেগুলো কেয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অধিক ভয়ঙ্কররূপে উপস্থিত হবে।সেই ব্যক্তিকে উটগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। উটগুলো তাদের ক্ষুর দ্বারা (চক্রাকারে) তাকে পদদলিত করতে থাকবে। যখন শেষ উটটি পার হয়ে যাবে তখন প্রথম উটটি ফিরে আসবে। [এই শাস্তি] এমন একদিন হবে যে দিন হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ, এই শাস্তি মানুষের মাঝে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। এরপর সে (জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে) তার পথ দেখে নেবে। আর যে ব্যক্তির গরু রয়েছে কিন্তু সে সবল বা সবল অবস্থায় ওগুলোর যাকাত প্রদান করে না, তারা কেয়ামতের দিন আগের চেয়ে বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অধিক বেপরোয়ারূপে উপস্থিত হবে।সে ব্যক্তিকে গরুগুলোর সামনে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে উপুড় করে রাখা হবে। তাকে প্রত্যেক শিংবিশিষ্ট জন্তু তার শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে এবং প্রত্যেক ক্ষুর বিশিষ্ট জন্তু তার ক্ষুর দ্বারা পদদলিত করতে থাকবে। যখন তাদের শেষটি পার হয়ে যাবে তখন প্রথমটি আবার ফিরে আসবে, এমন একদিন হবে যে দিনটি হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ। মানুষের মাঝে বিচারকার্য সম্পন্ন হওয়া না পর্যন্ত এই শাস্তি দেয়া হবে। এরপর সে [জান্নাত কিংবা জাহান্নামের দিকে] তার পথ দেখে নেবে। আর যে ব্যক্তির ছাগল রয়েছে কিন্তু সে অনটন ও সচ্ছলতার অবস্থায় সেগুলোর যাকাত প্রদান করে না, সেগুলো কেয়ামতের দিন পূর্বাপেক্ষা অধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন, অধিক হৃষ্টপুষ্ট এবং অতি বীভৎস আকৃতিতে উপস্থিত হবে।এরপর সেই ব্যক্তিকে একটি প্রশস্ত এবং সমতল ভূমিতে ঐ ছাগলগুলোর সামনে উপুড় করে রাখা হবে। তখন প্রত্যেক ক্ষুরবিশিষ্ট জন্তু তাকে তার ক্ষুর দ্বারা দলন করতে থাকবে এবং প্রত্যেক শিং বিশিষ্ট জন্তু তাকে তার শিং দ্বারা আঘাত করতে থাকবে। [কেয়ামতের দিন] সেগুলোর কোনোটি বাঁকা বা ভাঙ্গা শিং বিশিষ্ট হবে না। যখন শেষটি পার হয়ে যাবে তখন প্রথমটি ফিরে আসবে। [এই শান্তি] এমন একদিন দেয়া হবে, যেদিন হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ। এই শাস্তি লোকজনের মাঝে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়ার পর্যন্ত। এরপর সে তার গন্তব্যস্থান দেখে নেবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৪২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: পশুর যাকাত। এই হাদিসে উট, গরু ও ছাগলের যাকাত না দেওয়ার পরিণতি আলাদা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মালিক অভাব বা সচ্ছল—যে অবস্থাতেই থাকুক, পশুর নির্ধারিত হক আদায় না করলে কেয়ামতের দিন সেই পশুগুলো আরও শক্তিশালী, মোটা ও ভয়ংকর অবস্থায় উপস্থিত হবে। তাকে একটি প্রশস্ত সমতল জায়গায় উপুড় করে রাখা হবে। উট ক্ষুর দিয়ে পদদলিত করবে, আর গরু ও ছাগল ক্ষুর দিয়ে দলবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে। শেষ পশুটি চলে গেলে প্রথমটি আবার ফিরে আসবে। এই শাস্তি মানুষের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, গবাদি পশু শুধু মালিকানার সম্পদ নয়; এর সঙ্গেও আল্লাহর নির্ধারিত হক জড়িত। তাই পশুর যাকাতের হিসাব অবহেলা না করে সঠিকভাবে আদায় করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উট, গরু ও ছাগলের নির্ধারিত যাকাত আদায় করতে হবে।
- সচ্ছলতা বা অভাবের অজুহাতে পশুর হক ফেলে রাখা ঠিক নয়।
- যাকাত না দেওয়া পশুই কেয়ামতের দিন শাস্তির মাধ্যম হতে পারে।
