২৩/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৪৩ - সালাত ও যাকাতের অবিচ্ছেদ্য গুরুত্ব
যাকাত আদায়ে অস্বীকৃতি প্রদানকারী
সালাত ও যাকাত: ইসলামের দুই ফরজ বিধান আলাদা নয়
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৪৪৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৪৪৩
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ، قَالَ عُمَرُ، لِأَبِي بَكْرٍ: كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ، إِلَّا بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ "، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالًا كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ قَالَ عُمَرُ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ، فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর আবূ বাক্স (রাঃ) খলীফাহ্ মনোনীত হলেন। আর আরবের যারা একটি দল তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করার মাধ্যমে কুফরী করল তখন 'উমর (রাঃ) আবূ বাক্স (রাঃ)-কে বললেন : আপনি কিভাবে লোকেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি আদিষ্ট হয়েছি মানুষের সাথে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ না তারা বলে, যে ব্যক্তি "লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ” বলবে তার জানমাল আমার থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে, তবে তার যথার্থ কারণ ছাড়া। আর তার [বাস্তব] হিসাব আল্লাহর কাছে সোপর্দ।আবু বাক্স (রাঃ) বললেন: আমি অবশ্যই তার বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করব যে সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা যাকাত হল সম্পদের 'হাক্ব'। আল্লাহর কসম, যদি লোকজন আমার কাছে এমন একটি রশিও প্রদান না করে যা তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রদান করত, তাহলে তা প্রদান না করার কারণেও আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। 'উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম, আমি আবূ বাক্স (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তের সাথে এ কারণে ঐকমত্য পোষণ করলাম যে, আমি দেখলাম, আল্লাহ তা'আলা আবূ বাক্স (রাঃ)-এর অন্তর জিহাদের জন্য প্রস্তুত করে দিয়েছেন। অতএব আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি সঠিক।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৪৪৩-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: যাকাতের ফরজিয়ত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মৃত্যুর পর কিছু লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করলে আবু বকর (রাঃ) তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। উমর (রাঃ) প্রথমে জানতে চান, যারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করা হবে। আবু বকর (রাঃ) জবাবে বলেন, সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে না, কারণ যাকাত সম্পদের হক। তিনি এমনকি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সময়ে দেওয়া একটি রশিও বন্ধ করা হলে তা আদায়ের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। পরে উমর (রাঃ) বুঝতে পারেন যে আবু বকর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্ত সঠিক। হাদিসটি দেখায়, যাকাত কোনো ঐচ্ছিক অনুদান নয়। এটি মুসলিমের সম্পদের ওপর নির্ধারিত দায়িত্ব এবং সালাতের মতোই ইসলামের প্রকাশ্য ফরজ বিধানের অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত ও যাকাত—দুটিই ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান।
- যাকাতকে সাধারণ দান মনে করে বাদ দেওয়া যায় না; এটি সম্পদের হক।
- সত্য স্পষ্ট হলে নিজের আগের মত বদলে সঠিক সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া উচিত।
