২৩/৮০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৮০ - সদকা কার জন্য বৈধ?
[পাওনা আদায়ের] যামিনদার ব্যক্তিকে দান করা
সদকা কার জন্য বৈধ: সাহায্য চাওয়ার তিনটি অবস্থা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৫৮০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৫৮০
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ النَّضْرِ بْنِ مُسَاوِرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي كِنَانَةُ بْنُ نُعَيْمٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ، قَالَ: تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْأَلُهُ فِيهَا فَقَالَ: «أَقِمْ يَا قَبِيصَةُ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ، فَنَأْمُرَ لَكَ» قَالَ: ثُمَّ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الصَّدَقَةَ لَا تَحِلُّ إِلَّا لِأَحَدِ ثَلَاثَةٍ: رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ، فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ، فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكَ، وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَشْهَدَ ثَلَاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ قَدْ أَصَابَتْ فُلَانًا فَاقَةٌ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، فَمَا سِوَى هَذَا مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا قَبِيصَةُ؟ سُحْتٌ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا "
ক্ববীসাহ্ ইবনু মুখারিক্ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি একজনের পাওনা আদায় করে দেয়ার যামিন হলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে এ ব্যাপারে তাঁর সাহায্য চাইলাম। তিনি (ﷺ) বললেন যে, হে ক্ববীসাহ্! আমার কাছে সদাক্বার কোনো মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর, তা আমি তোমাকে তা হতে দেয়ার নির্দেশ দেব। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে ক্ববীসাহ্! সদাক্বাহ্ তিন ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো জন্য বৈধ নয়: যে কারো পাওনা পরিশোধ করে দেয়ার যামিন হয়, তার জন্য সাহায্য কামনা করা বৈধ। যাতে সে তার আবশ্যকীয় প্রয়োজন মিটাতে পারে।যে ব্যক্তি কোনো বিপদ নিপতিত হয় এবং তার ধন-সম্পত্তি সমূলে শেষ হয়ে যায়। তার জন্য সাহায্য কামনা করা বৈধ, যাতে তার বিপদ দূর হয়ে যায়। এরপর সে সাহায্য কামনা থেকে বিরত হয়ে যায়। এমন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি যার সম্পর্কে তার গোত্রের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, সে অভাবগ্রস্ত। তাহলে তার জন্যও সাহায্য কামনা করা বৈধ, যাতে সে নিজের আবশ্যকীয় প্রয়োজন মিটাতে পারে। হে কুবীসাহ্! এ তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারো জন্য সাহায্য কামনা করা সুদ [তুল্য হারাম]। যার যাচ্ঞাকারী তা সুদ [হারাম]- রূপে ভক্ষণ করে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুবাইসা (রাঃ) বলেন, তিনি কারও পাওনা আদায়ের জামিন হন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে সাহায্য চান। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে সদকার মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর তিনি বলেন, সদকা তিন ব্যক্তি ছাড়া কারও জন্য বৈধ নয়। প্রথমত, যে কারও পাওনা পরিশোধের জামিন হয়েছে, সে প্রয়োজন পূরণ পর্যন্ত সাহায্য চাইতে পারে। দ্বিতীয়ত, যে বিপদে পড়ে তার সম্পদ শেষ হয়ে গেছে, সে বিপদ কাটানো পর্যন্ত সাহায্য চাইতে পারে। তৃতীয়ত, যে অভাবগ্রস্ত এবং তার গোত্রের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি তার অভাবের সাক্ষ্য দেয়, সে প্রয়োজন মেটানো পর্যন্ত সাহায্য চাইতে পারে। এরপর অন্যভাবে সাহায্য চাওয়াকে কঠিনভাবে নিন্দা করা হয়েছে। হাদিসটি সাহায্য চাওয়া, সদকার হকদার এবং সংযমের স্পষ্ট নিয়ম শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সদকা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা জরুরি।
- জামিন, বড় বিপদ বা প্রমাণিত অভাব—এসব অবস্থায় সাহায্য চাওয়া বৈধ হতে পারে।
- প্রয়োজন মিটে গেলে সাহায্য চাওয়া বন্ধ করা উচিত।
- অন্যায়ভাবে সাহায্য চাওয়া থেকে কঠিন সতর্কতা এসেছে।
