২৩/৮১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৮১ - সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও দুনিয়ার চাকচিক্য
ইয়াতীমকে দান-সদাক্বাহ্ করা
সম্পদের সঠিক ব্যবহার: দুনিয়ার চাকচিক্য নিয়ে সতর্ক হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৫৮১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৫৮১
أَخْبَرَنِي زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي هِشَامٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِلَالٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ فَقَالَ: «إِنَّمَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ مِنْ بَعْدِي، مَا يُفْتَحُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةٍ، وَذَكَرَ الدُّنْيَا، وَزِينَتَهَا» فَقَالَ رَجُلٌ: أَوَ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ؟ فَسَكَتَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقِيلَ لَهُ: مَا شَأْنُكَ؟ تُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يُكَلِّمُكَ قَالَ: وَرَأَيْنَا أَنَّهُ يُنْزَلُ عَلَيْهِ فَأَفَاقَ يَمْسَحُ الرُّحَضَاءَ وَقَالَ: «أَشَاهِدٌ السَّائِلُ إِنَّهُ لَا يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ وَإِنَّ مِمَّا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ، أَوْ يُلِمُّ إِلَّا آكِلَةُ الْخَضِرِ، فَإِنَّهَا أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَدَّتْ خَاصِرَتَاهَا، اسْتَقْبَلْتَ عَيْنَ الشَّمْسِ فَثَلَطَتْ ثُمَّ بَالَتْ ثُمَّ رَتَعَتْ، وَإِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ، وَنِعْمَ صَاحِبُ الْمُسْلِمِ، هُوَ إِنْ أَعْطَى مِنْهُ الْيَتِيمَ، وَالْمِسْكِينَ، وَابْنَ السَّبِيلِ، وَإِنَّ الَّذِي يَأْخُذُهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ، كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ، وَيَكُونُ عَلَيْهِ شَهِيدًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপর বসলেন। আমরাও বসে গেলাম। তিনি (ﷺ) বললেন, আমার পরে তোমাদের জন্য যে শোভা সৌন্দর্যের দ্বার খুলে দেয়া হবে, তাতে আমি তোমাদের জন্য শঙ্কিত। [এ প্রসঙ্গে] তিনি দুনিয়া ও তার চাকচিক্যের কথা আলোচনা করলেন। এক ব্যক্তি বলল, কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসে? তিনি (ﷺ) কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তাকে [প্রশ্নকারীকে] বলা হয়, তোমার কি হল, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে কথা বলছ অথচ তিনি তোমার সাথে কথা বলছেন না? [রাবী বলেন] আমরা দেখলাম, তখন তাঁর ওপর ওহী নাযিল হচ্ছে।যখন ওহী নাযিল হয়ে গেল তিনি ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, প্রশ্নকারী কি উপস্থিত আছে? নিশ্চয় ভাল মন্দ নিয়ে আসবে না। তবে দেখ, বসন্ত ঋতুতে যা জন্মায় তা মেরে ফেলে অথবা মেরে ফেলার উপক্রম করে। কিন্তু কোনো তৃণভোজী জন্তু যখন তা ভক্ষণ করে তখন তার পেট ভরে যায় আর সে সূর্যের আলোর অবস্থান করে, অতঃপর পায়খানা ও পেশাব করে। এরপর চরে বেড়ায়। অনুরূপভাবে এ সমস্ত মাল মুসলিমদের জন্য কত উত্তম ও উপাদেয় এবং উপকারী সঙ্গী, যদি তার থেকে ইয়াতীম মিসকীন এবং মুসাফিরকে দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ধন-সম্পদ জমা করে সে যেন আহার করল কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারল না। এ ধন-সম্পদ ক্বিয়ামাতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সম্পদের সঠিক ব্যবহার। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুনিয়ার শোভা ও চাকচিক্য নিয়ে উম্মতের জন্য শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এখানে সম্পদকে পুরোপুরি খারাপ বলা হয়নি; বরং বলা হয়েছে, ভালো জিনিস মন্দ নিয়ে আসে না। কিন্তু অতিরিক্ত ভোগ, অন্যায়ভাবে ধন-সম্পদ জমা করা এবং প্রয়োজনীয় হক আদায় না করা মানুষের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। হাদিসে বসন্তের ঘাসের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে, সুন্দর জিনিসও সীমা না মানলে ক্ষতি করতে পারে। সম্পদ তখনই ভালো সঙ্গী, যখন তা ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরকে দান করা হয়। আর অন্যায়ভাবে সম্পদ নেওয়া মানুষকে তৃপ্ত করে না; কেয়ামতের দিন সেই সম্পদ তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হবে। তাই সম্পদের বরকত আসে ন্যায়ভাবে ব্যবহার ও দানের মাধ্যমে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ নিজে মন্দ নয়; মন্দ হলো অন্যায়ভাবে সম্পদ জমা করা।
- ইয়াতীম, মিসকীন ও মুসাফিরের হক আদায় করলে সম্পদ উপকারী হয়।
- দুনিয়ার চাকচিক্য দেখে অন্ধভাবে ছুটে চলা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- অন্যায় সম্পদ কেয়ামতের দিন মানুষের বিরুদ্ধে সাক্ষী হতে পারে।
