২৪/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪০৯ - ন্যায়ের পথে সম্পদ ও জ্ঞান
যথাস্থানে ধন-সম্পদ খরচ করা
ন্যায়ের পথে সম্পদ ব্যয় ও দ্বীনের জ্ঞান শেখানোর হাদিস
সহীহ বুখারী : ১৪০৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪০৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنِي قَيْسٌ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ «لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ، وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ حِكْمَةً فَهْوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا ".
ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি কেবল মাত্র দু’ধরনের ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষা রাখা যেতে পারে, একজন এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং ন্যায় পথে তা ব্যয় করার মত ক্ষমতাবান করেছেন। অপরজন এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ দ্বীনের জ্ঞান দান করেছেন (আর তিনি) সে অনুযায়ী ফয়সালা দেন ও অন্যান্যকে তা শিক্ষা দেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, ঈর্ষা বা আকাঙ্ক্ষা করার মতো বিষয় শুধু দুই ধরনের মানুষের ক্ষেত্রে হতে পারে। প্রথমজন এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে ন্যায়ের পথে তা ব্যয় করার ক্ষমতা পেয়েছে। দ্বিতীয়জন এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ দ্বীনের জ্ঞান দিয়েছেন; সে সেই জ্ঞান অনুযায়ী ফয়সালা করে এবং অন্যদের তা শিক্ষা দেয়। এখানে হিংসা নয়, বরং ভালো কাজের প্রতি সুন্দর আকাঙ্ক্ষার কথা বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি শেখায়, সম্পদ তখনই প্রশংসনীয় হয় যখন তা সত্য ও ন্যায়ের পথে ব্যয় হয়। আবার জ্ঞান তখনই মূল্যবান হয় যখন তা আমল, বিচার ও শিক্ষার কাজে লাগে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ ন্যায়ের পথে ব্যয় করলে তা প্রশংসনীয় কাজ।
- দ্বীনের জ্ঞান শুধু জানা নয়, তা দিয়ে আমল ও শিক্ষা দেওয়া দরকার।
- ভালো কাজ দেখে ভালো হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখা যায়।
- সম্পদ ও জ্ঞান—দুটিই আল্লাহর দান, তাই সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত।
