২৪/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪১০ - হালাল কামাই থেকে সদকার ফজিলত
হালাল উপার্জন থেকে সদকা প্রদান করা
لِقَوْلِهِ : وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَএ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: “আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-খায়রাতকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে পছন্দ করেন না। নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, নেক কাজ করেছে, সালাত কায়িম করেছে এবং যাকাত দিয়েছে, তাদের জন্য রয়েছে পুরস্কার তাদের পালনকর্তার কাছে। তাদের নেই কোনো ভয় এবং তারা দুঃখিতও হবে না।” (আল-বাকারা: ২৭৭)"
হালাল কামাই থেকে অল্প সদকার বড় শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৪১০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪১০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، سَمِعَ أَبَا النَّضْرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ ـ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ ـ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ ـ وَلاَ يَقْبَلُ اللَّهُ إِلاَّ الطَّيِّبَ ـ وَإِنَّ اللَّهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ ". تَابَعَهُ سُلَيْمَانُ عَنِ ابْنِ دِينَارٍ. وَقَالَ وَرْقَاءُ عَنِ ابْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم. وَرَوَاهُ مُسْلِمُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ وَسُهَيْلٌ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হালাল কামাই থেকে একটি খেজুর পরিমাণ সদকা করবে, (আল্লাহ তা কবূল করবেন) এবং আল্লাহ কেবল পবিত্র মাল কবূল করেন আর আল্লাহ তাঁর ডান হাত [৩৪] দিয়ে তা কবূল করেন। এরপর আল্লাহ দাতার কল্যাণার্থে তা প্রতিপালন করেন যেমন তোমাদের কেউ অশ্ব শাবক প্রতিপালন করে থাকে, অবশেষে সেই সদকা পাহাড় বরাবর হয়ে যায়।সুলায়মান (রহঃ) ইব্নু দীনার (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় ‘আব্দুর রহমান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন এবং ওয়ারকা (রহঃ) ইব্নু দীনার থেকে তিনি সাঈদ বিন ইয়াসার থেকে আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন এবং মুসলিম ইব্নু আবূ মারয়াম, যায়দ ইব্নু আসলাম ও সুহায়ল (রহঃ) আবূ সালিহ (রহঃ)-এর মাধ্যম আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন।
[১] কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীস থেকে জানা যায়, আল্লাহর হাত আছে, পা আছে। কিন্তু এই হাত পা কেমন সে সম্পর্কে আমরা কোন ধারণাও করতে পারি না, চিন্তাও করতে পারি না। সৃষ্টিজগতে তাঁর কোন তুলনা নেই।কেননা আল্লাহ তা’আলা নিজের সম্পর্কে বলেছেন, তাঁর সদৃশ কোন কিছুই নেই, তিনি সবকিছু শুনেন ও দেখেন। (সূরা শুরাঃ ১১)কুদরাতি হাত বা কুদরাতি চক্ষু ইত্যাদি অর্থ করা আল্লাহর গুণাবলীর বিকৃতি সাধন করার শামিল।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) হালাল কামাই থেকে সদকা করার বড় শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি হালাল উপার্জন থেকে একটি খেজুর পরিমাণ সদকা করে, আল্লাহ তা কবুল করেন। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ শুধু পবিত্র মাল কবুল করেন। এরপর আল্লাহ সেই সদকাকে দাতার কল্যাণার্থে লালন-পালন করেন, যেমন কেউ তার অশ্ব শাবককে যত্ন করে বড় করে। শেষে সেই সদকা পাহাড়ের মতো হয়ে যায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সদকার মূল্য শুধু পরিমাণে নয়; হালাল উপার্জন, পবিত্র নিয়ত এবং আল্লাহর কবুলিয়ত বড় বিষয়। তাই অল্প হলেও হালাল থেকে দান করা গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল উপার্জন থেকে সদকা করা উচিত।
- আল্লাহ পবিত্র মাল কবুল করেন—হাদিসে এ কথা এসেছে।
- অল্প সদকাও কল্যাণের কারণ হতে পারে।
- দানের ক্ষেত্রে পরিমাণের পাশাপাশি হালাল উৎস গুরুত্বপূর্ণ।
