২৪/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪২০ - দীর্ঘ হাত মানে দানশীলতা
দীর্ঘ হাতের অর্থ দানশীলতা—সহীহ হাদিস
সহীহ বুখারী : ১৪২০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪২০
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ بَعْضَ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ ﷺ قُلْنَ لِلنَّبِيِّ ﷺ أَيُّنَا أَسْرَعُ بِكَ لُحُوقًا قَالَ «أَطْوَلُكُنَّ يَدًا». فَأَخَذُوا قَصَبَةً يَذْرَعُونَهَا، فَكَانَتْ سَوْدَةُ أَطْوَلَهُنَّ يَدًا، فَعَلِمْنَا بَعْدُ أَنَّمَا كَانَتْ طُولَ يَدِهَا الصَّدَقَةُ، وَكَانَتْ أَسْرَعَنَا لُحُوقًا بِهِ وَكَانَتْ تُحِبُّ الصَّدَقَةَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন নবী-সহধর্মিনী নবী (ﷺ)-কে বললেনঃ আমাদের মধ্য হতে সবার পূর্বে (মৃত্যুর পর) আপনার সাথে কে মিলিত হবে? তিনি বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা। তাঁরা একটি বাঁশের কাঠির মাধ্যমে হাত মেপে দেখতে লাগলেন। সওদা (রাঃ)-এর হাত সকলের হাতের চেয়ে লম্বা বলে প্রমাণিত হল। পরে [সবার আগে যায়নাব (রাঃ)-এর মৃত্যু হলে] আমরা বুঝলাম হাতের দীর্ঘতার অর্থ দানশীলতা। তিনি [যায়নাব (রাঃ)] আমাদের মধ্যে সবার আগে তাঁর (ﷺ) সাথে মিলিত হন এবং তিনি দান করতে ভালবাসতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সহধর্মিনীরা জানতে চান, তাঁদের মধ্যে কে সবার আগে তাঁর সাথে মিলিত হবেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যার হাত সবচেয়ে লম্বা। তাঁরা কথাটিকে বাহ্যিক অর্থে নিয়ে বাঁশের কাঠি দিয়ে হাত মাপতে থাকেন। সাওদা (রাঃ)-এর হাত লম্বা মনে হয়। পরে যখন যায়নাব (রাঃ) সবার আগে ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁরা বুঝতে পারেন, হাতের দীর্ঘতার অর্থ ছিল দানশীলতা। হাদিসে বলা হয়েছে, তিনি দান করতে ভালোবাসতেন। এই বর্ণনা দানের ভালোবাসা, উদার মন এবং সম্পদকে ভালো কাজে ব্যয় করার সুন্দর শিক্ষা দেয়। বাহ্যিক মাপ নয়, মানুষের ভালো কাজই আসল মর্যাদার পরিচয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দানশীলতা মানুষের সুন্দর গুণের পরিচয়।
- কথার গভীর অর্থ কখনো পরে স্পষ্ট হয়।
- সম্পদ ভালো কাজে ব্যয় করতে ভালোবাসা প্রশংসনীয়।
- বাহ্যিক বড়ত্বের চেয়ে আমলের বড়ত্ব বেশি মূল্যবান।
