২৩/৮৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৯১ - সাহায্য চাওয়ার বৈধ তিন কারণ
যে মানুষের কাছে কিছুই চায় না তার মর্যাদা
সাহায্য চাওয়ার বৈধ কারণ: তিন অবস্থার স্পষ্ট হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৫৯১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৫৯১
أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى وَهُوَ ابْنُ حَمْزَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِئَابٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا تَصْلُحُ الْمَسْأَلَةُ إِلَّا لِثَلَاثَةٍ رَجُلٍ: أَصَابَتْ مَالَهُ جَائِحَةٌ، فَيَسْأَلُ حَتَّى يُصِيبَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ، ثُمَّ يُمْسِكُ، وَرَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً، فَيَسْأَلُ حَتَّى يُؤَدِّيَ إِلَيْهِمْ حَمَالَتَهُمْ، ثُمَّ يُمْسِكُ عَنِ الْمَسْأَلَةِ، وَرَجُلٍ يَحْلِفُ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ مِنْ قَوْمِهِ مِنْ ذَوِي الْحِجَا بِاللَّهِ، لَقَدْ حَلَّتِ الْمَسْأَلَةُ لِفُلَانٍ، فَيَسْأَلُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ مَعِيشَةٍ، ثُمَّ يُمْسِكُ عَنِ الْمَسْأَلَةِ، فَمَا سِوَى ذَلِكَ سُحْتٌ»
কুবীসাহ্ ইবনু মুখারিক্ব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : তিন ব্যক্তি ছাড়া আর কারো জন্য সাহায্য কামনা করা বৈধ নয়। যার সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। সে সাহায্য চেয়ে জীবন ধারণের প্রয়োজন মিটাবে, এরপর সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত থাকবে। যে কারো পাওনা পরিশোধের যামিন হয়েছে। সে সাহায্য চেয়ে সে [পাওনা] আদায় করে দেবে, এরপর বিরত থাকবে। আর ঐ ব্যক্তি যার সম্পর্কে তার সমাজের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, অমুকের জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ হয়ে গেছে, তাহলে সে সাহায্য চেয়ে প্রয়োজন মিটাবে। এরপর সাহায্য চাওয়া থেকে বিরত থাকবে। এরা ছাড়া [অন্য কারো] যদি সাহায্য চাওয়া হারাম হবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৫৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সাহায্য চাওয়ার সীমা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তিন ব্যক্তি ছাড়া কারও জন্য সাহায্য কামনা বৈধ নয়। প্রথমত, যার সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে; সে জীবনধারণের প্রয়োজন মিটানো পর্যন্ত চাইতে পারে। দ্বিতীয়ত, যে কারও পাওনা পরিশোধের জামিন হয়েছে; সে সেই দায় পরিশোধ করা পর্যন্ত চাইতে পারে। তৃতীয়ত, যার বিষয়ে সমাজের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দেয় যে তার সাহায্য চাওয়া বৈধ হয়েছে; সে প্রয়োজন মিটানো পর্যন্ত চাইতে পারে। প্রতিটি অবস্থায় একই শিক্ষা আছে—প্রয়োজন মিটলে থামতে হবে। তাই এই হাদিস ভিক্ষার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে না, কিন্তু তা সীমাহীনও রাখে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে শরিয়তের সীমা আছে।
- সম্পদ ধ্বংস হলে প্রয়োজন মিটানো পর্যন্ত সাহায্য চাওয়া যায়।
- দায় বা জামিন পরিশোধের জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ হতে পারে।
- প্রয়োজন মিটে গেলে সাহায্য চাওয়া বন্ধ করতে হবে।
