২৪/১৬১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৯৫৬ - তাওয়াফে পোশাক ও শালীনতার শিক্ষা
মহান ও মহীয়ান আল্লাহর বাণী: "প্রত্যেক সলাতের সময় তোমাদের সুন্দর পরিচ্ছদ পরিধান করবে।” (সূরাহ্ আল আ‘রাফ ৭ : ৩১)
তাওয়াফে পোশাক ও শালীনতা: সূরা আল-আ‘রাফ ৭:৩১-এর শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৯৫৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৯৫৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ مُسْلِمًا الْبَطِينَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «كَانَتِ الْمَرْأَةُ تَطُوفُ بِالْبَيْتِ وَهِيَ عُرْيَانَةٌ تَقُولُ:[البحر الرجز]الْيَوْمَ يَبْدُو بَعْضُهُ أَوْ كُلُّهُ ... وَمَا بَدَا مِنْهُ فَلَا أُحِلُّهُقَالَ: فَنَزَلَتْ ﴾يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ﴿ [الأعراف: 31]»
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মহিলারা বিবস্ত্র অবস্থায় কা'বার তাওয়াফ করতো এবং বলতো : ('আল বাহ্' [সমুদ্র] নামক কবিতার একটি অংশ) “আজ এর সব কিংবা অংশবিশেষ খোলা থাকবে। এর যা উন্মুক্ত থাকবে তা আমি কারো জন্য 'হালাল' করছি না।"তিনি বলেন, তখন আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হলেন : “হে আদাম সন্তানগণ! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান কর।" (সূরা আল আ'রাফ ৭ : ৩১)
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৯৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি জাহিলি প্রথার কথা এসেছে: মহিলারা বিবস্ত্র অবস্থায় কাবার তাওয়াফ করত এবং একটি কবিতার অংশ বলত। এরপর বর্ণনায় বলা হয়েছে, তখন আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়: ‘হে আদম সন্তানগণ! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান কর।’ এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ইবাদতের সঙ্গে পোশাক ও শালীনতার সম্পর্ক আছে। তাওয়াফ কোনো সাধারণ হাঁটা নয়; এটি আল্লাহর ঘরের সঙ্গে যুক্ত ইবাদত। তাই বিবস্ত্র তাওয়াফের মতো আচরণকে এই বর্ণনা নাকচ করে। যারা তাওয়াফে পোশাক, বিবস্ত্র তাওয়াফ, কাবা তাওয়াফের শালীনতা বা সূরা আল-আ‘রাফ ৭:৩১ সম্পর্কে জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিস সরাসরি শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবস্ত্র অবস্থায় তাওয়াফের একটি প্রথার কথা বর্ণনায় এসেছে।
- এর পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দর পোশাক পরিধানের আয়াত নাজিলের কথা বলা হয়েছে।
- ইবাদতের সঙ্গে শালীনতা ও পোশাকের সম্পর্ক আছে।
- তাওয়াফকে শালীন ও সম্মানজনক আমল হিসেবে দেখা উচিত।
