২৪/১৬৮. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৯৬৮ - সাফা-মারওয়া বাদ দেওয়া যাবে না

সফা ও মারওয়াহ্ প্রসঙ্গে

সাফা-মারওয়া সাঈর বিধান: আয়িশা (রাঃ)-এর পরিষ্কার ব্যাখ্যা

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৯৬৮

أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ، عَنْ قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ {فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا} [البقرة: 158] فَوَاللَّهِ مَا عَلَى أَحَدٍ جُنَاحٌ أَنْ لَا يَطُوفَ بِالصَفَا وَالْمَرْوَةِ،قَالَتْ عَائِشَةُ: بِئْسَمَا قُلْتَ يَا ابْنَ أُخْتِي إِنَّ هَذِهِ الْآيَةَ لَوْ كَانَتْ كَمَا أَوَّلْتَهَا، كَانَتْ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لَا يَطَّوَّفَ بِهِمَا، وَلَكِنَّهَا نَزَلَتْ فِي الْأَنْصَارِ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمُوا، كَانُوا يُهِلُّونَ لِمَنَاةَ الطَّاغِيَةِ الَّتِي كَانُوا يَعْبُدُونَ عِنْدَ الْمُشَلَّلِ، وَكَانَ مَنْ أَهَلَّ لَهَا يَتَحَرَّجُ أَنْ يَطُوفَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، فَلَمَّا سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ؟ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، {إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ} [البقرة: 158] اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ثُمَّ قَدْ سَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، الطَّوَافَ بَيْنَهُمَا، فَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَتْرُكَ الطَّوَافَ بِهِمَا "

‘উরওয়াহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন : আমি 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا "...তাই যে কেউ কা'বাহ্ গৃহের [হজ্জ কিংবা 'উমরাহ্ করে] এ দু'টির [সফা-মারওয়াহ্ মধ্যে যাতায়াত [সা'ঈ] করাতে তার কোনো পাপ নেই..."- (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২: ১৫৮)।এ আয়াত সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম: আল্লাহর কসম! সফা ও মারওয়ায় সা'ঈ না করলে কারো অন্যায় হবে না। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন: হে ভাগ্নে! তুমি যা বললে, তা কতই না খারাপ কথা, তুমি এ আয়াতের মর্ম যা বুঝেছ, যদি তা-ই হতো তাহলে তো বলা হত এর সা'ঈ না করলে কোনো অন্যায় হবে না। এ আয়াত নাযিল হয়েছে আনসারদের ইসলাম গ্রহণের [পূর্ববর্তী অবস্থা] সম্পর্কে। [ইসলাম গ্রহণের] পূর্বে যারা 'মুশাল্লাল' [স্থান]-এর নিকট অবস্থিত 'মানাতে ত্বাগিয়াহ্' [একটি মূর্তি)-এর 'ইবাদাত করতো। তারা এখানে ইহ্রাম বাঁধত, সফা ও মারওয়ার সা'ঈ করতো না।যখন তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল, তখন মহান আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেন: (আরবি) "নিশ্চয় সফা ও মারওয়াহ্ আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন..."- (সূরা আল বাক্বারাহ্ ২: ১৫৮)।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্বতদ্বয়ের সা'ঈ করাকে শরীয়তের বিধান করেন। তাই কেউ পর্বতদ্বয়ের সা'ঈ বাদ দিতে না।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৯৬৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাফা-মারওয়ার সাঈ নিয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এসেছে। উরওয়া (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন এবং বলেন, আয়াতের ভাষা দেখে মনে হয় সাঈ না করলেও অন্যায় নেই। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এই বুঝ সঠিক নয়। যদি এমন অর্থ হতো, তাহলে আয়াতে বলা হতো সাঈ না করলে কোনো অন্যায় নেই। তিনি জানান, আয়াতটি আনসারদের আগের অবস্থার কারণে নাযিল হয়েছিল। ইসলাম গ্রহণের আগে তারা মানাতের জন্য ইহরাম বাঁধত এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ করতে সংকোচ করত। পরে তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ আয়াত নাযিল করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এ দুই পাহাড়ের সাঈকে বিধান করেন। তাই কারো জন্য তা বাদ দেওয়ার কথা নেই।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আয়াতের অর্থ বুঝতে সাহাবীদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
  • সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে এসেছে।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এ দুই পাহাড়ের সাঈকে বিধান করেছেন।
  • আয়িশা (রাঃ) পরিষ্কার করেছেন যে সাঈ বাদ দেওয়ার অনুমতি এ আয়াতে নেই।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন