২৫/৪২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩১৭৬ - খন্দকের পাথর ও ভবিষ্যৎ বিজয়ের ইঙ্গিত
তুর্কী ও হাবশীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ
খন্দকের পাথর: কিসরা, কায়সার ও হাবশার শহর দেখার বর্ণনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩১৭৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩১৭৬
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ السَّيْبَانِيِّ، عَنْ أَبِي سُكَيْنَةَ، رَجُلٍ مِنَ الْمُحَرَّرِينَ، عَنْ رَجُلٍ، مَنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَمَّا أَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَفْرِ الْخَنْدَقِ، عَرَضَتْ لَهُمْ صَخْرَةٌ حَالَتْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْحَفْرِ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَخَذَ الْمِعْوَلَ، وَوَضَعَ رِدَاءَهُ نَاحِيَةَ الْخَنْدَقِ، وَقَالَ: {تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا، لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ}، فَنَدَرَ ثُلُثُ الْحَجَرِ، وَسَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ قَائِمٌ يَنْظُرُ، فَبَرَقَ مَعَ ضَرْبَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَرْقَةٌ، ثُمَّ ضَرَبَ الثَّانِيَةَ، وَقَالَ: {تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا، لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ}، فَنَدَرَ الثُّلُثُ الْآخَرُ، فَبَرَقَتْ بَرْقَةٌ فَرَآهَا سَلْمَانُ، ثُمَّ ضَرَبَ الثَّالِثَةَ، وَقَالَ: {تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا، لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ}، فَنَدَرَ الثُّلُثُ الْبَاقِي، وَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخَذَ رِدَاءَهُ وَجَلَسَ، قَالَ سَلْمَانُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَأَيْتُكَ حِينَ ضَرَبْتَ، مَا تَضْرِبُ ضَرْبَةً إِلَّا كَانَتْ مَعَهَا بَرْقَةٌ، قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا سَلْمَانُ، رَأَيْتَ ذَلِكَ» فَقَالَ: إِي وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَإِنِّي حِينَ ضَرَبْتُ الضَّرْبَةَ الْأُولَى رُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ كِسْرَى وَمَا حَوْلَهَا وَمَدَائِنُ كَثِيرَةٌ، حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَيَّ» قَالَ لَهُ مَنْ حَضَرَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَفْتَحَهَا عَلَيْنَا وَيُغَنِّمَنَا دِيَارَهُمْ، وَيُخَرِّبَ بِأَيْدِينَا بِلَادَهُمْ، فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ، «ثُمَّ ضَرَبْتُ الضَّرْبَةَ الثَّانِيَةَ، فَرُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ قَيْصَرَ وَمَا حَوْلَهَا، حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَيَّ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَفْتَحَهَا عَلَيْنَا وَيُغَنِّمَنَا دِيَارَهُمْ، وَيُخَرِّبَ بِأَيْدِينَا بِلَادَهُمْ، فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ، «ثُمَّ ضَرَبْتُ الثَّالِثَةَ، فَرُفِعَتْ لِي مَدَائِنُ الْحَبَشَةِ وَمَا حَوْلَهَا مِنَ الْقُرَى، حَتَّى رَأَيْتُهَا بِعَيْنَيَّ»، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عِنْدَ ذَلِكَ دَعُوا الْحَبَشَةَ مَا وَدَعُوكُمْ، وَاتْرُكُوا التُّرْكَ مَا تَرَكُوكُمْ»
রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর একজন সাহাবী হতে বর্ণিতঃ
নাবী (ﷺ)-এর একজন সহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাবী (ﷺ)-এর আদেশে খন্দাক খননকালে একটি কঠিন ও বড় পাথরখণ্ড দেখা গেল। এটা খননকার্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি করল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুঠালী নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং তাঁর চাদর খন্দাকের পাশে রাখলেন।তিনি (ﷺ) বললেন: تَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا، لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ "সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে আপনার রবের বাণী সম্পূর্ণ এবং তাঁর বাক্য [সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ”- (সূরা আল আন'আম ৬ : ১১৫)।তাতে ঐ প্রস্তর খণ্ডের এক-তৃতীয়াংশ [ভেঙ্গে] পড়ে গেল। সালমান ফারসী (রাঃ) সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি দেখলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বেলচা মারার সঙ্গে সঙ্গে একটি বিদ্যুৎ চমকিত হলো। এরপর তিনি (ﷺ) দ্বিতীয়বার (সূরা আল আন'আম ৬ : ১১৫) আয়াত তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন, তাতে আর এক-তৃতীয়াংশ [ভেঙ্গে] পড়ে গেল এবং একটি বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। সালমান ফারসী (রাঃ) তাও দেখতে পেলেন। তারপর তিনি (ﷺ) তৃতীয়বার তাতে আঘাত করলেন এবং বললেন (সূরা আল আন'আম ৬: ১১৫)। এতে অবশিষ্ট তৃতীয়াংশ [ভেঙ্গে] পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে এসে তাঁর চাদরখানা নিয়ে বসে পড়লেন।সালমান ফারসী (রাঃ) বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যখন আঘাত করছিলেন, আমি লক্ষ্য করছিলাম, দেখলাম তা হতে বিদ্যুৎ চমকিত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হে সালমান! তুমি কি তা দেখেছ। সালমান (রাঃ) বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন।তিনি (ﷺ) বললেন : আমি যখন প্রথমবার আঘাত হানি, তখন [পারস্যের] কিস্সার শহর এবং এর আশপাশের স্থান এবং আরো বহু শহর আমার সামনে প্রকাশিত হয়। আমি তা আমার স্বচক্ষে দেখেছি। উপস্থিত সহাবীগণ আরয করলেন: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহ তা'আলার কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদেরকে এ সকল শহরের বিজয় দান করেন এবং তাদের বাসস্থান আমাদের জন্য গনীমাত করে দেন। আর আমাদের হাতে তাদের রাজত্বকে বিনাশ করে দেন- এজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেন।তিনি (ﷺ) বললেন: এরপর আমি দ্বিতীয়বার আঘাত হানলাম। তাতে [রোম-সম্রাট] কায়সারের শহরসমূহ এবং এর আশপাশের স্থান দেখানো হয়। আমি তা আমার স্বচক্ষে দেখেছি। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহ তা'আলার নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদের এ সকল শহরের বিজয় দান করেন আর তাদের বাড়ি ঘর আমাদের গনীমাত হিসেবে প্রদান করেন। তাদের রাজত্ব যেন আমাদের হাতে বিনাশ হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এজন্য দোয়া করলেন।তিনি (ﷺ) বললেন : এরপর আমি তৃতীয়বার আঘাত হানলাম, আমাকে হাবশার শহরসমূহ এবং এর আশেপাশের দেখানো হয়। আমি তা আমার স্বচক্ষে দেখলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : তোমরা হাবশীদের সাথে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে। আর তুর্কীদের সাথেও যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩১৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো খন্দক খননের ঘটনা এবং ভবিষ্যৎ বিজয়ের ইঙ্গিত। খন্দক খননের সময় একটি বড় পাথর বাধা হয়ে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুঠালী নিয়ে এগিয়ে যান এবং সূরা আল আনআমের ১১৫ নম্বর আয়াত পড়েন। প্রতিটি আঘাতে পাথরের এক-তৃতীয়াংশ ভাঙে এবং বিদ্যুৎ চমক দেখা যায়। সালমান ফারসি (রাঃ) বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) জানান, প্রথম আঘাতে কিসরার শহরসমূহ, দ্বিতীয় আঘাতে কায়সারের শহরসমূহ এবং তৃতীয় আঘাতে হাবশার শহরসমূহ তাঁকে দেখানো হয়েছে। সাহাবীগণ বিজয়ের জন্য দোয়া চাইলে তিনি দোয়া করেন। শেষে তিনি বলেন, হাবশীরা যতক্ষণ যুদ্ধ না করে, তাদের ছেড়ে দিতে; তুর্কীরাও যতক্ষণ ছেড়ে রাখে, তাদের ছেড়ে দিতে। হাদিসটি সাহস, দোয়া এবং সীমা মানার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন বাধার সময় নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজে এগিয়ে এসে কাজ করেছেন।
- প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে বিশেষ দৃশ্য ও বিদ্যুৎ চমকের কথা এসেছে।
- সাহাবীগণ বিজয়ের জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
- হাবশী ও তুর্কীদের ব্যাপারে যুদ্ধ না করলে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ এসেছে।
