৩/১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩৮১ - ঋতুমতী স্ত্রীর কোলে কুরআন তিলাওয়াত
ঋতুমতী স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে স্বামীর কুরআন পাঠ করা
ঋতুমতী নারীর পাশে কুরআন তিলাওয়াত: হায়েয বিষয়ে সহজ শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩৮১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩৮১
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ وَاللَّفْظُ لَهُ قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَأْسُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حِجْرِ إِحْدَانَا وَهِيَ حَائِضٌ وَهُوَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাথা আমাদের কারও কোলে স্থাপিত থাকত অথচ সে ছিল তখন ঋতুমতী। আর এ অবস্থায় তিনি (ﷺ) কোরআন পাঠ করতেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) খুব সহজ একটি ঘরোয়া ঘটনা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মাথা তাঁর কোনো স্ত্রীর কোলে থাকত, আর সেই স্ত্রী তখন ঋতুমতী ছিলেন। এ অবস্থায়ও তিনি কুরআন পাঠ করতেন। মূল শিক্ষা হলো, হায়েয অবস্থায় নারীকে ঘৃণা করা বা তার কাছ থেকে স্বাভাবিক মানবিক দূরত্ব তৈরি করা ইসলামের শিক্ষা নয়। হাদিসের ভাষা শুধু এই ঘটনাটুকুই বলে; তাই এখান থেকে অতিরিক্ত দাবি না করে আমরা বুঝি, ঋতুমতী নারীর শরীরের কারণে তার কোলে মাথা রাখা বা পাশে থাকা অপবিত্রতার মতো আচরণ নয়। ঋতুমতী নারীর বিধান, হায়েয অবস্থায় কুরআন এবং নারীর সম্মান বিষয়ে এই বর্ণনা খুব কোমল বার্তা দেয়। ঘরের ভালোবাসা, স্বাভাবিকতা এবং পরিচ্ছন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এখানে পরিষ্কার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েয অবস্থায় নারীকে অযথা দূরে সরিয়ে রাখা ঠিক নয়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঘরোয়া জীবনে স্বাভাবিক ও কোমল আচরণ করতেন।
- কুরআন পাঠের সময় ঋতুমতী স্ত্রীর কোলে মাথা রাখা এই বর্ণনায় এসেছে।
- হায়েয নারীর হাতে বা কোলে আলাদা ঘৃণার বিষয় নয়—এ ধারণা হাদিস থেকে বোঝা যায়।
