৬/২১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৩২১ - হায়েজে সালাত কাজা নেই
হায়েযকালীন সালাতের কাজা নেই।
وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبُو سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ تَدَعُ الصَّلَاةَ.জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ ও আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, (স্ত্রীলোক হায়েযকালীন সময়ে) সালাত ছেড়ে দেবে।"
হায়েজে সালাত কাজা নেই: আয়েশা (রাঃ)-এর বর্ণনায় সহজ বিধান
সহীহ বুখারী : ৩২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩২১
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، قَالَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ حَدَّثَتْنِي مُعَاذَةُ، أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ لِعَائِشَةَ أَتَجْزِي إِحْدَانَا صَلاَتَهَا إِذَا طَهُرَتْ فَقَالَتْ أَحَرُورِيَّةٌ أَنْتِ كُنَّا نَحِيضُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَلاَ يَأْمُرُنَا بِهِ. أَوْ قَالَتْ فَلاَ نَفْعَلُهُ.
মু‘আযাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈকা মহিলা ‘আয়িশা (রাঃ) কে বললেনঃ হায়েযকালীন কাযা সালাত পবিত্র হওয়ার পর আদায় করলে আমাদের জন্য চলবে কি-না? ‘আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ তুমি কি হারূরিয়্যাহ? (খারিজীদের একদল) [১] আমরা নবী (ﷺ)-এর সময়ে ঋতুবতী হতাম কিন্তু তিনি আমাদের সালাত কাযার নির্দেশ দিতেন না। অথবা তিনি [‘আয়িশা (রাঃ)] বলেনঃ আমরা তা কাযা করতাম না।
[১] খারিজীদের একটি দল যারা ঋতুবতীর জন্য সালাতের কাযা ওয়াজিব মনে করত। (আইনী, ৩খ ৩০০ পৃ.)
সহীহ বুখারী হাদিস ৩২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো হায়েজ অবস্থায় সালাতের বিধান। একজন মহিলা আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হায়েজের সময় যে সালাত পড়া হয়নি, পবিত্র হওয়ার পর তা কাজা করলে চলবে কি না। উত্তরে আয়েশা (রাঃ) খুব স্পষ্টভাবে জানান যে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সময় তারা ঋতুমতী হতেন, কিন্তু তিনি তাদের হায়েজকালীন সালাত কাজা করতে নির্দেশ দিতেন না। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, হায়েজের সময় সালাত ছেড়ে দেওয়া একটি স্বীকৃত বিধান, আর পরে সেই সালাত কাজা করার নির্দেশ এই বর্ণনায় নেই। তাই হায়েজে নামাজ কাজা, মাসিক অবস্থায় সালাত, ঋতুমতী নারীর নামাজ—এসব বিষয়ে এই হাদিস গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখায়। এখানে কঠোরতা নয়, বরং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের সহজ নির্দেশ ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ অবস্থায় নারীরা সালাত আদায় করেন না।
- এই বর্ণনা অনুযায়ী হায়েজকালীন ছুটে যাওয়া সালাত কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
- ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর জানা লোকদের কাছে জিজ্ঞেস করা উচিত।
- ইবাদতের বিধান নিজের ধারণা দিয়ে নয়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুযায়ী বুঝতে হয়।
