১/৩৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৪০ - পায়খানা-প্রস্রাবের পূর্ণ নববী আদব
গোবর দিয়ে কুলুখ করা নিষিদ্ধ
পায়খানা-প্রস্রাবের আদব: কেবলা, ডান হাত ও কুলুখের নিয়ম
সুনানে আন-নাসায়ী : ৪০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৪০
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى يَعْنِى ابْنَ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ قَالَ: أَخْبَرَنِي الْقَعْقَاعُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ أُعَلِّمُكُمْ إِذَا ذَهَبَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْخَلَاءِ، فَلَا يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلَا يَسْتَدْبِرْهَا، وَلَا يَسْتَنْجِ بِيَمِينِهِ». وَكَانَ يَأْمُرُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ، وَنَهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالرِّمَّةِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি তো তোমাদের জন্যে পিতার মতো। আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছি- তোমাদের মধ্যে কেউ যখন প্রস্রাব-পায়খানা করতে যাবে তখন সে যেন কেবলার দিকে ফিরে অথবা কেবলাকে পেছনে রেখে না বসে। আর ডান হাতে যেন পবিত্রতা অর্জন না করে। তিনি (ﷺ) তিনটি পাথর দ্বারা কুলুখ করতে হুকুম করতেন এবং গোবর ও হাড়কে ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তিনি উম্মতের জন্য পিতার মতো শিক্ষা দেন। এরপর তিনি পায়খানা-প্রস্রাবের কয়েকটি আদব একসঙ্গে বলেছেন। কেউ শৌচে গেলে কেবলার দিকে মুখ করবে না, কেবলাকে পেছনেও রাখবে না। ডান হাতে পবিত্রতা অর্জন করবে না। তিনি তিনটি পাথর দ্বারা কুলুখ করতে নির্দেশ করতেন এবং গোবর ও হাড়কে ঢিলা হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। হাদিসটি খুব সুন্দরভাবে দেখায়, ইসলাম শুধু ইবাদত নয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার নিয়মও শেখায়। নবীজি صلى الله عليه وسلم শিক্ষকের মতো নয়, পিতার মমতা নিয়ে উম্মতকে এসব আদব শিখিয়েছেন। তাই শৌচের সময় কেবলার সম্মান, হাতের ব্যবহার এবং পবিত্রতার উপকরণ—সবই খেয়াল রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি صلى الله عليه وسلم উম্মতকে পিতার মতো শিক্ষা দেওয়ার কথা বলেছেন।
- শৌচের সময় কেবলামুখী বা কেবলা পেছনে রেখে বসা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- ডান হাতে পবিত্রতা অর্জন করতে নিষেধ করা হয়েছে।
- তিন পাথর দিয়ে কুলুখের নির্দেশ এবং হাড়-গোবর ব্যবহার নিষেধ এসেছে।
