৯/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৭৪৪ - সাওয়ারিতে বিতর, ফরজ সালাত নয়
যে অবস্থায় ক্বিবলাহ্ ছাড়া অন্য দিকে মুখ করা জায়িয
সাওয়ারির ওপর বিতর নামাজ: ফরজ সালাতের স্পষ্ট পার্থক্য
সুনানে আন-নাসায়ী : ৭৪৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৭৪৪
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عَلَى الرَّاحِلَةِ قِبَلَ أَيِّ وَجْهٍ تَوَجَّهُ بِهِ وَيُوتِرُ عَلَيْهَا غَيْرَ أَنَّهُ لَا يُصَلِّي عَلَيْهَا الْمَكْتُوبَةَ»
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সওয়ারী তাঁকে নিয়ে যে দিক মুখ করতো সে দিকে ফিরেই তিনি সালাত আদায় করতেন। সওয়ারীর উপর তিনি বিতর সালাতও আদায় করতেন কিন্তু তিনি এর উপর ফরজ সালাত আদায় করতেন না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৭৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাওয়ারি তাঁকে যেদিকে নিয়ে যেত, তিনি সেদিকে মুখ করেই সালাত আদায় করতেন। একই সাওয়ারির ওপর তিনি বিতর সালাতও পড়তেন। তবে বর্ণনায় পরিষ্কারভাবে যোগ করা হয়েছে যে তিনি সাওয়ারির ওপর ফরজ সালাত আদায় করতেন না। তাই এই হাদিসের মূল বিষয় শুধু বাহনের ওপর নামাজ নয়; বরং সাওয়ারিতে সালাত ও ফরজ সালাতের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য। সহজভাবে বুঝলে, সফরে চলমান বাহনের ওপর কিছু সালাত ও বিতর আদায়ের বর্ণনা আছে, কিন্তু ফরজ সালাতকে একইভাবে দেখানো হয়নি। হাদিসের ভাষা যতটুকু বলেছে, এখানেও ততটুকুই বলা হচ্ছে। অতিরিক্ত শর্ত, ব্যতিক্রম বা অন্য পরিস্থিতির বিধান এই পাঠে নেই। ফলে মূল কীওয়ার্ড হলো সাওয়ারির ওপর বিতর, সফরের নামাজ এবং ফরজ সালাত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাওয়ারি যেদিকে যেত সেদিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন।
- সাওয়ারির ওপর বিতর সালাত আদায়ের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে।
- এই বর্ণনায় সাওয়ারির ওপর ফরজ সালাত আদায় না করার কথা বলা হয়েছে।
