১১/৬৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯৮৪ - ইমামের কিরাআতে সহজতা
মাগরিবে "সাব্বিহিস্স্সা রব্বিকাল আ‘লা-” পড়া
ইমামের দীর্ঘ কিরাআত ও মুসল্লিদের কষ্ট দেওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৯৮৪
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯৮৪
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَارِبِ بْنُ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: مَرَّ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ بِنَاضِحَيْنِ عَلَى مُعَاذٍ وَهُوَ يُصَلِّي الْمَغْرِبَ، فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَصَلَّى الرَّجُلُ، ثُمَّ ذَهَبَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَفَتَّانٌ يَا مُعَاذٍ؟ أَفَتَّانٌ يَا مُعَاذُ؟ أَلَّا قَرَأْتَ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى، وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَنَحْوِهِمَا»
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তি দু’টি উট নিয়ে মু‘আয (রাঃ)-এর নিকট গেলেন। তখন তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করছিলেন। তিনি সূরা বাকারা শুরু করলেন। ঐ ব্যক্তি (পৃথকভাবে) সালাত আদায় করে চলে গেল। এ কথা নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, হে মু‘আয! তুমি কি (লোকদের) ফিতনা ও কষ্টে ফেলতে চাও? হে মু‘আয! তুমি কি (লোকদের) ফিতনা ও কষ্টে ফেলতে চাও? তুমি কেন “সাব্বিহিস্মা রব্বিকাল আ‘লা-” (৮৭. সূরা আল আ‘লা-) অথবা “ওয়াশশাম্সি ওয়াযুহা-হা-” (৯১. সূরা আশ-শামস) অথবা এ জাতীয় সূরা পাঠ করলে না?
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো জামাতে ইমামতির সময় মুসল্লিদের কষ্টের কথা বিবেচনা করা। একজন আনসারী ব্যক্তি দুটি উট নিয়ে মু‘আয (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছেছিলেন। মু‘আয (রাঃ) তখন মাগরিবের সালাত পড়াচ্ছিলেন এবং সূরা আল-বাকারা শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ কিরাআতের কারণে লোকটি আলাদাভাবে সালাত আদায় করে চলে যায়। ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি মু‘আয (রাঃ)-কে দুবার প্রশ্ন করেন, তিনি কি মানুষকে ফিতনা ও কষ্টে ফেলতে চান। এরপর নবীজি সূরা আল-আ‘লা, সূরা আশ-শামস অথবা এগুলোর মতো সূরা পড়ার কথা বলেন। হাদিসটি দেখায়, ইমামের ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘ কিরাআতের সামর্থ্য থাকলেও জামাতের মানুষের অবস্থা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে মাগরিবের জামাতে এমন কিরাআত বেছে নেওয়া দরকার, যাতে মুসল্লিদের জন্য অযথা কষ্ট তৈরি না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামকে জামাতের মুসল্লিদের অবস্থা ও সামর্থ্য বিবেচনা করতে হবে।
- অতিরিক্ত দীর্ঘ কিরাআতের কারণে মানুষকে কষ্টে ফেলা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- মাগরিবে সূরা আল-আ‘লা বা সূরা আশ-শামসের মতো সূরা পাঠের নির্দেশনা পাওয়া যায়।
- জামাত পরিচালনায় সহজতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
